Monday, July 27, 2020

"শেরে খোদা হযরত মওলা আলী (আঃ) - রাজত্বকাল: ৬৫৬–৬৬১ [১]'' " Hazrat Imam Ali (As) - Reign: 656–661[1]"

শেরে খোদা হযরত মওলা আলী (আঃ)
রাজত্বকাল ৬৫৬–৬৬১[১]

Sher-e-Khoda Hazrat Mo
ula Ali (AS) - Reign: 656–661[1]

পূর্ণ নাম আলী ইবনে আবু তালিব
উপাধি হাসানের পিতা (আরবি: আবু আল-হাসান)
ধূলিকণা/মাটির পিতা (আরবি: আবু তুরাব)
Murtadha ("একজন যিনি নির্বাচিত এবং সন্তুষ্ট")
আল্লাহর সিংহ (আরবি: আসাদ-ullah)
সিংহ (আরবি: হায়দার)[১]
প্রথম আলী
জন্ম অক্টোবর ২৩, ৫৯৮,[২]মার্চ ১৭, ৫৯৯ or মার্চ ১৭, ৬০০[১]
Mecca[১]কা'বা ঘরে জন্মগ্রহনকারী বিশ্বের একমাত্র মহাপুরুষ হযরত মওলা আলী (কর.)

মৃত্যু জানুয়ারি ২৮, ৬৬১ (৬২ বছর)
Kufa[১]

Buried Imam Ali Mosque, Najaf, Iraq

পূর্বসূরী Uthman Ibn Affan (as Sunni Islam Caliph); Muhammad (as Shi'a Imam)

উত্তরসূরী হাসান[৩]

Wives ফাতিমা[১]
Fatima bint Hizam al-Qilabiyya ("Ummu l-Banin")
Offspring হাসান
Husayn
Zaynab
(See:[[Descendants of Ali ibn Abd Munāf]])

পিতা Abd Munāf ibn ‘Abd al-Muttalib

মাতা Fatima bint Asad
হযরত আল (রাঃ) এর শানে আল কোরআনের বাণী

সুরা মায়েদা,আয়াত# ৩
“আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পরিপুর্ন করিয়া দিলাম। তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সম্পন্ন করিলাম।আর তোমাদের জন্য ইসলামকে পরিপুর্ন দ্বীন হিসাবে মনোনীত করিলাম।“
গাদীরে খুমে যখন রাসুল(সাঃ) হযরত আলীকে খেলাফত ও ইমামতের উপর সরাসরি নিজের স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করিলেন তখন এই আয়াত পাক নাজিল হইলো।আল্লাহর রাসুল(সাঃ) ফরমাইলেনঃখোদা পাক অতি মহান এবং প্রশংসার যোগ্য যিনি দ্বীনকে পরিপুর্ন করিলেন,নিজের অবদানকে সপুর্ন করিলেন।আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি হইলো আমার রেসালাতের উপর ও আমার পর আলীর বেলায়েতের উপর।(তাফসীরে ইবনে কাসীর,২য় খন্ড,পৃঃ১৪; দুররুল মানসুর,২য় খন্ড,পৃঃ২৫৯;আল-বিদায়া ওয়ান নেহায়া,৫ম খন্ড,পৃঃ২১০;রুহুল মায়ানি,২য় খন্ড,পৃঃ২৪৯;আল-গাদীর,১ম খন্ড,পৃঃ২৩০;আল-মুরাজেয়াত,পৃঃ৫৭;শাওয়াহেদুত তানজিল,১ম খন্ড,পৃঃ১৫৬)।

সুরা নিসা,আয়াত# ৫৪
“তাহারা কি মানুষের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে সেটারই উপর যাহা আল্লাহ পাক তাহাদেরকে নিজ অনুগ্রহ থেকে দান করিয়াছেন।সুতরাং আমি তো ইব্রাহিমের বংশধরগনকে কিতাব ও হেকমাত দান করিয়াছি।“
আয়াশী বিভিন্ন রেওয়ায়েতে ইমামগন হইতে বর্ননা করিয়াছেন যে, তাঁহারা বলিয়াছেন,যাহাদের সংগে বিদ্বেষ পোষন করা হইয়াছে এই আয়াতে তাহারা হইলেন আমরাই।আল্লাহতায়ালা নিজের মেহেরবানীতে আমাদের ইমামতি দান করিয়াছেন।হযরত ইমাম বাকের(আ হইতে বর্নিত হইয়াছে যে,ইহা দ্বারা আল্লাহতায়ালার উদ্দেশ্য এই যে, তিনি ইবারহিমের বংশধর হইতে নবীগন,রাসুলগন এবং ইমামগন(১২ ইমাম) সৃষ্টি করিয়াছেন।তাহাদের ব্যাপারে সকলের নিকট হইতে শপথ গ্রহন করাইয়াছে।তিনি বলিয়াছেন যে,হযরত মুহাম্মদের বংশধরকে যেন কেহ অস্বীকার না করে।আর বিশাল সাম্রাজ্য দ্বারা ইমামত বুঝানো হইয়াছে।ইমামের আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্য।আর ইমামের আদেশ অমান্য আল্লহর আদেশ অমান্যের সমতুল্য।(সুত্রঃ তাফসীরে কুমী,১ম খন্ড,পৃঃ১০;ইয়ানাবিউল মাওয়াদ্দাহ, পৃঃ১২১;কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন, ২য় খন্ড,পৃঃ২০৪;মাজমাউল বায়ান,৩য় খন্ড,পৃঃ৬১;মুরাজেয়াত,পৃঃ৫৯; শাওয়াহেদুত তানজিল,১ম খন্ড,পৃঃ১৪৩;মানাকেবে ইবনে মাগাজেলী,পৃঃ২৬৭;সাওয়েকে মুহরেকা,পৃঃ১৫০)।
সুরা নিসা,আয়াত# ৮৩
“যদি তাহারা উহা রাসুল কিংবা তাহাদের মধ্যে যাহারা ক্ষমতার অধিকারী তাহাদের গোচরে আনিত,তবে তাহাদের মধ্যে যাহারা তথ্য অনুসন্দ্বান করে তাহারা উহার যথার্থতা নির্নয় করিতে পারিত।“
হযরত ইমাম বাকের(আঃ) ফরমাইয়াছেন যে,যাহারা বাস্তবতা জানেন আর যাহারা ক্ষমতাসম্পন্ন তাহারা হইলেন হযরত মুহাম্মাদের(সাঃ) বংশধর।
আয়াশী হযরত ইমাম রেজা(আঃ) হইতে বর্ননা করিয়াছেন যে, ইহা দ্বারা হযরত নবী করিমের(সাঃ) বংশধরকে বুঝানো হইয়াছে। কারন তাহারা হইলেন ঐ সব ব্যক্তি যাঁহারা কোরানের বাস্তব তথ্য ব্যাখ্যা করিয়া থাকেন।তাঁহারাই হালাল ও হারামের উপর অবগত হইয়াছেন।আর তাহারাই সৃষ্টির উপর আল্লাহতায়ালার হুজ্জাত বা অকাট্য প্রমানস্বরুপ।(সুত্রঃ তাফসীরে কুমী,১ম খন্ড,পৃঃ১৪৫;রাওয়ানে যাভেদ,২য় খন্ড,পৃঃ৯২;বয়ানুস সায়াদাহ,২য় খন্ড,পৃঃ৪০)।

সুরা মায়েদা,আয়াত# ৫৫
“তোমাদের বন্দ্বু তো আল্লাহ,তাঁহার রাসুল ও মু’মিনগন-যাহারা সালাত কায়েম করে ও রুকুর অবস্থায় যাকাত দেয়”।
হযরত আবু যর গিফারী(রাঃ) এইভাবে বর্ননা করিয়াছেনঃএকদিন আমি রাসুলের(সাঃ) সঙ্গে মসজিদে যোহরের সালাত আদায় করিলাম।একজন ভিক্ষুক মসজিদে আসিয়া ভিক্ষা চাহিল।কেহ তাহাকে কিছুই দিল না।ঐ ভিক্ষুক তাহার ২ হাত আকাশের দিকে উত্তোলন করিয়া বলিলঃহে ল্লাহ!আমি তোমার পয়গাম্বরের মসজিদে আসিয়া ভিক্ষা চাহিলাম,কিন্তু কেহ আমাকে কিছুই দিল না।এই সময় আলী(আঃ)সালাতে রুকুর অবস্থায় ছিলেন।তিনি নিজের আঙ্গুলের ইশারায় ভিক্ষুককে ইঙ্গিত করিলেন।হযরত আলী(আঃ)এর ডান হাতের আঙ্গুলে আংটি ছিল।ভিক্ষুকটি অগ্রসর হইয়া হযরত আলীর(আঃ) আঙ্গুলের আংটি খুলিয়া নিল।আল্লাহর রাসুল(সাঃ) এই ঘটনা দেখিয়া নিজের মাথা আকাশের দিকে ঘুরাইয়া বলিলেনঃহে আল্লাহ! হযরত মুসা(আঃ) আপনার প্রার্থনা করিয়াছিলেন যে,হে আল্লাহ আমার বক্ষ প্রসারিত করিয়া দাও আর আর আমার জাক আমার জন্য সহজ করিয়া দাও এবং আমার জিহবার জড়তা দূর করিয়া দাও যাহাতে লোকেরা আমার কথা বুঝিতে পারে।আর আমার বংশ হতে আমার ভাই হযরত হারুনকে(আঃ) সাহায্যকারী করিয়া দাও,যেন সে আমার শক্তিকে দৃঢ় করে।আমার কাজে আমার সঙ্গী করিয়া দাও।
আল্লাহতায়ালা হযরত মুসাকে(আঃ) বলিলেন,আমি তোমার ভাই দ্বারা তোমার শক্তি তোমার শক্তিকে দৃঢ় করিয়া দিলাম।তোমাকে রাজত্ব দান করিলাম।হে আল্লাহতায়ালা!আমি মুহাম্মাদ তোমার প্রিয় রাসুল।হে আল্লাহ আমার বক্ষকে প্রসারিত করুন,আমার কাজ সহজ করুন এবং আমার বংশধরকে আমার সাহায্যকারী নিযুক্ত করুন।আমার পৃষ্টকে আলী দ্বারা শক্তিশালী করুন।হযরত আবুযর গিফারী বলিলেন যে,আল্লাহর রাসুলের(সাঃ) কথা তখনো শেষ হয় নাই ,এমতাবস্থায় হযরত জিব্রাঈল(আঃ) এই আয়াতে পাক নিয়ে হুজুর (সাঃ)এর নিকট উপস্থিত হইলেন।(সুত্রঃ তাফসীরে ইবনে কাসীর,২য় খন্ড,পৃঃ৭১;তাফসীরে ত্বাবারী,৬ষ্ট খন্ড,পৃঃ১৬৫;তাফসীরে রাজী,৩য় খন্ড,পৃঃ৪৩১;তাফসীরে খাজিন,১ম খন্ড,পৃঃ৪৯৬;তাফসীরেআবুল বারাকাত,১ম খন্ড,পৃঃ ৪৯৬;তাফসীরে নিশাপুরী,৩য় খন্ড,পৃঃ৪৬১; আল-বিদায়া ওয়ান নেহায়া,৭ম খন্ড,পৃঃ৩৫৭;রুহুল মায়ানি,২য় খন্ড,পৃঃ৩২৯;আল-গাদীর,৩য় খন্ড,পৃঃ১৫৬ ও ১৬২;আল-মুরাজেয়াত,পৃঃ৫৭;শাওয়াহেদুত তানজিল,১ম খন্ড,পৃঃ১৬১ ।

সুরা মায়েদা,আয়াত# ৬৭
“হে রাসুল!পৌছাইয়া দিন যাহা কিছু আপনার প্রতি অবতীর্ন হইয়াছে আপনার প্রতি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ হইতে।যদি এমন না হয় তবে আপনি তাহার কোন সংবাদই পৌছাইলেন না।আর আল্লাহতায়ালা আপনাকে রক্ষা করিবেন মানুষের অনিষ্ট হইতে”।
সমস্ত মোফাসসের এবং ঐতিহাসিকগন একমত যে,এই আয়াত গাদীরে খুম নামক স্থানে হযরত আলী(আঃ)এর শানে নাজিল হইয়াছে।রাসুল(সাঃ) উটের পালান দ্বারা একটি মিম্বর বানানোর জন্য আদেশ দিলেন এবং সেই মিম্বরের উপর দাড়াইয়া রাসুল(সাঃ) ফরমাইলেন যে,আমি যাহার নেতা ,এই আলীও তাহার নেতা।(সুত্রঃআল-গাদীর,১ম খন্ড,পৃঃ২১৪ ও ২২৯;জাযবায়ে বেলায়েত,পৃঃ১৩৮;মুরাজেয়াত,পৃঃ৫৭;আসবাবুল নযুল,পৃঃ১৩৫;শাওয়াহেদুত তাঞ্জিল,১ম খন্ড,পৃঃ১৮৭)।
২৩ বছরের কুরান লেখক হযরত আলী(আঃ) শানে রাসুলের(সাঃ) কয়েকটি হাদীছ
০৩ রা নভেম্বর, ২০১০ ভোর ৫:৫৪
১।
রাসুলের(সাঃ) হারুনঃ
‘হে আলী! তুমি আমার কাছে সেরুপ যেরুপ ছিল হারুন,মুসার কাছে।কেবল আমার পরে কোন নবী আসবে না’।(সুত্রঃছহি বুখারিঃ৬/৩,মুঃ১৩১৪ তাবুকের যুধ্ব অধ্যায়,সহি মুসলিম ৭/১২০ আলীর ফাজাইল অধ্যায়,সুনানে ইবনে মাজা ১/৫৫, ফাযায়েলে আসহাবে নবী অধ্যায়ে,মুসনাদ ইবনে আহমদ ১/১৭৩,১৭৫, ১৭৭, ১৭৯, ১৮২,১৮৫ এবং ২৩০)।
২।
রাসুলের(সাঃ) স্থলাভিষিক্তঃ
জেনে রেখো যে,আলী তোমাদের মাঝে আমার ভাই,উত্তরসুরী এবং স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে।(সুত্রঃতারীখে তাবারী,২/২১৭,আল কামিল ফিল তারীখ ২/৬৪,মাআলিমুত তানযিল ৪/২৭৮)।
৩।
জ্ঞানের নগরীর দরওয়াযাঃ
‘আমি সমস্ত জ্ঞানের নগরী আর আলী তার দ্বার।কাজেই যে এই নগরীতে প্রবেশ করবে তাকে দ্বার দিয়েই আসতে হবে ’।(সুত্রঃ তারীখে বাগদাদ১১/৪৯-৫০,আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া ৭/৩৭২,আল-মুস্তাদরাকে হাকেম ৩/১২৬-১২৭,জামেউল উসুল ৯:৪৭৩/৬৪৮৯,আল জামেউস সাগীর ১:৪১৫/২৭০৫)।
৪।
সর্বপ্রথম নামাযীঃ
‘সরবপ্রথম যে আমার সাথে সালাত আদায় করেছে সে হলো আলী’।(সুত্রঃকানযুল উম্মাল, ১১:৬১৬/৩২৯৯২,আলে ফেরদৌস ১:২৭/৩৯)।
৫।
কেয়ামতের দিন বিজয়ীঃ
যেমন এরশাদ হচ্ছে, “অবশ্যই যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তারাই সৃষ্টির সেরা”(সুরা আল-বায়িনাহঃ৭)।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাঃ) বলেছেন,যখন উক্ত আয়াত নাজিল হলো তখন রাসুল(সাঃ)হযরত আলী(আঃ)কে উদ্দেশ্য করে বললেন,”এই আয়াতের সাক্ষ্য প্রমান আলী তুমি এবং তোমার শিয়ারা(অনুসারীরা),তোমরা কিয়ামতের দিন আসবে তোমাদের ব্যাপারে রাজি হবেন এবং তোমরা আল্লাহর উপর রাজি হবে এবং তোমাদের শত্রুর কালো মুখ ও বিশ্রী চেহারা নিয়ে আসবে”।(সুত্রঃতাফসীরে দুররে মনসুর,খঃ৬,পৃঃ৩৭৯;আরজাহুল মাতালেব,পৃঃ১২২,৮৭৭(উরদু);নুরুল আবসার,পৃঃ৭৮,১১২;ফুসুলুল মোহিম্মা, পৃঃ১২৩;শাওয়াহেদুত তানজিল,খঃ২।
পৃঃ৩৫৬;মুসনাদে হাম্বাল,খঃ৫,পৃঃ২৮তারিখে বাগদাদ,খঃ১২,পৃঃ২৮৯;ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত,পৃঃ৬২, আল ফেরদৌস ৩:৬১/৪১৭২)।
৬।
অন্তরসমুহের কা’বা স্বরুপঃ
রাসুল(সাঃ) ইমাম আলী (আঃ) কে বলেনঃ ‘তুমি কা’বার ন্যায়।সবাই তোমার কাছে আসে কিন্তু তুমি কারো কাছে যাও না।(সুত্রঃউসুদুল গবাহ ৩১৪৬)।
৭।
রাসুলের(সাঃ) উত্তরসুরী
রাসুল(সাঃ) হযরত আলীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ ‘ এ হলো আমার ভাই,আর আমার পরে আমার ওয়াসী এবং খলিফা।তার নিরদেশের প্রতি করনপাত করো এবং তার আনুগত্য করো।(সুত্রঃতারীখে তাবারী ২:৩৩১,মাআলিমুত তানযিল ৪:২৭৯,কানযুল উম্মাল ১৩:১৩১)।
৮।
হেদায়াতের পতাকা
রাসুল(সাঃ) বলেন, ‘বিশ্ব প্রতিপালক আলীর ব্যাপারে আমার সাথে কঠিনভাবে অঙ্গীকারাবদ্ব হয়েছেন। অতঃপর আমাকে বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আলী হলো হেদায়াতের পতাকা, ঈমানের শীষ্র চূড়া,আমার বন্ধুগনের নেতা আর আমার আনুগত্যকারী সকলের জ্যোতিস্বরুপ।(সুত্রঃহিল্লিয়াতুল আউলিয়া ১:৬৬,শারহে নাহজুল বালাগাহ-ইবনে আবীল হাদীদ ৯:১৬৮)।
৯।
সর্বপ্রথম মুসলমান
রাসুল(সাঃ) বলেছেনঃ ‘তোমাদের মধ্যে সবার আগে হাউজে কাউসারে প্রবেশ করবে সেই ব্যাক্তি যে সবার আগে ইসলাম গ্রহন করেছে।আর সে হলো আলী ইবনে আবি তালিব।(সুত্রঃআল-মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩৬,আল ইস্তিয়াব ৩:২৭,২৮;উসুদুল গাবাহ ৪:১৮;তারীখে বাগদাদ ২:৮১)।
১০।
নবীকুলের সারনির্সায
রাসুল(সাঃ) বলেনঃ ‘যে ব্যাক্তি আদমকে তার জ্ঞানে,নুহকে তার ধীশক্তিতে, ইব্রাহীমকে তার দুরদরশিতায়, ইয়াহিয়াকে তার সংযমশীলতায় আর মুসা ইবনে ইমরানকে তার সাহসিকতায় দেখতে চায় সে যেন আলী ইবনে আবি তালিবের প্রতি লক্ষ্য করে। (ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব-ইবনে আসাকির ২:২৮০/৮১১,আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭:৩৬৯)।

হযরত্ আলী (আঃ) এর বাণী ---
“জ্ঞানের জন্য যথেষ্ট সম্মানজনক একটি বিষয় হলো, যারা তেমন একটা জ্ঞানার্জন করেননি, তারাও তা দাবী করেন এবং তাদেরকে যখন জ্ঞানী বলে সম্বোধন করা হয়, তারা আনন্দিত হন। অন্যদিকে অজ্ঞতার জন্য এটাই যথেষ্ট লজ্জাজনক যে, একজন অজ্ঞ লোকও তাকে অজ্ঞ বলে সম্বোধন করাকে ঘৃণা করে।”
— আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ)
[ইমাম সা'ঈদ বিন আল-মুসাইয়াব (বায়োগ্রাফি) - সালাহউদ্দিন ইবন আলি ইবনে আবদুল মাওজুদ, দারুসসালাম পাবলিশার্স, পৃষ্ঠা - ৪৪]

“কারো অধঃপতনে আনন্দ প্রকাশ করো না, কেননা ভবিষ্যত তোমার জন্য কী প্রস্তুত করে রেখেছে সে সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞানই নেই।”
– হযরত আলী (আঃ)

“হে লেখক! তুমি যা লিখছ তার সবই একজন ফেরেশতা নজরদারী করছেন।তোমার লেখালেখিকে অর্থপূর্ণ করো কেননা অবশেষে একদিন সব লেখাই তোমার কাছে ফেরত আসবে এবং তুমি যা লিখেছ তার জন্য তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
– হযরত আলী (আঃ)

“ফুলের মতন হও, যে তাকে দলিত করে তাকেও সে সুগন্ধ বিলায়।”
— আলী (আঃ)

“জ্ঞানের মত সম্পদ আর নেই, অজ্ঞতার মতন দারিদ্র আর নেই।”
— আলী (আঃ)

“সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান যিনি পরম করুণাময় আল্লাহর দয়ার ব্যাপারে আশা ও আত্মবিশ্বাস না হারানোর জন্য মানুষকে উপদেশ দেন।”
– হযরত আলী (আঃ)

“অতিরিক্ত সমালোচনা করবেন না। অতিরিক্ত সমালোচনা ঘৃণা এবং খারাপ চরিত্রের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।”
🌻হযরত আলী (আঃ)
[আর-রাওদাহ, পৃ ১৮২]

“যেসব পাপকাজ তোমরা গোপনে করে থাকো সেগুলোকে ভয় করো, কেননা সেসব পাপের সাক্ষী বিচারক স্বয়ং নিজেই।”
🌻হযরত আলী (আঃ)
[রাবি আল-আবরার, ২/২৫৬]

“হৃদয় থাকা সকল মানুষের বোধ থাকে না, কান থাকা সকল মানুষই শুনতে পায় না, চোখ থাকা সকল মানুষই দেখতে পায় না।”
🌻আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ)

“রেগে যাবার সময়ের এক মূহুর্তের ধৈর্য রক্ষা করে পরবর্তী সময়ের হাজার মূহুর্তের অনুশোচনা থেকে।”
🌻 হযরত আলী (আঃ)

“সবচেয়ে সুখী ব্যক্তিই সেই যাকে আল্লাহ তা’আলা একজন পূণ্যবতী স্ত্রী দান করেছেন।”
🌻আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ)

“কল্যাণপ্রাপ্ত তো সেই ব্যক্তি যার নিজের পাপসমূহ তাকে অন্যদের পাপের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ থেকে বিরত রাখে।”
🌻হযরত আলী (আঃ)

“যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করতে পারবে, সে কখনো সফলতা থেকে বঞ্চিত হবেনা।
হয়তবা সফল হবার জন্য তার একটু বেশি সময় লাগতে পারে।”
🌻আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ)

“আপনার দ্বারা নেক কাজ সাধিত হলে আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করুন, এবং যখন অসফল হবেন তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।”
🌻আলী ইবন আবু তালীব (আঃ)

“আপনার গর্বকে ছুঁড়ে ফেলুন, দাম্ভিকতাকে দমিয়ে দিন আর আপনার কবরকে স্মরণ করুন”
🌻আলী ইবনে আবি তালিব (আঃ)

হযরত মওলা আলী (কর.) উপদেশাবলী ! --৪

১. জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা যত বাড়বে , বক্তব্য তত কমবে ।

২. মানুষের প্রতিটি নি:শ্বাস মৃত্যুর পদক্ষেপ মাত্র ।

৩. আমি তোমাদেরকে পাচটি বিষয় বলে দিচ্ছি, যদি তোমরা উটে চড়ে দ্রুত তা খুজে নাও তবে এর সুফল পাবে :

-আল্লাহ ছাড়া আর কিছুতে আশা স্হাপন না করা
- নিজের পাপ ছাড়া আর কোন কিছুকে ভয় না করা
- যা নিজে জানো না সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে 'আমি জানি না' বলতে লজ্জাবোধ না করা
- যা নিজে জানো না তা অন্যের কাছ থেকে শিক্ষা করতে লজ্জা না করা
- এবং ধৈর্য্য ধারণ করতে অভ্যাস করা , কারণ দেহের জন্য মাথা যেরূপ ঈমানের জন্য ধৈর্য্য তদ্রুপ ।

৪. আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পাবার দুটি উপায় ছিল- একটি তুলে নেয়া হয়েছে অপরটি তোমাদের সম্মুখে রয়েছে । সুতরাং যেটা তোমাদের সম্মুখে রয়েছে তা তোমাদের মানতে হবে । রক্ষা পাবার যে উপায়টি তুলে নেয়া হয়েছে তা হলো আল্লাহর রাসূল (সা.) এবং যেটি এখনো আছে তা হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা ।

৫. ইসলামের যথার্থ ফেকাহবিদ সে যে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না, আল্লাহর দয়ার প্রতি হতাশ করে না এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ বলে মনে করিয়ে দেয় না ।

৬. হীনতম জ্ঞান জিহ্বায় থাকে এবং উচ্চমানের জ্ঞান কর্মের মাঝে প্রকাশ পায় ।

সূত্র: নাহজ আল-বালাঘা, হযরত মওলা আলী (আঃ)

Saturday, July 25, 2020

"No Religion Has Mandated Killing Others as a Requirement For its Sustenance or Promotion." —A. P. J. Abdul Kalam

#AmritSaying

"আদম: একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ" —লেখক : আল্লামা ছুফী ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মা.) পীর ছাহেব, রাহে ভাণ্ডার সিলসিলা।


>>> আদম: একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ <<<

লেখক : আল্লামা ছুফি ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মা.), পীর ছাহেব, রাহে ভাণ্ডার সিলসিলা। চট্টগ্রাম দরবার শরীফ, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।

পবিত্র হাদিছ শরীফে বর্ণিত আছে, ‘আল্লাহতায়ালা তাঁর (আল্লাহর) নিজ অবয়বে আদম (আ.) তথা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।’ আল্লাহ তায়ালার কোন নকশা বা ছুরত নেই। এই শিক্ষায় শিক্ষিত আদম সন্তান আমরা। তাই আল্লাহ সম্পর্কে পরিচিত হওয়ার কোন প্রকার অনুভূতি পরিলক্ষিত হয় না। আল্লাহর এই সুমহান বিশাল অস্তিত্বের প্রমাণ করা আমাদের সাধারণ জ্ঞানের আওতা বহির্ভূত। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে চিন্তা করলে বুঝা যায়, আল্লাহ তায়ালা তথা স্রষ্টা নিজ ছুরত বা অবয়বে আদমকে সৃষ্টি করেছেন। নবীর (দ.) এই মহান বাণী অনুসরণ করতে আমাদের উচিত অসীম জ্ঞানের অধিকারী নবী মোহাম্মদুর রাসূলাল্লাহ (দ.) প্রদেয় ঐশী জ্ঞানে নায়েবে নবী তথা অলীআল্লাহগণের সংশ্রবে গিয়ে উক্ত জ্ঞান আহরণ করা অর্থাৎ পীর বা মুর্শিদের উছিলা তালাশ করা এবং ঐ জ্ঞানের আলোকে আগমন হয়ে মুক্তির সন্ধান করা। প্রসঙ্গত বলা যায়, আমি মানুষ আল্লাহরই সৃষ্টি। তিনি (আল্লাহ) আমার স্রষ্টা। তিনি নিজেই পবিত্র কোরআন শরীফে বলেছেন, ‘আমি তোমাদের গ্রীবাস্থীয় রগের চেয়েও নিকটে।

আল্লাহ যদি আমার এতই নিকটে, তাহলে তাঁকে আমি দেখলাম না চিনলাম না কেন? তাহলে স্পষ্টতই বুঝা যায় যে, কোরআন হাদিছ, ফেকাহ, বিজ্ঞান এত কিছু পড়ে শুনে এবং দেখেও আল্লাহর পরিচয় লাভ করার মত জ্ঞান নেই। সুতরাং আমার উচিৎ ঐ ব্যক্তির নিকট আত্মসমর্পণ করে তাঁর (মুর্শিদের) অনুসরণ, অনুকরণ, আদেশ নিষেধ মেনে চলা তথা মুর্শিদের এত্ত্বেবা করা। যিনি আল্লাহর সাথে বিশেষভাবে পরিচিত, যার কাছে আল্লাহর পরিচয়ও গোপন কিছু নয়।

এখানে উল্লেখ থাকে যে, বর্তমান যুগে মুর্শিদ নামের বেশভূষা দেখে অনেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমনও অনেক ব্যক্তি আছেন তারা আরবি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কিছু দোয়া তছবিহ শিখে এই শিক্ষাকে নিজের মতলবে ব্যবহার করে পীরগিরী ব্যবসা করছেন। উম্মতে মোহাম্মদী (দ.)’র প্রতি আমার পরামর্শ প্রথমে পীরকে পরীক্ষা করুন তারপর আপনার মনঃপুত হলেই তার এত্ত্বেবা করুন।

আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আসল এবং নকল পীরের মধ্যে পার্থক্য কি? জবাবে উদাহরণ দিলাম। পীর সাহেব আপনাকে বললেন, ‘হে বৎস! তুমি পাঞ্জেগানা নামাজ পড়।’ কিন্তু আমি বলি, পীরের আদেশ মত তা করতে যাবেন না। কারণ নামাজ পীরের দেয়া ফরজ নয়। নামাজ আল্লাহরই ফরজ। প্রত্যেক মুসলমান, আকেল এবং বালেগ নর–নারীর উপর ফরজ। আপনি তা পালন অবশ্যই করবেন। আল্লাহর ফরজ হিসেবে, পীরের ফরজ হিসাবে নয়। নামাজের পর তছবিহ করতে বললে তা পালন করার যুক্তিই আমি দেখিনা। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, পীর সাহেব বললেন, ‘তুমি ফজরের নামাজের পর ১১১ (একশ এগার) বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু জপনা করিও।’ উক্ত তছবিহ জপনার জন্য পীরের প্রয়োজন পড়ে না। মনে করেন পীর সাহেব আমাকে ১১১ (একশ এগার) বার তছবিহ জপতে বললেন, আমি ১১০০ (এক হাজার একশ) বার জপলাম। এই জপনার জন্য পীরের দরকার হয় না। যদি এ জপনা ও নামাজ শিখার জন্য পীরের দরকার হয়, তাহলে মাত্র ৫০ টাকার বিনিময়ে একটি মকসুদুল মো’মেনীন কিনলে,তব একট পীর কিনা গেল। অতি উত্তম পীর।

আপনার মনে আবারো প্রশ্ন জাগবে তাহলে পীরের নিকট থেকে কিইবা শিখতে হবে। জবাবে আমি নরাধম বলব, পীরের কাছ থেকে শিখার বিষয় হলো যা আমি দেখিনা তার দর্শন, যা আমি চিনি না তা চেনা, যা শুনিনা তা শ্রবণ করা, যার সাথে পরিচয় নেই তার সাথে পরিচিত হওয়া। অর্থাৎ নবী, আল্লাহ এবং ফেরেশতাগণসহ নানাবিধ অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনা ইত্যাদি।

পবিত্র হাদিছ শরীফে বর্ণিত আছে, ‘মানুষ আমার রহস্য আমি তার (মানুষের) রহস্য’। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, আমি কে? আল্লাহ কে? কোরআনের আলোকে একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন আপনার সম্মুখে সন্ধানী জ্ঞানের আলো জ্বলে উঠবে। সে আলোকে আপনি আল্লাহর পথে অগ্রসর হতে পারবেন। পবিত্র কোরআন মজিদে বর্ণিত আছে যে, ‘আর যখন আপনার প্রভু, ফেরেশতাগণকে বললেন, নিশ্চয়ই দুনিয়াতে একজন খলিফা বা প্রতিনিধি বানাব’ ‘খলিফা (আদম) আল্লাহরই প্রতিনিধি। আদমের প্রতিনিধিত্ব অস্বীকারকারী অভিশপ্ত এবং সমালোচনাকারীর সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য অর্থাৎ ফেরেশতাগণের সাধারণ জ্ঞান আদম সৃষ্টির (রহস্যজ্ঞানের) আওতা বহির্ভূত। এই জ্ঞান মালিক (আল্লাহ) এবং মালিকের প্রতিনিধির (আদমের) মধ্যে গুপ্ত এবং ব্যক্ত। আরো একটু ভাল করে জ্ঞান করলেই বুঝা যায়। ‘যখন আদম (আ.) সমস্ত জিনিসের নামসমূহ অনন্তর বলে দিলেন’। (ফালাম্মা আম্মাবাআহুম বে আছমাইহীম)। প্রমাণিত হল আল্লাহর প্রতিনিধি আদম (আ.) আল্লাহর শিক্ষায় শিক্ষিত এবং আল্লাহর জ্ঞানে জ্ঞানী। আল্লাহ তায়ালা তখনই ঘোষণা দিলেন, ‘আমি কি তোমাদের বলিনি? যে নিশ্চয়ই আমি জ্ঞাত আছি সমস্ত অদৃশ্য বিষয় আসমান এবং জমিনের। এবং আরও অবগত আছি যা তোমরা ব্যক্ত কর এবং যা অন্তরে গোপন কর তাও।’

হে মহান কোরআনের অনুসারীগণ! তবে চিন্তা করার বিষয় নয় কি? সমস্ত জিনিসের নামসমূহ আল্লাহ আদমের মারফতে সমস্ত গুপ্ত ব্যক্ত করার পরই আল্লাহ নিজেই দাবি করলেন, আমি আসমান জমিনে যা কিছু গুপ্ত সবকিছুই অবগত। তাহলে পরিষ্কারভাবে বুঝা যায়, যা মালিক অবগত তা মালিকের প্রতিনিধিও অবগত। ফেরেশতাগণের সামনে তা প্রমাণিত। প্রমাণিত হওয়ার পর ফেরেশতাগণকে আল্লাহ তায়ালার হুকুম-‘ওয়া ইজকুলনা লিল মালাইকাতিছ জুদু লি আদমা’ অর্থাৎ আর আমি (আল্লাহ) যখন ফেশেতাগণকে বললাম আদমের সামনে সিজদায় পতিত হও। তখন সকল ফেরেশতাগণ ছজিদা করলেন বা আদমের প্রতিনিধিত্ব নতশীরে মেনে নিলেন। শুধুমাত্র প্রতিনিধিত্ব অস্বীকারকারী ইবলিস ছাড়া। সে প্রতিনিধিত্ব অমান্য করলো, অহংকার করল এবং অভিশপ্ত হল। হে মানব (আদম) সন্তানগণ তুমিই কী সেই আদম? যে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে জমিনে এসেছ? তুমিই কী আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব কর? তুমিই কী সেই আদম যার আনুগত্য স্বীকার করে ছিলেন ফেরেশতাগণ!

সুতরাং আমি কে? আমার মূল কি? কোথায় ছিলাম? কোথায় এলাম? কি নিয়ে যাব? এই রহস্য জানার প্রয়োজন আছে। কোন প্রভাবে আমার অবস্থার পরিবর্তন? অর্থাৎ প্রকৃত আমি তথা আল্লাহর রহস্য আমিতে পরিবর্তন সাধন করা।

পরিশেষে বলি, ‘আপন নকশা’ তথা রাহে ভাণ্ডার এর প্রতিষ্ঠাতা ছাহেবুল অজুদুল কোরআন, আজাদ মোজাদ্দেদ এ জমান হযরত গাউছুল আজম শাহ ছুফী মৌলানা ছৈয়দ ছালেকুর রহমান শাহ (ক.) দুলহায়ে হযরত কেবলা কাবা, রাহে ভাণ্ডারী রাজনগরী এর দীক্ষায় দীক্ষিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। তিনি তাঁর মুরিদগণকে মূল্যবান জ্ঞান ‘খালাকাল্লাহু আদামা আলা ছুরাতীহি’ শিক্ষা দিয়েছেন এবং এই আলোকে সাধন ভজনের রাহ্‌ (রাস্তা) দিয়েছেন যা আইনুল এক্বীন (প্রত্যক্ষ ঈমান) পর্যায়ভুক্ত। উক্ত জ্ঞানের সন্ধানী তথা আপন নকশা সন্ধানী আদম সন্তানগণ খোদা প্রাপ্তির পথে আমার নবী করিম (দ.), গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.), দুলহায়ে হযরত রাহে ভাণ্ডারী (ক.) আল রাহে ভাণ্ডারীর আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাবে এবং আদর্শবাদের বদৌলতে সফল হোক। আমিন।

"কোরআনের আলোকে মানুষ সেজদা" —আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মা.) পীর ছাহেব, রাহে ভাণ্ডার সিলসিলা।


কোরআনের আলোকে মানুষ সেজদা
আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মা.)
পীর ছাহেব, রাহে ভান্ডার সিলসিলাহ

পবিত্র কুরআনুল কারিমে এ প্রসঙ্গে এরশাদ হচ্ছে, ‘এবং যখন আপনার প্রভু ফেরেশতাদের বললেন, আমি জমিনে আমার খলিফা সৃষ্টি করব।’
এখানে খলিফা সৃষ্টি দ্বারা বুঝায়, আল্লাহ জাল্লাশানুহু তাঁর পরিবর্তে জমিনে তাঁরই আদেশ–নির্দেশ, বিধি–বিধিান এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজ প্রতিনিধি সৃষ্টি করবেন।
‘তাঁরা (ফেরেশতাগণ) বলল, আপনি কি জমিনে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে তথায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে ও খুনাখুনি করবে?’
উল্লেখ্য, ফেরেশতাগণ আল্লাহ প্রদত্ত তস্‌বিহ, জিকির এবং কর্ম ছাড়া অন্য কিছু জ্ঞাত নয়। তাহলে আদমকে সৃষ্টি করার পূর্বে ফেরেশতাগণ কি করে জানলো যে আদম সন্তান দুনিয়াতে বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত করবে?
ফেরেশতাদের এই জ্ঞান আল্লাহ প্রদত্ত নয় বরং এই জ্ঞান তাদের ওস্তাদ (আযাযিল পরবর্তীতে শয়তান) এর দেওয়া শিক্ষা। যার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নাই তার বদনাম করা শয়তানী স্বভাব।
‘এবং আমরা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি।’ এই আয়াতাংশে ফেরেশতাকুল নিজেদের সুনাম জাহির করছে। এটাও শয়তানী শিক্ষা। পরের দুর্নাম এবং নিজের সুনাম দুটোই শয়তানী স্বভাব।
আল্লাহ জাল্লাহশানুহু জবাব দিলেন– ‘নিশ্চয় আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।’ ফেরেশতাগণকে তাদের ওস্তাদ আযাজিল আদম (আ.) এর তথা (মানবকুলের) ভালো কর্মগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞতা না দিয়ে মানবের খারাপ দিকগুলোর বর্ণনা শিক্ষা দিয়েছেন।
বর্তমান বিশ্বেও এমন কিছু আলেম নামধারী শয়তানের অনুসারী আছেন, যারা আল্লাহর প্রতিনিধি অলিউল্লাহগণের তরিকত ভিত্তিক কিছু কিছু শিক্ষা দীক্ষার সমালোচনা করে নিজেদেরকে শয়তানের শিষ্যের মত উপস্থাপন করেন। ফেরেশতাগণ যে আল্লাহর প্রতিনিধি সম্পর্কে অজ্ঞ আল্লাহ তা প্রমাণ করালেন। ‘আল্লাহ ছুবহানাহু তা’য়ালা আদম (আ.) কে সকল সৃষ্টির নাম শিক্ষা দিলেন, অত:পর যাবতীয় সবকিছু ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, সকল বস্তুগুলোর নাম বলো যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।’
আল্লাহ তাঁর প্রতিনিধি আদম (আ.) কে সৃষ্ট সকল বস্তু সম্পর্কে বস্তুর কার্যকারীতা, বৈশিষ্টাবলী, গুণাবলী, কর্মকৌশলাদি জ্ঞান–বিজ্ঞান এবং মৌলিক বিষয়াদি সকল শিক্ষা কুদরতীভাবে দান করেন এবং তাঁকে (আদম) আল্লাহর খলিফা নিযুক্ত করলেন।
তখন হতে আল্লাহতা’য়ালার পক্ষে পৃথিবীর সকল বিধি–বিধান বাস্তবায়ন করার দায়দায়িত্ব পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হন আদম (আ.)। ফেরেশতাদের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ তোমাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে হলে সকল বস্তুর নাম বলো, কিন্তু তারা সৃষ্টি জগতের কোন কিছু সম্পর্কে জ্ঞানের পরিচয় দিতে পারেনি।
আদমের উপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়নি। কারণ তারা জানে না যে আদম (আ.) আল্লাহতা’য়ালার প্রকৃত খলিফা।
‘তারা বললো, আমরা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি যে, আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি মহাজ্ঞানী, মহা প্রজ্ঞাময়।’
‘তিনি এরশাদ করলেন, তুমি তাদেরকে (ফেরেশতাদের) বলো সকল বস্তুর নাম, যখন তিনি (আদম) বস্তু সমূহের নাম বলে দিলেন তখন আমার আল্লাহ এরশাদ করলেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি? আসমান–জমিনের অদৃশ্যাবলী আমি জানি। আর আমি জানি যা তোমরা প্রকাশ এবং গোপন করে থাক।’
আল্লাহতা’য়ালার হুকুমের সাথে সাথে আদম (আ.) সকল বস্তুর নাম প্রকাশ করলেন।
এখানে উল্লেখ্য, আদম আল্লাহর জ্ঞানে জ্ঞানী। ঐশী জ্ঞানে জ্ঞানী না হলে খোদায়ী খেলাফত পেতেন না। খলিফা হতে হলে তাঁকে খেলাফতের দায়িত্ববান হতে হবে। তাঁকে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচার সাম্যসহ আল্লাহ জাল্লাশানুহুর প্রদত্ত সকল ক্ষমতার প্রযোজ্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সম্পাদনা এবং আল্লাহময় জগতের বিচরণ ক্ষমতা থাকতে হবে, অন্যথায় নয়।
ফেরেশতাদের ওস্তাদ আযাজিল (মুকাররাম) আদম সম্পর্কে যে শিক্ষা তাদের (ফেরাশতাদের) দিয়েছেন তা অসম্পূর্ণ জ্ঞান। জমিনের সকল কর্মকাণ্ডের নির্বাহক আল্লাহর প্রতিনিধি আদম; এই জ্ঞান তাদের দেওয়া হয় নাই।
মনে রাখতে হবে মানুষ যখন আল্লাহর খলিফা তখন তিনি সৃষ্ট বস্তুর নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে জ্ঞানী হয়। যেমন আদম (আ.) সব গূঢ় রহস্য ফেরেশতাদেরকে বর্ণনা করেছেন।
‘এবং যখন আমি ফেরেশতাদের হুকুম করলাম তোমরা আদমকে সিজদা কর, তখনই সবাই সিজদা করল। ইবলিশ ছাড়া। সে অমান্যকারী হল, অহংকার করল এবং কাফের হয়ে গেলো।’ (সূরা বাক্বারা, আয়াত ৩০/৩৪ দ্রষ্টব্য)।
আসলে অত্র সিজদা দ্বারা তারা আদমের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেওয়ার সুযোগ পেল। তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশিত হল।
ফেরেশতাদের পূর্ণতা প্রাপ্তির মাধ্যম হল হযরত আদম (আ.)। আদম (আ.) কে প্রদত্ত এই সিজদা নিয়ে অনেক মোফাচ্ছিরে কেরাম মতভেদ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ফেরেশতাদের কেউ সিজদা করেছে কেউ করেনি।
সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত হল, সমস্ত ফেরেশতাকে সিজদার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সকলেই সিজদা করেছেন।
তাফসিরে খাজিন ও মাদারিকে উল্লেখ আছে, এটি সিজদায়ে তাহিয়্যা (সম্মানসূচক সিজদা)। সিজদায়ে এবাদত (এবাদতের সিজদা) নয়। তবে শুধু মাথা নিচু করে এ সিজদা করা হয়েছে তা নয় বরং মাটির উপর কপাল রেখেই এই সিজদা করা হয়েছে।
এই আয়াতে যারা ইবাদতের সিজদা হিসাবে বর্ণনা করেছেন তাঁরা বলেছেন, এই সিজদা আল্লাহকে করা হয়েছে এখানে আদম ক্বেবলামাত্র (মাসজুদ ইলাই) অর্থাৎ যার দিকে সিজদা করা হয়। আর আল্লাহ হলেন (মাসজুদ লাহু) অর্থাৎ যাঁকে লক্ষ্য করে সিজদা করা হয়।
এখানে কোন মোফাচ্ছিরের দ্বিমত থাকার কথা নয় যে, আদম (আ.) কে যেই সিজদা করা হয়েছে তা আদমকে করা হোক বা অদৃশ্য আল্লাহকে করা হোক; আদম (আ.) তথা মানুষকে সিজদা করার এই মতবাদের প্রবর্তক স্বয়ং আল্লাহ জাল্লাশানুহু।
উক্ত মতবাদের অস্বীকারকারী ইবলিশ শয়তান মোরতাদ, কাফের এবং লানাতুল্লাহ আলাইহি।
সুতরাং বিবেচ্য বিষয় এই যে, শয়তানের যে জ্ঞান–বিজ্ঞান আদম সিজদার বিপক্ষে এই মতবাদকে টিকিয়ে রাখার জন্য যারা উঠে পড়ে লেগেছে, তাদের বিদ্যা–বুদ্ধি, ধন–মন কি আল্লাহর পক্ষ অবলম্বন করছে? না শয়তানের পক্ষ অবলম্বন করছে। এই বিষয় তাদের উপর ন্যস্ত রইল। আল্লাহর প্রতিনিধি আদম (আ.) কে জ্ঞান দান ও ফেরেশতাদের অক্ষমতা সব কিছুর উদ্দেশ্য হলো আদমের শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে মত সৃষ্টি করা।
এখন কথা হল আদম সেজদার বিপক্ষে যারা বিদ্যা–বুদ্ধি, ধন–জন ও সাহায্য–সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তারা কোন পক্ষ অবলম্বন করেছে? তারা কি আল্লাহর পথ, না শয়তানের পক্ষ অবলম্বন করেছেন? তা তারা নিজেরাই বিবেচনা করবেন।
আল্লাহ আমাদেরকে তাঁকে জানার, চিনার ও বুঝার তৌফিক দান করুন। আমিন।

প্রচারে-
ছৈয়দ মশিউর রহমান রাহাত
খাদেমুল ফোক্বরা, রাহে ভান্ডার

Thursday, July 16, 2020

“করোনাকালে নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের পাশে- লাইট টু লাইফ"


“করোনাকালে নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের পাশে লাইট টু লাইফ”

করোনা পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকটে পড়া নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইট টু লাইফ। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকেলে আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়ায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। লাইট টু লাইফ এর সাথে যৌথভাবে সহযোগিতা করেছে জার্মানীর সুফী সেন্টার রব্বানীয়া, ইউরোপীয়ান সেন্টার ফর সুফিজম এন্ড ইন্টার ফেইথ এঙ্কাউন্টারের শাইখ ইর্সাফ ইফেন্দী।

Tuesday, July 14, 2020

আমার পরান যাহা চায়, তুমি তাই, তুমি তাই গো...🌻গুরুকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার পরান যাহা চায়, 
তুমি তাই, তুমি তাই গো। 
তোমা ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাই গো।

তুমি সুখ যদি নাহি পাও,
যাও সুখের সন্ধানে যাও,
আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয় মাঝে,
আর কিছু নাহি চাই গো।

আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন,
তোমাতে করিব বাস,
দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী, দীর্ঘ বরষ মাস।
যদি আর কারে ভালোবাস,
যদি আর ফিরে নাহি আস,
তবে তুমি যাহা চাও, তাই যেন পাও,
আমি যত দুখ পাই গো ।

🌻গুরুকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Friday, July 3, 2020

"ধর্ম কর্ম আপনার মন করে ধর্ম সব মোমিনগণ। লালন বলে করো ধর্ম প্রাপ্তি হবে নিরঞ্জন।" 🌻মহাত্মা ফকির লালন সাঁই

"ধর্ম কর্ম আপনার মন করে ধর্ম সব মোমিনগণ। লালন বলে করো ধর্ম প্রাপ্তি হবে নিরঞ্জন।"

🌻মহাত্মা ফকির লালন সাঁই

আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মা.)' র হাতে চারাগাছ উপহার দেন "সেচ্ছাসেবী সংগঠন- পূর্বাশার আলো"

আজ ৩ জুলাই, ২০২০ ইংরেজি, ১৯ আষাঢ়, ১৪২৭ বাংলা, পূর্বাশার আলো বোয়ালখালী উপজেলা সংগঠনের ‘মাসব্যাপী বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম দরবার শরীফের সাজ্জাদনশীন আল্লামা ছুফি ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মা.)র হাতে চারাগাছ তুলে দিচ্ছেন সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন খালেদ।৷ 

"আদম মহান ছুরত ও ছিরত" ❤আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মা.) পীর ছাহেব, রাহে ভাণ্ডার সিলসিলাহ।

আদম মহান ছুরত ও ছিরত
আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মা.)
পীর ছাহেব, রাহে ভান্ডার সিলসিলাহ

সমস্ত প্রশংসার মালিক আল্লাহ যিনি আদম (আ.) কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মহা সংকটময় কালে অন্ধকারময় পৃথিবীতে সেই “নকশা” যা লৌহিম-মাহফুজে সম্মানের সাথে অংকিত, ও মহান গৌরবের সাথে রক্ষীত ছিল। যাঁর উছিলাতে আদম (আ.) তথা মানুষের প্রথম প্রার্থনা পূর্ণতা অর্জন করেছিল। 
অসংখ্য দরূদ ও সালাম জ্ঞাপন করি ঐ “নকশা” এর ধারক বাহক সৃষ্টিকূলের আদি-অন্তের মূল, জগতসমূহের রহমত, আমার নবী জনাব আহমদ মোজতবা “মোহাম্মদ” মোস্তফা (দ.)’র প্রতি এবং পাঞ্জেতন পাক আহলে বাইতে ও তাঁর ছাহাবাগনের প্রতি, অতঃপর নতশীরে ছজিদা জানাই উম্মতে মোহাম্মদী (দঃ)’র মহান ত্রানকর্তা যার দস্ত মোবারকে অর্জিত লেওয়ায়ে আহমদী (নবীজীর শেষ ঝান্ডা) বেলায়তে মোতলকায়ে আহমদীর অধিকারী হযরত গাউছুল আজম, নুরুল আলম, ফানাফিল্লাহ, বকাবিল্লাহ, মাতলুবুত তালেবীন, মালিকুল আরেফীন, মৌলানা ছৈয়দ “আহমদ উল্লাহ” শাহ্ (কঃ) মাইজভান্ডারী (হযরত কাবা)’র প্রতি এবং তৎপ্রতিনিধি দুলহায়ে হযরত কাবা, ছাহেবুল অজুুদুল কোরআন হযরত গাউছুল আজম শাহছুফি মৌলানা ছৈয়দ “ছালেকুর রহমান” শাহ্ (কঃ) রাহে ভান্ডারী এবং তৎপ্রতিনিধি আমার মুর্শিদ কেবলা গাউছুল আজম, আজাদে মোজাদ্দেদ, মৌলানা ছৈয়দ “মোহাম্মদ আব্দুল মালেক” শাহ্ (কঃ) আল রাহে ভান্ডারী’র প্রতি যাঁর অনুগ্রহ এবং কৃপার অংশ বিশেষ “মান আরাফা নাফসাহু” দরছ এর তালেব এর দরজা অধম গোলাম হাছিল করলাম।
আমি নরাধম লেখক নই। জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিতও নই। পরম প্রতাপশালী আল্লাহ তায়ালার কুদরতী হস্তে স্থাপিত, লিখিত ও অংকিত “নকশা” সম্পর্কে লিখার দুঃসাহস আমার নেই । 
আমার মুনিব গাউছে পাক যদি সদয় হন তাহলে আমার মুর্শিদ কেবলা গাউছুল আজম ছৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শাহ্ (ক.)’র দেয়া শিক্ষা থেকে তালেবগণের উদ্দেশ্যে কিছু তথ্য উপস্থাপন করতে চেষ্টা করব।

স্বয়ং আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেছেন- “(১) ডুমুর (২) জয়তুন (৩) সিনাই পর্বতমালা (৪) নিরাপদ নগরী (মক্কাশরীফ) এর কসম। আমি আল্লাহ ইনছানকে সর্বো”চ সৌন্দর্যমন্ডিত ছাঁচে ঢালাই করে সৃষ্টি করেছি”। (আয়াত ৪, সুরা- ত্বিন)
সর্বো”চ তারিফ বা প্রশংসা অন্য কোন ব¯‘র ব্যাপারে ব্যবহৃত হয় না। নিজেকে প্রশ্ন করুন আহছানি তাকবীম কি? বুঝার চেষ্টা করুুন মানুষ তত্ত্ব কি? আমি মানুষ কে? মানুষকে চিনুন, চিন্তা করুন। পবিত্র হাদিছ পাকে বর্ণিত আছে-
মান আরাফা নফছাহু ফকদ আরাফা রাব্বাহু
অনুবাদ- “যে ব্যাক্তি নিজের নফছ (নিজ) কে চিনেছে বরং সে নিজের রব (প্রভু) কে চিনেছে”।

অনুবাদ- “আমি ঐ উপমাসমূহ মানবজাতির জন্য বিবৃত করি যেন সে চিন্তাশীল হয়”।

অনুবাদ- ‘আল্লাহ তিনিই যিনি ব্যতীত আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়”।

অনুবাদ- “তিনি গুপ্ত প্রকাশ্যজ্ঞ, তিনি দয়ালু, দয়াময়’।
আল্লাহ ছাড়া আর কারো এবাদত করা নয়, নিশ্চয়ই আল্লাহর এবাদত করতে হলে আল্লাহকে চিনে করতে হবে। তিনি আল্লাহ গুপ্ত প্রকাশ্য এবং তিনি দয়াময়, দয়ালু কিভাবে? বুঝার জন্য উদাহরণ কি? উপরে উল্লেখিত আল্লাহ তায়ালার ছিফত বা গুণসমূহের সাথে পরিচিতি লাভের প্রয়োজন। হাদিছে কুদসীতে আছে-

অনুবাদ- ‘আমি একটি নিহিত ধনাগার ছিলাম, নিজে পরিচিত হতে ভালবাসলাম অতঃপর আমাকে চিনার জন্য জগত সৃষ্টি করলাম’।
অতএব আল্লাহকে চিনে তাঁর প্রেমে বিভোর হয়ে, ভালবেসে সকল এবাদত করা প্রয়োজন। আমার হারানো স্মৃতিকে খুঁজে বের করে স্মরণ করা (জিকির করা) অবশ্যই কর্তব্য।
মানুষকে তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য করার মত নয়, কারণ আমি মানুষ নিজেকে সুষ্টির সেরা জীব মনে করি। 
কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার স্বভাব-চরিত্র, চাল-চলন যদি হয় অন্যান্য সৃষ্টি জীবের মত, তা হলে আমার শ্রেষ্ঠত্বের অবমাননা করলাম আমি নিজেই। 
উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, ক্ষুধার্থ হলে অন্য জীবের মত যদি আমিও আহার করি, পিপাসার্থ হলে অনুরূপ পান করি। প্রজনন অথবা জৈবিক ক্ষুধা মিঠাতে রত ক্রিয়ায় লিপ্ত হই।
স্রষ্টার কথা স্মরণ হলে অন্যান্য জীবের মত নিজ ভাষায় ডাকা ডাকি করি, অন্য জীবের সাথে আমার পার্থক্য কোথায়? যদি মনে করেন বুদ্ধিমত্ত্বায় মানুষ শ্রেষ্ঠ, তাহলে আমি বলব প্রয়োজন বোধে শিয়ালের ধূর্ততা বানরের ক্ষিপ্রতা কৌশলও অনেক ক্ষেত্রে মানুষকেও হার মানায়। 
তাহলে পশুর শ্রেষ্ঠত্ত্ব মেনে নেয়া হবে? কোরআন পাকে আল্লাহ তায়াল মানুষকে শ্রেষ্ঠ বলেছেন।

অনুবাদ- ‘নিশ্চয়ই আমি আদমের বংশধর (মানুষ) কে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি’। আমার নবী ফরমায়েছেন-

অনুবাদ - ‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে তিবরানী ও খতিব বর্ণনা করেছেন, রাছুলুল্লাহ (দ.) ফরমালেন, আল্লাহ তায়ালার নিকট মানব থেকে অন্য কোন বস্তুই শ্রেষ্ঠ নয়, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! ফেরেস্তারাও কি শ্রেষ্ঠ নয়? তিনি বললেন তারাও নয়, যেহেতু তারা সূর্য ও চন্দ্রের ন্যায় পরায়ত্ব।”
আমি কি আদমের সেই বংশধর? যার সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূল (দ.) উল্লেখিত মন্তব্য করেছেন। 
আসুন আমরা সেই শ্রেষ্ঠত্ব খুঁজি যা আমাকে অর্পণ করেছেন। “মান আরাফার” ছবক পড়ি। আমার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করি। আমরা মহাত্মার পরাধীন। আমাকে আমার জাতের নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। হ্যাঁ আমি আদম সন্তান, আমার শ্রেষ্ঠত্ব শুধু ফিকাহ্ ফতোয়া দলিল দিয়ে নয়, আমার জন্ম, কর্ম, স্বভাব, চরিত্র সব কিছু দিয়ে প্রমাণ সাপেক্ষে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আমি কে চিনতে হবে। 
কবির ভাষায় বলিঃ-
(১) আমি আমি করি সবে আমি চিনা হল ভার, স্বরূপে বিরূপে আমি এক আমির ভাব দুই প্রকার।
(২) কবি রমেশ বলেন, রমেশ কয় মন ভেবে স্বরূপ দেখা পাব কবে, এইভাবে কি জনম যাবে বলনা। এর স্বরূপ কি?
(১) আল্লাহময় জগতে শেরে খোদা আলী (রাঃ)’র উক্তি - “আনা ইয়াদুল্লাহ” অর্থ-- আমিই আল্লাহর হাত।
(২) গাউছে বোগদাদী (কঃ)’ উক্তি- “বিলাদুল্লাহি মুলকী তাহতা হুকমী” অর্থ-- আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি আমারই আজ্ঞাবহ।
(৩) আল্লাহময় জগতে গাউছুল আজম আহমদ উল্লাহ (কঃ) মাইজভান্ডারী “ আমি আমার প্রভুর নয়ন দিয়ে প্রভুকে দর্শন করলাম।”
(৪) সুলতানুল আরেফিন বায়েজীদ বোস্তামী (কঃ)-“সোবহানী মা আ’জামা শানী” অর্থ-- আমার শান সবচেয়ে উন্নত এবং সবচেয়ে পবিত্র।
(৫) মনছুর হাল্লাজ (কঃ)- “আনাল হক” অর্থাৎ “আমিই (আল্লাহ) হক। ইত্যাদি যারা আল্লাহর রূপে রূপায়িত, গুণে গুণান্বিত, তাদের স্বরূপ অপর দিক বিরূপে নমরুদ, ফেরাউন, আবু জাহেল তাদের প্রতাপ প্রতিপত্তি, অহংকার ও দম্ভ ধ্বংসযোগ্য। বিচার্য বিষয় স্বরূপ আমি অপ্রতিরোধ্য, অভিনাশিত এবং বিরূপ আমি ধ্বংসিত, বিনাশিত। আমি আমাতে আমাকে চিনতে হবে। তবেই বুঝব আমার সাধন ভজন কি করলাম। পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত-

“নিশ্চয়ই আমি আকাশ ভূমন্ডল ও পর্বত সমূহের প্রতি আমানত অর্পন করেছিলাম; কিন্তু‘ তারা এই ভার গ্রহণ করতে শঙ্কিত ও অসম্মত হল। অথচ মানুষ তা গ্রহণ করল। ব¯‘ত মানুষ কষ্টের মধ্যে নিজেকে নিক্ষেপকারী, বড় মূর্খ।” (সুরা আহযাব-৭২)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেছেন উল্লেখিত আমানত মানে সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। যেমন হাত, পা, চোখ, কান, নাক ইত্যাদি। সবই আল্লাহ প্রদত্ত আমানত। তার ঈমানেরই কি মূল্য আছে যে আমানতদার নয়? হাফেজ সিরাজী এই মর্মে গাইলেন-
“আছমানে বারে আমানত নওয়ানস্ত কশিদ / ক্বেরাত ফাল বনামে মান দিওয়ানা জেদ নদ”।
অর্থ- “আকাশ যে আমানত তুলিতে নারিল, এই পাগল সেই মহাভার গ্রহণ করিল”।
সাবধান! হে আদম সন্তান! আপন সৃষ্টি, আপন অস্তিত্ব, স্বীয়সত্ত্বা সম্পর্কে, অভিজ্ঞতা অর্জন কর। অবশ্যই আমানত চাওয়া মাত্র ফেরতযোগ্য বা মালিকের কাছে হস্তান্তর যোগ্য। পবিত্র কোরআন মজিদে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন-

অনুবাদ- ‘সুতরাং তুমি আপন মুখমন্ডল সোজা করে নিজের ধর্মে কায়েম থাক’।

অনুবাদ- ‘আল্লাহর সেই গঠন বা প্রকৃতি যে গঠনে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন’। 
হে আদম সন্তান! তোমাকে আল্লাহর গঠন প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এর পবিত্রতা রক্ষা করতে স্বচেষ্ট হও। নিজের পরিচয় খোঁজ, কামেল পীরের এত্ত্বেবা কর। আল্লাহর পরিচয়ে পরিচিত হও। একমাত্র পীরে মগাঁই পারেন, তোমাতে তোমার পরিচয় ঘঠাতে। 
হাদিস শরীফে আমার নবী বলেন- 
“খালাক্বাল্লাহু আদামা আলা ছুরাতিহী।” 
অর্থ- “আল্লাহ তায়ালা তাঁর (আল্লাহর) নিজ অবয়বে আদম (আঃ) কে তথা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন”। 
কোন কোন কাঠ মোল্লা উক্ত হাদিছের উল্টা তফসীর করতে গোমরাহি থেকে বাঁচান। আমি নিজে যা বুঝিনা হয়ত অনেকেই তা বুঝে। আমি যা বুঝিনা তা কেউ বুঝেনা এই ধারণা অমূলক ও অহমিকাও বটে। 
পবিত্র তৌরাত কিতাব যাঁর উপর নাজিল হয়েছে তাঁকেও শিক্ষার জন্য খিজির (আ.)’র নিকট আল্লাহ পাক প্রেরণ করেছেন, এই কথা ভুললে চলবেনা। আমি “আদম” নামক শিরোনামে কিঞ্চিত আলোচনা করেছি। 
আদম সন্তান আমি, “সর্ব প্রথম আল্লাহর জাতি নূর থেকে নূরে মোহাম্মদী সৃষ্টি হল। তখন আমি সহ নূরে মোহাম্মদীর মধ্যে নিহিত ছিলাম। নূরে মোহাম্মদীর সৃষ্টির পূর্বে আমিসহ, নূরে মোহাম্মদীসহ আল্লাহর জাতি নূরে নিহিত ছিলাম”। যেমনঃ- {(নুরুল্লাহ)>(নূরে মোহাম্মদী)>(সমস্ত সৃষ্টি) আমি আদম} অথবা {আমি আদম সন্তান<(আদম)<(নূরে মোহাম্মদী)<(নূরুল্লাহ)জাতে আল্লাহ}।
পরিশেষে বলি-
অনুবাদ- ‘প্রত্যেক বস্তু তাঁর মূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে’। 
হে আদম সন্তান! তুমিও তোমার জাত আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনশীল। তুমি তোমার পবিত্র জাত এর দিকে প্রত্যাবর্তন করার প্র¯‘তি গ্রহণ কর, না হয় তোমার নিস্তার নেই। কোরআন পাকে আল্লাহ বলেন-
অনুবাদ- ‘এবং তোমরা নির্জীব ছিলে, পরে তিনি তোমাদেরকে সজীব করেছেন, পুনরায় তোমাদেরকে নির্জীব করবেন অতঃপর তিনি তোমাদেরকে সজীব করবেন, অতঃপর তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে’। (সুরা বাকারা -২৯)
আল্লাহ জাল্লা শানুহুর প্রতিনিধি হে আদম সন্তান! তুমি আল্লাহর ছুরতদারী বনে যাও, আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও। আল্লাহ প্রদত্ত আমানত খেয়ানত করোনা। কারণ আমানত ফেরতযোগ্য। 
আল্লাহর রূপে রূপায়িত হও। কারণ ভিন্ন রূপে আসলের নিকট প্রত্যাবর্তন করা অসম্ভব। তাইতো বলি হে উম্মতে মোহাম্মদী তথা আদম সন্তান! তোমার মূল কি? তালাশ কর। খোঁজ জগত চষে যেখানে তাঁর দর্শন পাবে সেখানেই নিজকে আত্মসমর্পন কর। লৌহে মাহফুজে সু-অংকিত, সুরক্ষিত, সর্বো”চ সৌন্দর্যমন্ডিত “নকশা” কলমা কে নিজ আয়ত্বে আনার চেষ্টা কর। 
উক্ত পবিত্র কলমাকে “ইলমুল ইয়াকিন” এর মাধ্যমে খলিফাতুল্লাহ, ছফিউল্লাহ, নূরুল্লাহ বনে যাও। জানি তা অতিব কষ্টসাধ্য যা ইয়াকিন দিয়ে সম্ভব নয়। তাই উছিলাহ তালাশ কর। কোরআনের ভাষায় বলি-

“হে মো’মেনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা উছিলাহ অন্বেষণ কর”। (অর্থাৎ ইনসানে কামেল বা পীরের নিকট দীক্ষা নাও) নিজকে চিনতে চেষ্টিত হও। যদি পীর কামেলদের অন্তর্ভূক্ত হয় তবে তুমি পীরের নিকট তোমার নিজ পরিচয় বা আত্মপরিচয় লাভ করবে। স্বারবর্ণ রূপ যার উজ্জল দর্পন, যার যেমনি রূপ দেখিবে তেমন।
মৌলানা রুমী (রহ.) বলেন-
“হক্ব তোয়ারী হক্বরাতু মিজুই কুজা খাও য়েশবা বেশনাছ খোদা” অর্থ- হক্ব তুমি, হকেরে খোঁজ কোথায়? নিজেকে চিনলে পাবে যে খোদায়।
ঈমান ও ইসলাম, মোমেন ও মুসলমান পার্থক্য আছে। ঈমান সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীন ও আন্তরিক বিষয় এবং রোজা, নামাজ, হজ্ব, যাকাত সম্পূর্ণ দৈহিক বিষয়। নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত আদায় করলে মুসলমান বলা যেতে পারে। তাকে ঈমানদার বলা যেতে পারে কিনা সন্দেহ আছে। সে মৃত্যু কালে ঈমান সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে কিনা সন্দেহমুক্ত নয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামে ফরমায়েছেন তাতে মোমেন ও মুসলমানের মধ্যে পার্থক্য বর্ণিত হয়েছে-

অনুবাদ ঃ- ‘মরুবাসীরা বলল, আমরা ঈমান এনেছি। হে রাসূল! আপনি বলেদিন, তোমরা ঈমান আননি বরং এভাবে বল আমরা মুসলমান (অনুগত) হয়েছি। এখনো ঈমান তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি’। (সুরা হুজুরাত-১৪) হে উম্মতে মোহাম্মদী (দ.)! মৃত্যু কালে ঈমান সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সহজ সাধ্য নয়, খাতেমা বিল খায়ের না হলে পরিত্রাণ নেই। ছহীহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত-

অনুবাদ- ‘হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাছুলুল্লাহ (দ.) ফরমায়েছেন, ব¯‘ত মানুষ দীর্ঘকাল বেহেস্তী লোকের ন্যায় কাজ করে অতঃপর শেষ দোযখীদের কাজের উপর হয়। অর্থাৎ দোযখী আমল নিয়ে মরে। অথচ কোন কোন লোক অনেক কাল ধরে দোযখী লোকের ন্যায় কাজ করে কিš‘ তার শেষ বেহেস্তীদের উপর হয়’।
পবিত্র হাদিছে পাকে নবী করিম (দঃ) ফরমালেন-
অনুবাদ- ‘ছালাত মোমেনদের জন্য খোদা প্রাপ্তির সোপান বটে’। হে মুসলমান মুসল্লীগণ! আপনারা বলতে পারেন কি? আপনার কৃত নামাজে কখনো মেরাজ হয়েছে কি? তাহলে সন্ধেহের অবকাশ থেকে যায়, হয়ত আপনি মোমেন নন; নতুবা আপনি নামাজ করতে জানেন না। ঐ রকম মুসল্লী হয়ে কিসের এত লম্ফ জম্প করেন? আমার অনুরোধ; অতি সত্তর পীরে মগাঁর কাছে নিজেকে সমর্পণ করুন। তিনি আপনাকে ছালাতে মে’রাজ শিক্ষা দিবেন। আমি বলিঃ-
১)“যদি তোমার পীরে মগাঁ সত্য, দেখবে ছালাতে মেরাজ নিত্য”।
২)“পীরে মগাঁর এত্ত্বেবা কর, অসাধ্য সাধন কর”।
৩)“নবীবর এল আদম ছুরতে, আল্লাহ থাকবে কোন মুরতে”।
৪)“সাধন কর ভজন কর, নৈরাকার থুয়ে আকারে মর”।
৫)“মানব সেবা কররে মন, মানুষেতেই নিরাঞ্জন”।
৬)“মোমেনের ক্বলব আরশে আল্লাহ, আল্লাহ থাকবে কোন মাদল্লা (মাদল্লা মানে- চাউনী)”।
৭)“যার নায় গুরু নবী, আল্লাহময় ভোরের খুবী”। চেষ্টা, আকাঙ্খা, অšে¦ষণ ও সাধনার চেষ্টায় অসাধ্য কিছু নেই। সন্ধান করলে পথ পাওয়া যায়। যথাঃ- আল্লাহ তায়ালা ফরমায়েছেন-

অনুবাদ- ‘এবং যারা আমাতে (আমাকে পেতে) প্রচেষ্টা চালায়, অবশ্যই আমি তাদেরকে আমার (প্রাপ্তির) পথ দেখিয়ে দেই’। (সুরা আনকাবুত শেষ আয়াত)
এখানে আল্লাহ তায়ালা উপদেশ দিয়েছেন একটি উছিলা তালাশ করার জন্য। উছিলা শব্দের অর্থ মৌলানা আবদুল আযিয মুহাদ্দিস দেহলভী (টীকাতে লিখেছেন) উছিলা শব্দের অর্থ “মুর্শিদ”। সুরা নিসা আয়াত ৫৯ তে আল্লাহ তায়ালা ফরমায়েছেন-

অনুবাদ- ‘আল্লাহর অনুসরণ কর এবং রাছুলে অনুসরণ কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা আদেশদাতা’। কেউ ভ্রান্ত মত পোষন করে বলেন পীরের প্রয়োজন নেই। হযরত জোনাইদ বোগদাদী (র.) বলেন-
অনুবাদ- ‘যার পীর নেই তার পীর শয়তান’।
তাদেরকে বলি যারা শয়তানের অনুসারী, আল্লাহ পাক সুরা আরাফ আয়াত ১৮১ তে বলেছেন-

অনুবাদ- ‘এবং আমার সৃষ্টির মধ্যে এমন এক উম্মত (সম্প্রদায়) আছেন যারা সৎপথ প্রদর্শন করেন’। হে উম্মতে মোহাম্মদী (দ.)! আপনাদের প্রতি একান্ত অনুরোধ আল্লাহর খোঁজ করুন, তালাশ করুন, আল্লাহ হাইয়্যুল কাইয়্যুম, সব সময় ছিল, আছেন এবং থাকবেন। আমার নবী (দ.) হায়াতুন্নবী। তিনি সব সময় জীবিত। দেখতে বা সাক্ষাত করতে চেষ্টা করুন। উপযুক্ত মুর্শিদের তালাশ করুন।
‘মন মানুষ তোর আপন ঘরে, বসে আছেন নিজ আকারে, খোঁজ কেন? মসজিদ, গীর্জা ও মন্দিরে তারে।।
জ্ঞানের চক্ষু মেলে তাকাও, রাহে ভান্ডারীর চরণ পরে।।
সবশেষে আরজ করি, “হে আল্লাহ রহমানুর রহিম” আমাকে এবং সকল “নকশা” সন্ধানীকে ছিরাতুল মোস্তাকিম দান করুন এবং ছিরাতুল মোস্তাকিমে কায়েম ও দায়েম রাখুন, আমাদেরকে তোমার পবিত্র হস্তে অংকিত সংরক্ষিত “নকশা” তথা কলমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। আমরা যেন স্বচক্ষে কলমাকে দেখে স্বাক্ষী দিতে পারি।

অনুবাদ- ‘হে আল্লাহ! আপনার পেয়ারা হাবিব ‘মোহাম্মদ’ (দ.) পাঞ্জেতন পাক, আহলে নবী (দ.), আছহাবে নবী (দ.), গাউছুল আজম ‘আহমদ উল্লাহ (ক.) মাইজভান্ডারী, বাবা ভান্ডারী (ক.) ও ওয়াছেলে মাইজভান্ডারী (ক.) সহ সকল খলিফা ও আওলাদে মাইজভান্ডারীর উছিলায় এবং ছাহেবুল অযুদ রাহে ভান্ডারী (ক.) আমার মুর্শিদ কেবলা মালেক শাহ্ (ক.) রাহে ভান্ডারীর উছিলায় আমাদের আর্জি কবুল কর“ন। আমাদেরকে খাতেমে বিল খায়ের দান কর“ন আমিন।


সম্পাদনায়-
ছৈয়দ মশিউর রহমান রাহাত
খাদেমুল ফোক্বরা, রাহে ভান্ডার

Thursday, July 2, 2020

"সত্যের উপর সুদৃঢ় থাকা ভয়ের কারণ হলেও এর মধ্যেই মুক্তি নিহিত। মিথ্যার দ্বারা অর্জিত নিরাপত্তা পরিণামে ধ্বংসের কারণ হয়।" 🌻হযরত মওলা আলী (করঃ)

"সত্যের উপর সুদৃঢ় থাকা ভয়ের কারণ হলেও এর মধ্যেই মুক্তি নিহিত। মিথ্যার দ্বারা অর্জিত নিরাপত্তা পরিণামে ধ্বংসের কারণ হয়।"

🌻হযরত মওলা আলী (করঃ)

"Redemption lies in upholding the truth though it is a cause of fear.The security gained by falsehood is a cause of destruction in the long run."

🌻Hazrat Moula Ali (K.)

#AmritSaying

"When a man expresses gratitude wholeheartedly, then it is merely a thing to utter orally, rather the gratitude to gain the mercy of Allah is expressed from the core of heart." 🌻Hazrat Abdul Qader Al-Zilani (Rh:)

“যখন কোন বান্দা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সেটা আসলে কেবল মুখে উচ্চারিত কোন বিষয় থাকে না, বরং আল্লাহর করুণা ও রাহমাত প্রাপ্তির কৃতজ্ঞতা স্বীকার অন্তর থেকেও করা হয়।”
🌻হযরত আবদুল কাদির আল-জিলানি (রহঃ)

When a man expresses gratitude wholeheartedly, then it is merely a thing to utter orally,rather the gratitude to gain the mercy of Allah is expressed from the core of heart.

🌻Hazrat Abdul Qader Al-Zilani (Rh:)

#SufiSaying 
#AmritSayings

Brommando - The Earth: যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেহ ভাণ্ডে।

Brommando - The Earth: যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেহ ভাণ্ডে। : দেহের মাঝে এঁটে রয় ব্রহ্মাণ্ড বিশাল উপরেতে আকাশ রহে নিচেতে পাতাল এর গভ...