Thursday, March 18, 2021

কবরের আজাব (প্রচলিত মত) বলে কিছু নেই"



"কবরের আজাব (প্রচলিত মত) বলে কিছু নেই"

কবি নজরুল বলেছেন: "আমার বিশ্বাস আত্মার তৃপ্তিই স্বর্গ সুখ, আর আত্মার প্রবঞ্চনার পীড়াই নরক যন্ত্রণা"।
আসলে স্বর্গ ও নরক সম্পর্কে আমাদের সমাজে যে সমস্ত কিচ্ছা কাহিনী বদ্ধমূল আছে, এর সকলই মিথ্যা ও কাল্পনিক ধারণা মাত্র । কোরান হাদিসের রূপক ভাষাকে বুঝতে না পারার দরুণ ধর্ম জগতে এসব মিথ্যাচার ঢুকে পড়েছে; তবে এর জন্য জাল হাদিসও বেশ দায়ী । কবর-আজাব সম্বন্ধেও কিছু আজগুবি ধারণা সমাজে বদ্ধমূল রয়েছে । মূলত ধর্ম-গ্রন্থে কবর-আজাব বলতে জীবন্ত দেহের আজাবকেই বুঝানো হয়েছে । মানব দেহটাই মূলত কবর । দুঃখ-কষ্ট সব এখানেই ভোগ করতে হয় । তাই সুফিরা বলে থাকেন: "আমরা দুজোখে যাবো না, বরং আছি"!!

এক জনমে মুক্তি অর্জন হয় না বলে পূণর্জন্মের ব্যবস্থা রয়েছে, এক জনমে ফলভোগ শেষ হয় না বলে জন্মান্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; তাই বুদ্ধের বার্তা: "বারবার জন্মই দুঃখ"!!
যদি কবরেই সাজা প্রদান করা হতো তাহলে মানুষের পার্থিব দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হতো না, এবং জীবন্ত দেহে এই দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-যন্ত্রণা ভোগের ইত্যাদি পীরাদায়ক ব্যবস্থার কোন প্রয়োজন ছিল না, যেহেতু কবরে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ।

এজিদী ইসলামের দুর্দন্ডপ্রতাপে মুনি-ঋষিগণ এ কথাগুলোকে খোলামেলাভাবে বলে যেতে পারেন নি । তবে সাধক শাহ আব্দুল করিম অতি কৌশলে কিছু বলতে চেয়েছেন:
"দোষ করিলে বিচার আছে,
সেই ব্যবস্থা রয়েগেছে,
দয়া চাই না তোমার কাছে,
আমরা উচিৎ বিচার চাই;
দোষী হইলে বিচারে,
সাজা দিবা কবরে,
(কিন্তু)এখন মারো অনাহারে,
কোন বিচারে জানতে চাই ?
জিজ্ঞাস করি তোমার কাছে বলো ওগো সাঁই"!!

আসলে কবর আজাব বলে কিছু নেই, জীবন্ত দেহের আজাবই কবর-আজাব । যদি জীবন্ত দেহের আজাবকে কবর-আজাব বলে অস্বীকার করা হয়, তাহলে সেই সমস্ত মানুষগুলোর কবর-আজাব কোথায় হয় যাদেরকে কবরে দেয়া হয় না, অর্থাৎ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় যাদের মৃত্যু ঘটে ???

ইশারা ইঙ্গিত-২ :

"কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক কে বলে তা বহুদূর,
মানুষের মাঝেই স্বর্গ-নরক মানুষেতে সুরাসুর"।।

 'কবর-আজাব' (প্রচলিত মত) একটি ভ্রান্ত ধারণা। 

এ কথা বলা হচ্ছে না যে, কবরের আজাব বলে কিছু নেই; অবশ্যই কবর আজাব রয়েছে, কিন্তু সে আজাব মৃতদেহে মাটির গর্তে নয় বরং জীবন্ত দেহে । মৃত দেহ পাপ পুণ্য কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না, তাই তার শাস্তিও থাকে না । মানুষ পাপ-পুণ্য করে জীবন্ত দেহে, সে কারণে কর্মফলটাও ভোগ করতে হয় এই জীবন্ত দেহেই , মৃতদেহে নয় ।

দেহটা আত্মার পোশাক, পোশাকের জেল জরিমানা হয় না । মৃত্যুর পর মানুষের আত্মা নতুন দেহে প্রবেশ করে । আত্মা পুরাতন পোশাক তথা পুরাতন দেহ পরিবর্তন করে কর্ম অনুযায়ী আরেকটি নতুন দেহে বা নতুন গৃহে ঢুকে পড়ে । কর্ম অনুসারে অপরাধীকে পূণরায় নতুন দেহে জন্ম দেয়ার মাধ্যমেই আজাব তথা শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাকে পুণর্জন্মবাদ তথা জন্মান্তরবাদ বলা হয় ।

যদি তাই না হবে, তাহলে কর্মের আগেই কেন শিশুর হাতে কর্মফল ধরিয়ে দেয়া হয়? জন্ম-কানা, জন্ম-বোবা, জন্ম-ল্যাংড়া শিশুটি কখন কর্ম করলো? সে তো সবে মাত্র জন্মালো !! সেই নবজাতক পাপের কর্মটি কখন করলো, যার ফলে পৃথিবীতে আগমনের পূর্বেই কর্মফল স্বরূপ মাতৃগর্ভেই তার হাত-পা-চক্ষু কেড়ে নেয়া হলো? কেন দুনিয়াতে তার কর্ম শুরু করার আগেই সেই নিষ্পাপ নবজাতকের কাধে কর্মফল ঝুলিয়ে দেয়া হলো? তাকে তো ভাল মন্দ কোনকিছু করার সুযোগই দেয়া হয় নি, সে তো মাত্র ভূমিষ্ঠ হলো, তাহলে কর্মের আগেই শিশুকে কর্মফল ভোগ করতে হবে কেন ? তার কি অপরাধ ছিল ? আর সে অপরাধটা করেছেই বা কখন ?

এটাকে পিতা মাতার কর্মফল বলেও উড়িয়ে দেবার সুযোগ নেই, কারণ আল্লাহ বলেছেন: আমি একজনের কর্মফল আরেকজনের কাধে অর্পণ করি না । এটাকে খোদার ইচ্ছা বা তকদির বলেও এড়িয়ে যাবার পথ নেই যেহেতু ঐশীগ্রন্থ স্বাক্ষ্য দেয়- "বিধাতা ন্যায় বিচারক ও মহা নিরপেক্ষ; তিনি কারো উপর জুলুম বা নির্যাতন করেন না"।

আল্লাহ মহা নিরপেক্ষ- কোরানের এ কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে এখানে খোদার নিরপেক্ষতা রইল কিভাবে- যখন কিছু শিশু জন্মায় পাঁচতলায় সোনার চামচ মুখে, অপরদিকে কিছু শিশু জন্মায় গাছতলার বস্তিতে? এই তারতম্যের জন্য তারা পাপ অথবা পুণ্য কর্মটা কখন করলো, যার জন্য দুজন দুই মেরুতে ? উপমায়, ইমাম হোসাইন কি পুণ্য করেছে যার জন্য সে মওলা আলীর ঔরসে, আর ইয়াজিদ কি পাপ করেছে যে, সে শয়তান মুয়াবিয়ার ঔরসে ? তারা উভয়ের কর্ম বৃত্ত কখন, কোন পৃথিবীতে সংঘঠিত হলো ? প্রকৃতপক্ষে পুণর্জন্মবাদ তথা জন্মান্তরবাদকে গ্রহণ করলে সকল হিসেব অংকের মত মিলে যেতে বাধ্য, সকল জিজ্ঞাসার অবসান হতে বাধ্য । যে শিশু জন্মের সাথে সাথেই দেহ আজাব ভোগ করছে এটা তার গত জনমের তথা পূর্ব অর্জিত কর্ম ফল । মূলত কোরানের এই জন্মান্তরবাদকে মুছে ফেলতে গিয়েই এজিদ-বাহিনীর ধর্ম-ডাকাতেরা কবর আজাবের আমদানী করেছে, জাল হাদিস রচনা করেছে এবং ঐশী গ্রন্থে বর্ণীত জীবন্ত দেহের আজাবকেই মাটির কবর-আজাব বলে চালিয়ে দিয়েছে ।।

চলবে...®


মুসলমান অর্থ কী




মুসলমান অর্থ কী ???

পবিত্র কোরআন পাকে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, "তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করিও না" তিনি আরও বলেন, "নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইয়াকুব, ইউসুফ তাদের পুত্রদের এই বলিয়া ওসিয়ত করিয়াছেন, বাবারা আল্লাহর দ্বীন তোমাদের হাতে মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করিও না"।

প্রশ্নঃ- মুসলমান মানে কী বা মুসলমান শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
উত্তরঃ- মুসলমান শব্দের আভিধানিক অর্থ আত্মসমর্পণ। আর মুসলমান হওয়া মানে আত্মসমর্পণ করা।

প্রশ্নঃ- কার কাছে আত্মসমর্পণ করবে ?
উত্তরঃ- স্রষ্টা বা আল্লাহর কাছে। 

প্রশ্নঃ- যাকে দেখিনা বা যাকে দেখা যায়না তার কাছে কি ভাবে নিজেকে সমর্পণ কেবো !!
উত্তরঃ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হচ্ছে মানুষ, আল্লাহর নূর প্রকাশিত হয় মানুষের চেহারার মধ্যমে। সুতরাং একজন মানুষের কাছে যাও, তার কাছে আত্মসমর্পণ করো, তাহলেই মহান স্রষ্টা বা আল্লাহর পরিচয় পাবে। 

প্রশ্নঃ-  এ কেমন কথা !!! আমিও তো মানুষ,  আর মানুষ হয়ে মানুষের কাছে আত্মসমর্পণ কেন করবো ??
উত্তরঃ- না, তুমি মানুষ নও, তুমি মানব, তোমাকে মানব থেকে মানষ হতে হবে। এটাই তোমার পরীক্ষা, এজন্যই তোমাকে এ দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছে। মনে রেখো, পৃথিবীতে সর্বদাই রুপের পরির্বতন হচ্ছে কারণ, রুপান্তরটাই পৃথিবী। 

প্রশ্নঃ- কি ভাবে মানুষ হবো ?? 
উত্তরঃ-  মানবিক গুনাবলীর উৎকর্ষতা সাধনের মাধ্যমে নিজের মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। আর তা করতে হলে একজন মানুষের কাছে যেতে হবে।

প্রশ্নঃ- মানুষ কে এবং তার কাছে যেতে হবে কেন ?
উত্তরঃ- "মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু" অর্থাৎ যে নিজেকে চিনেছে সে স্রষ্টাকে চিনেছে"। সুতরাং যিনি স্রষ্টাকে চিনতে পেরেছেন তিঁনিই মানুষ হতে পেরেছেন। 

মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করলে যেমন ডাক্তার হওয়া যায়, প্রকৌশল কলেজ থেকে প্রকৌশলী ঠিক তেমনি একজন মানুষের সাহচর্যে থেকে পাশ করতে পারলে মানুষ হওয়া যায়। 

প্রশ্নঃ- তাহলে তো পৃথিবীর সর্বত্র যেখানে তাকাই মানব দেখতে পাই, মানুষ কোথায় ??
উত্তরঃ- পৃথিবীর সবচেয়ে দামী খনিজ পাথর হীরা। এই হীরা যেমন পাওয়া যায় কয়লা খনিতে তেমনি এই মানব সম্প্রদায়ের মাঝে লুকিয়ে আছে সেই প্রকৃত মানুষ। 

প্রশ্ন- মানুষ চেনার উপায় কি ??
উত্তরঃ যিনি নিজের মোহ, মায়া, হিংসা-বিদ্ধেষ, ক্রোধ ইত্যাদি মানবিয় দোষ দমন করতে পেরেছেন এবং নিজের আমিত্মকে বিলীন করতে পেরেছেন সর্বপরি যাকে দেখলেই স্রষ্টার কথা স্বরন হয় তিনিই মানুষ।

প্রশ্নঃ- তাহলে বুঝা যাচ্ছে মুসলমান হওয়ার আগে নিজেকে মানুষ হতে হবে??
উত্তর- হ্যঁ, মুসলমান হওয়ার পূর্ব শর্ত হচ্ছে নিজেকে মানুষ রুপে তৈরী করা।

প্রশ্নঃ- বর্তমান পৃথিবীতে ১৫০ কোটির মতো মানব নিজেদের মুসলমান দাবী করছে, এটা কি সত্য নয় ??
উত্তরঃ- শুধুমাত্র কলেমা পড়লে বা মুসলিম রীতিনীতি পালন করলেই যে মুসলমান হওয়া যায় না, তার প্রমাণ কারবালার ময়দানে ইমাম হোসাইন (রাঃ) আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেখিয়ে গেছেন। 

ইয়াজিদ বাহিনীর ৩৭ হাজার সৈন্যকে লক্ষ করে- ইমাম বলেছিলেন, "তোমাদের মধ্যে কি একজনও মুসলমান নেই"?  অথচ সেখানে হাজার হাজার পাঞ্চেগানা নামাজি ও হাফেজ ছিল।

এতে কি প্রমাণ হয়না যে, শুধুমাত্র মুসলমান হুকুম-আহকাম পালন করলেই মুসলমান হওয়া যায় না !!

আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে "আমার কথাগুলো এত প্রেম ও ভক্তির সঙ্গে পড়েছেন, এ জন্য আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ প্রকাশ করছি, কেন না এই ধরনের কথতাবার্তা প্রেম ও ভক্তির সঙ্গে পড়া অত্যান্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এবং শেষে সকলের ভেতরের পরম আত্মাকে ভক্তি ও শ্রোদ্ধা করছি, আমার ভক্তি ও শ্রদ্ধা দয়া করে গ্রহণ করুন। 



Sunday, March 7, 2021

দুনিয়া কাঁপানো মুসলিম আবিষ্কারক - Muslim



দুনিয়া কাঁপানো মুসলিম আবিষ্কারক।

মুসলিম সভ্যতার ক্রমবিকাশে মুসলিম মনীষীদের অবদান অবিস্মরণীয়। যুগ যুগ ধরে গবেষণা ও সৃষ্টিশীল কাজে তাঁদের একাগ্রতা প্রমাণিত। বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণা সভ্যতার বিকাশকে করেছে আরও গতিশীল। রসায়ন, পদার্থ, জীববিজ্ঞান, কৃষি, চিকিৎসা, জ্যোতির্র্বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস সর্বত্র ছিল তাঁদের অগ্রণী পদচারণা। বহু মুসলিম বিজ্ঞানী দিগন্ত উন্মোচনকারী আবিষ্কার করে গোটা বিশ্বের চেহারাই বদলে দিয়েছেন। সেসব আবিষ্কার ও গবেষণার আধুনিকীকরণ ঘটেছে, তার সুফল ভোগ করছে আজকের বিশ্ববাসী। দুনিয়া কাঁপানো মুসলিম আবিষ্কারকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনকে নিয়ে আজকের রকমারি-

জাবির ইবনে হাইয়ানঃ

মুসলিম বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ান আল-আজদি আস সুফি আল-ওমাবি। আরবের দক্ষিণাংশের বাসিন্দা আজদি গোত্রের হাইয়ান ছিলেন তাঁর পিতা। চিকিৎসক পিতার সন্তান হলেও সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে উমাইয়া খলিফা তাঁর পিতাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করলে বাল্যকালে তিনি চরম দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হন। শৈশবে কুফায় বসবাস করলেও পিতার মৃত্যুর পর তিনি দক্ষিণ আরবে স্বগোত্রে ফিরে আসেন। কুফায় বসবাসের সময় তিনি রসায়ন শাস্ত্র গবেষণায় বিশেষ মনোযোগী হন। ওই পরিপ্রেক্ষিতে কুফায় একটি রসায়ন গবেষণাগারও প্রতিষ্ঠা করেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা ওই গবেষণাগারকে পৃথিবীর প্রথম রসায়নাগার বলে অভিহিত করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনিই প্রথম বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে রসায়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়াগুলো চর্চা করার উপায় উদ্ভাবন করেন। রসায়ন শাস্ত্রের পাশাপাশি তিনি চিকিৎসা, খনিজ পদার্থ বিশেষত পাথর, দর্শন, যুদ্ধবিদ্যা, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে অবদান রাখেন। তিনি প্রায় ২ হাজার বই রচনা করেন। এর মধ্যে চিকিৎসা বিষয়ে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৫০০।

আল বিরুনিঃ

পারস্যের মুসলিম মনীষী আবু রায়হান আল বিরুনি। তিনি জীবনের বেশির ভাগ সময়ই কাটিয়েছেন মধ্য এশিয়ায়। ২০ বছর বয়সে তিনি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ শুরু করেন। তিন বছর ধরে তিনি গোটা পারস্য চষে বেড়ান এবং বিভিন্ন পন্ডিতের অধীনে পড়ালেখা করে নানা বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। ৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি জুরজানে (বর্তমানে ‘গুরগান’, উত্তর ইরানের একটি শহর) স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। জীবনের পরবর্তী ১০ বছর তিনি উত্তর ইরানের এই ছোট্ট শহরেই বসবাস করেন। নিজের গবেষণা চালিয়ে যান, বই লিখেন এবং জ্ঞানার্জনে রত থাকেন। আল-বিরুনি ভূবিদ্যার একজন পথিকৃৎ। তিনি শতাধিক বিভিন্ন ধরনের ধাতু এবং রতœপাথর সংগ্রহ করে সেগুলো পরীক্ষা করেন। একাদশ শতাব্দীতে আল বিরুনি তাঁর বর্ণময় কর্ম এবং বিভিন্ন বিষয়ের গবেষণায় নতুন ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেন। তিনি আবিষ্কার করেন কীভাবে পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান।

স্থিতিবিদ্যা এবং গতিবিদ্যাকে একীভূত করে বলবিদ্যা নামক গবেষণার নতুন ক্ষেত্রের প্রবর্তন করেন।

ইবনে সিনাঃ

৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বোখারা শহরে জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও দার্শনিক আবু আলি সিনা। বোখারা শহরটি সে সময় ছিল ইরানের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে সিনা তাঁর দর্শন চর্চা করেছেন, বিজ্ঞান চর্চা করেছেন, জোতির্বিজ্ঞান থেকে শুরু করে যুক্তিবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, অঙ্ক ইত্যাদি সব জ্ঞান চর্চা করেছেন। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে সমকালীন জ্ঞানী-গুণী, চিকিৎসক এবং মনীষীদের পড়িয়েছেন। ফলে সহজেই বোঝা যায় তিনি ছিলেন সে সময়কার সবচেয়ে বড় চিকিৎসক। কথিত আছে, ইবনে সিনা যখন ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়তেন তখন অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো তাঁর মানসপটে স্বপ্নের মতো ভাসত। তাঁর জ্ঞানের দরজা খুলে যেত। ঘুম থেকে উঠে তিনি সমস্যার সমাধান করে ফেলতেন! একজন বিখ্যাত চিকিৎসক হিসেবে সর্বত্র তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি আল মুজমুয়া নামে একটি বিশ্বকোষ রচনা করেন। এর মধ্যে গণিত ছাড়া সব বিষয় লিপিবদ্ধ করেন। ইবনে সিনা পদার্থবিজ্ঞান, দর্শন, ধর্মতত্ত্ব, জ্যামিতি, গণিত, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য প্রভৃতি বিষয়ে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ে পৃথিবীর সেরা চিকিৎসক।

ওমর খৈয়ামঃ

অনেক ইতিহাসবিদের মতে, সুলতান মাহমুদের মৃত্যুর কিছু আগে ওমর খৈয়াম জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ওমর খৈয়ামের শৈশবের কিছু সময় কেটেছে অধুনা আফগানিস্তানের বলখ শহরে। সেখানে তিনি খোরাসানের অন্যতম সেরা শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত ইমাম মোয়াফেফক নিশাপুরীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। দিনে জ্যামিতি ও বীজগণিত পড়ানো, সন্ধ্যায় মালিক-শাহর দরবারে পরামর্শ প্রদান এবং রাতে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার পাশাপাশি জালালি বর্ষপঞ্জি সংশোধন সবটাতে তাঁর নিষ্ঠার কোনো কমতি ছিল না। জীবদ্দশায় ওমরের খ্যাতি ছিল গণিতবিদ হিসেবে। তিনি প্রথম উপবৃত্ত ও বৃত্তের ছেদকের সাহায্যে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান করেন। ওমরের আর একটি বড় অবদান হলো ইউক্লিডের সমান্তরাল স্বীকার্যের সমালোচনা যা পরবর্তী সময়ে অ-ইউক্লিডীয় জ্যামিতির সূচনা করে। ১০৭০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর পুস্তক মাকালাত ফি আল জার্ব আল মুকাবিলা প্রকাশিত হয়। এই পুস্তকে তিনি ঘাত হিসেবে সমীকরণের শ্রেণিকরণ করেন এবং দ্বিঘাত সমীকরণের সমাধানের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করেন। ওমর খৈয়াম জ্যোতির্বিদ হিসেবেও সমধিক পরিচিত ছিলেন।

আল ফারাবিঃ

মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিক আল ফারাবির আসল নাম আবু নাসের মোহাম্মদ ইবনে ফারাখ আল ফারাবি। আল ফারাবির পিতা ছিলেন উচ্চশিক্ষিত এবং সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁর পূর্বপুরুষরা ছিলেন পারস্যের অধিবাসী। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও রাজনৈতিক কারণে তাঁর পূর্বপুরুষরা পারস্য ত্যাগ করে তুর্কিস্তানে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ফারাবায়। সেখানে কয়েক বছর শিক্ষালাভের পর অধিকতর শিক্ষার উদ্দেশ্যে চলে যান বোখারায়।

এরপর উচ্চ শিক্ষালাভের জন্য তিনি গমন করেন বাগদাদে। সেখানে তিনি সুদীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর অধ্যয়ন ও গবেষণা করেন। জ্ঞানের অন্বেষণে তিনি ছুটে গেছেন দামেস্ক, মিসর এবং দেশ-বিদেশের আরও বহু স্থানে। পদার্থবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, দর্শন, যুক্তিশাস্ত্র, গণিতশাস্ত্র, চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রভৃতিতে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে বিজ্ঞান ও দর্শনে তাঁর অবদান ছিল সর্বাধিক। পদার্থবিজ্ঞানে তিনিই ‘শূন্যতার’ অবস্থান প্রমাণ করেছিলেন। দার্শনিক হিসেবে ছিলেন নিয় প্লেটনিস্টদের পর্যায়ে বিবেচিত।

আল বাত্তানিঃ

৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মেসোপটেমিয়ার অন্তর্গত বাত্তান নামক স্থানে আল বাত্তানি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন অঙ্কশাস্ত্রবিদ এবং একজন জ্যোতির্বিদ। তিনিই সর্বপ্রথম নির্ভুল পরিমাপ করে দেখিয়েছিলেন যে, এক সৌর বছর ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে হয়। তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, সূর্যের আপাত ব্যাসার্ধ বাড়ে ও কমে। সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ সম্বন্ধেও তাঁর বক্তব্য ছিল সুস্পষ্ট। আল বাত্তানি তাঁর নিজস্ব উদ্ভাবিত যন্ত্র দিয়ে প্রমাণ করে দিলেন যে, সূর্য তার নিজস্ব কক্ষপথে গতিশীল। এই মহান মনীষী ৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ৭২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।

আল বাত্তানি ছিলেন একজন মশহুর জ্যোতির্বিদ এবং গণিতজ্ঞ। তিনি জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার জন্য নিজস্ব মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বহু বছর ধরে জ্যোতির্বিদ্যায় প্রচলিত ভুলগুলো সংশোধন করে এই শাখার অনেক সংস্কার ও উন্নতিসাধন করেন। পাশ্চাত্য ইতিহাসবিদরা তাঁকে উল্লেখ করেছেন ‘আল বাতেজনিয়াজ’, ‘আল বাতেজনি’, ‘আল বাতেনিয়াজ’ ইত্যাদি নামে। তাই তাঁর পরিচয় অনেকটাই ইতিহাসে হারিয়ে যেতে বসেছে।

মুসা আল খাওয়ারিজমিঃ

তাঁর পুরো নাম আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারিজমি। সোভিয়েত রাশিয়ার আরব সাগরে পতিত আমু দরিয়ার কাছে একটি দ্বীপে আনুমানিক ৭৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাটিগণিত, বীজগণিত, ভূগোল, জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যামিতিতে প্রভূত ভূমিকা রাখেন। তবে মূলত বীজগণিতের জন্যই তিনি সবচেয়ে আলোচিত হন। তাঁর ‘আল জিবর ওয়াল মুকাবিলা’ বই থেকে জানা যায়, তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম। খলিফা মামুনের বিশাল লাইব্রেরিতে আল খাওয়ারিজমি চাকরি গ্রহণ করেন। এখানেই সম্ভবত তিনি বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। অসীম ধৈর্যসহকারে অধ্যয়ন করে তিনি বিজ্ঞানের যাবতীয় বিষয়ের সঙ্গে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি ছিলেন একজন জগদ্বিখ্যাত গণিতবিদ। তাঁর সময়ের গণিতের জ্ঞানকে তিনি এক অভাবনীয় সমৃদ্ধতর পর্যায়ে নিয়ে যান।

গণিতবিদ হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন একজন উল্লেখযোগ্য জ্যোতির্বিদ। ভূগোল বিষয়ে তাঁর প্রজ্ঞা উৎকর্ষতাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন বীজগণিত তথা অ্যালজেবরার জনক। তিনি প্রথম তাঁর একটি বইয়ে অ্যালজেবরার নাম উল্লেখ করেন। বইটির নাম হলো ‘আল জাবর ওয়াল মুকাবিলা’।

তিনি বিজ্ঞানবিষয়ক বহু গ্রিক ও ভারতীয় গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদ করেন। পাটিগণিত বিষয়ে তিনি একটি বই রচনা করেন, যা পরে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়। তাঁর হাতেই বীজগণিত পরবর্তী সময়ে আরও সমৃদ্ধতর হয়। বর্তমান যুগ পর্যন্ত গণিত বিদ্যায় যে উন্নয়ন এবং এর সহায়তায় বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যে উন্নতি ও আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে তার মূলে রয়েছে আল খাওয়ারিজমির উদ্ভাবিত গণিত বিষয়ক নীতিমালারই বেশি অবদান। তাঁর রচিত বই ‘কিতাব আল জিবর ওয়াল মুকাবিলা’ থেকে বীজগণিতের ইংরেজি নাম অ্যালজেবরা উৎপত্তি লাভ করে।

বিজ্ঞানের সব শাখায় তাঁদের বিচরণ

আল বলখিঃ

মুসলিম জোতির্বিদদের অগ্রগতি ছিল প্রশ্নাতীত। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানেই মুসলিম জোতির্বিদদের সাফল্যের খোঁজ মিলেছিল। তাঁদেরই একজন জাফর ইবনে মুহম্মদ আবু মাশার আল বলখি। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত পার্সিয়ান জ্যোতির্বিদ, দার্শনিক, গণিতবিদ। তিনি আল ফালাকি, আবুল মাসার, ইবনে বলখি নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর কাজ এখনো প্রশংসনীয়।

আল কিন্দিঃ

আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল কিন্দি ছিলেন কোরআন শরিফ, হাদিস শরিফ, ফিকাহশাস্ত্র, ইতিহাস, দর্শন, ভাষাতত্ত্ব, রাজনীতি, গণিতশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা প্রভৃতি নানা বিষয়ে বিশারদ। তিনি ছিলেন গ্রিক, হিব্র“, ইরানি, সিরিয়াক এমনকি আরবি ভাষাতেও ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন। তিনি নানা বিষয়ে ২৬৫ খানা গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর বইগুলো এখনো বহুল পঠিত।

আল সাইগঃ

প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ, যুক্তিবিদ, দার্শনিক, পদার্থবিদ, মনোবিজ্ঞানী, কবি এবং বিজ্ঞানী আবু বকর মুহম্মদ ইবনে ইয়াহিয়া ইবনে আল সাইগ।

তবে তিনি ইবনে বাজ্জাহ নামে বেশি পরিচিত। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। উদ্ভিদবিদ হিসেবেও তাঁর সুনাম ছিল। আল সাইগের কবিতাগুলোও প্রশংসাযোগ্য। তাঁর বিখ্যাত বই ‘কিতাব আল নবত’।

ইবনে হাইছামঃ

প্রখ্যাত পদার্থবিদ, জ্যোতির্বিদ, প্রকৌশলী, গণিতবিদ, চিকিৎসাবিদ, দার্শনিক, মনোবিজ্ঞানী আবু আলী আল হাছান ইবনে আল হাছান আল ইবনে হাইছাম। তিনি বসরায় জন্মগ্রহণ করায় আল বসরি নামেও পরিচিত।

আলোকবিজ্ঞানে অসামান্য সংযোজন ‘কিতাবুল মানাজির’-এর ১৫-১৬ অধ্যায়ে জ্যোতির্বিদ্যার আলোচনা রেখেছেন। এ ছাড়া তাঁর ‘মিযান আল-হিকমাহ’ এবং ‘মাক্বাল ফি দ্য আল-ক্বামার’ গ্রন্থদ্বয়ে তিনি সর্বপ্রথম গাণিতিক জ্যোতির্বিদ্যা এবং পদার্থবিদ্যার সমন্বয় সাধনের চেষ্টা চালান।

আল-রাযিঃ

আবু বকর মোহাম্মদ ইবন যাকারিয়া আল রাযি বা আল-রাযি। তিনি ৮৪১ খ্রিস্টাব্দে ইরানের তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন। রাযি ছিলেন একজন দক্ষ পার্সিয়ান চিকিৎসক এবং দার্শনিক। তিনি চিকিৎসাবিদ্যা, আল-কেমি, পদার্থবিদ্যা এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর ১৮৪ টিরও বেশি বই লিখেছেন। তিনি সালফিউরিক অ্যাসিড আবিষ্কার করেন।

তিনি ইথানল উৎপাদন, বিশোধন ও চিকিৎসায় এর ব্যবহার প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন। তিনি একজন বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন। তিনি বহু দেশ ভ্রমণ করেন।

বানু মুসাঃ

বানু মুসাকে বলা হয় জোতির্বিদদের মধ্যে বিস্ময়কর একজন। কারণ আর কিছুই নয়, তাঁর সময়ে তিনি যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন তা এককথায় অবিশ্বাস্য। নবম শতকে বাগদাদের তিন মনীষীর একজন ছিলেন তিনি। এই তিনজনকে একত্রে বলা হতো মেশিনারি জগতের বিস্ময়। তাঁরা পরিমাপক যন্ত্রের উৎকর্ষ সাধন করেছিলেন। ভিত্তি স্থাপনেও আধুনিকায়ন করেন তাঁরা।

ইবনুন নাফিসঃ

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও আইনশাস্ত্রে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। ইবনুন নাফিস মানবদেহে রক্তসঞ্চালন পদ্ধতি, ফুসফুসের সঠিক গঠন পদ্ধতি, শ্বাসনালি, হৃৎপিন্ড, শরীরের শিরা-উপশিরায় বায়ু ও রক্তের প্রবাহ ইত্যাদি সম্পর্কে বিশ্বের জ্ঞানভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেন। তিনি মানবদেহে রক্ত চলাচল সম্পর্কে গ্যালেনের মতবাদের ভুল ধরেছিলেন এবং এ সম্পর্কে নিজের মতবাদ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন।

আল বেতরুগিঃ

নুর আদ-দীন ইবনে ইসহাক আল বেতরুগি। তিনি ইসলামী স্বর্ণযুগে মরক্কোয় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনী খুব বেশি জানা যায়নি। তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ। তিনি ‘স্লেশিয়াল মোশন’ নিয়ে যুগান্তকারী মতবাদ দিয়েছিলেন। তাঁর সীমাবদ্ধতা থাকার পরও তিনি প্লেনটারি মোশন নিয়ে নিজস্ব থিউরি প্রদান করেছিলেন, যা এখন ঠিক।

তানভীর আহমেদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ০৫ই মার্চ ২০২১
©️Pappu Chowdhury

Saturday, March 6, 2021

হযরত মওলানা শাহছুফি ছৈয়দ আব্দুল মালেক শাহ (ক.) রাহে ভান্ডারীর চন্দ্রবার্ষিকী ওরছে বেছালী - URS-E-Wesali - 22th Rajab 1442



আসসালামু আলাইকুম,

আশেকানে গাউছুল আজম রাহে ভান্ডারী (ক.)
রাহে ভান্ডার ছুফি শিল্পী পরিষদের পক্ষ হতে সকলের প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ।
মাইজভান্ডারে আধ্যাত্ব শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা হুজুর গাউছুল আজম শাহছুফি মৌলানা ছৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) মাইজভান্ডারী'র (অজুদী বেলায়তী ধারা) " রাহে ভান্ডার তরিকা" এর প্রবর্তক দুলহায়ে হযরত ছাহেবে অজুদুল কোরআন, শাহছুফি মৌলানা ছৈয়দ ছালেকুর রহমান শাহ (ক.)'র বেলায়তী ধারার পূর্ণাঙ্গ উত্তরাধিকারী, সুলতানুল আরেফিন, আজাদে মোজাদ্দেদে জামান, শাহছুফি মৌলানা ছৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শাহ (ক.) রাহে ভান্ডারী'র চন্দ্রবার্ষিকী “ওরছে বেছালী” চট্টগ্রাম দরবার শরীফ-রাঙ্গুনিয়া রাহে ভান্ডার খানকাহ শরীফ-রাহে ভান্ডার তরুণ আশেকান পরিষদ (রাতআপ) রাঙ্গুনিয়া শাখার আয়োজনে
আগামী ২২ রজব ১৪৪২ হিজরি, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭ বাং, ০৭ মার্চ ২০২১ ইং, রবিবার চট্টগ্রাম দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান মেহমানের আসন অলংকৃত করবেন- রাহে ভান্ডার দর্শনের মহান দীক্ষাগুরু, মোজাদ্দেদে তরিকত, মওলা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মা.)।
অত্র মহামিলন ক্ষণে সকলের উপস্থিতি বিনীতভাবে কামনা করছি।

নিবদকঃ
ছৈয়দ মশফিকুর রহমান ফয়সাল
নায়েবে মোন্তাজেম, চট্টগ্রাম দরবার শরীফ
সভাপতি, রাহে ভান্ডার ছুফি শিল্পী পরিষদ।





ওরছে বেছালী
Urs-e-Wesali
Holy Urs Sharif


Our🔎 Facebook

Wednesday, March 3, 2021

চরণদ্বীপে চেহলাম শরীফে ছুফি ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মা.)

চরণদ্বীপে চেহলাম শরীফে ছুফি ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মা.)

১৮তম মহাত্মা সম্মেলন - 18th Universal Sufi Festival 2021



❝Universal Sufi Festival❞
❝মহাত্মা সম্মেলন❞
(মহাত্মাগণের আত্মার আত্ম সংলাপ)

তারিখ: ৭ চৈত্র ১৪২৭ বাংলা,
২১ মার্চ ২০২১ ইংরেজী, রবিবার।

স্থান- বঙ্গবন্ধু হল, প্রেস ক্লাব, জামাল খান, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।



Facebook Page🔎: Universal Sufi Festival 


আসসালামু আলাইকুম !!!
চট্টগ্রাম দরবার শরীফের পক্ষ হতে সকলের প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ। সুদীর্ঘ অর্ধ শতাব্দীরও অধিক কাল পূর্ব, চট্টগ্রাম বোয়ালখালী পৌরসভার অন্তর্গত প. কধুরখীল গ্রামে এ দরবার প্রতিষ্ঠিত হয়।
মাইজভান্ডারে আধ্যাত্ব শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা হুজুর গাউছুল আজম শাহছুফি মৌলানা ছৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) মাইজভান্ডারী'র (অজুদী বেলায়তী ধারা) " রাহে ভান্ডার তরিকা" এর প্রবর্তক দুলহায়ে হযরত ছাহেবে অজুদুল কোরআন, শাহছুফি মৌলানা ছৈয়দ ছালেকুর রহমান শাহ (ক.)'র বেলায়তী ধারার পূর্ণাঙ্গ উত্তরাধিকারী, সুলতানুল আরেফিন, আজাদে মোজাদ্দেদে জামান, শাহছুফি মৌলানা ছৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শাহ (ক.) অত্র দরবারের গোড়া পত্তন করেন।
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আদর্শ মানব সমাজ গঠন কল্পে উম্মতে মোহাম্মদী (ক.) এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা সাধনের লক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় আগামী ০৭ চৈত্র ১৪২৭ বাং, ২১ মার্চ ২০২১ ইং, রবিবার- রাহে ভান্ডার দর্শনের মহান দীক্ষাগুরু, মোজাদ্দেদে তরিকত, মওলা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মা.) এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে "মহাত্মা সম্মেলন" সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
অত্র অনুষ্ঠানে দেশ বরেণ্য বিভিন্ন পীর মাশায়েখ ও সূধীজন উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
সার্বজনীন এই মহতী উৎসবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকলের উপস্থিতি বিনীতভাবে কাম্য।
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস অনাগত দিনের অযুত উত্তম কর্মের প্রেরণা যোগাবে আপনাদের উপস্থিতি। অনুষ্ঠানস্থলে আপনার শুভ পদার্পন আমাদের আয়োজনকে করবে অধিক সমৃদ্ধ ও প্রাণময়। আমিন!



Facebook ID🔎: SHAHAB UDDIN


নিবদকঃ
ছৈয়দ মশিউর রহমান রাহাত
খাদেমুল ফ্বোকরা, রাহে ভান্ডার
নায়েবে মোন্তাজেম, চট্টগ্রাম দরবার শরীফ
সমন্বয়ক, মহাত্মা সম্মেলন উদযাপন পরিষদ ২০২১



18th Universal Sufi Festival
#21March2021

#Sufism
#RaheBhanderSilsila
#ChattogramDarbarSharif 
#Chattogram #Bangladesh 

Brommando - The Earth: যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেহ ভাণ্ডে।

Brommando - The Earth: যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেহ ভাণ্ডে। : দেহের মাঝে এঁটে রয় ব্রহ্মাণ্ড বিশাল উপরেতে আকাশ রহে নিচেতে পাতাল এর গভ...