Thursday, March 18, 2021

কবরের আজাব (প্রচলিত মত) বলে কিছু নেই"



"কবরের আজাব (প্রচলিত মত) বলে কিছু নেই"

কবি নজরুল বলেছেন: "আমার বিশ্বাস আত্মার তৃপ্তিই স্বর্গ সুখ, আর আত্মার প্রবঞ্চনার পীড়াই নরক যন্ত্রণা"।
আসলে স্বর্গ ও নরক সম্পর্কে আমাদের সমাজে যে সমস্ত কিচ্ছা কাহিনী বদ্ধমূল আছে, এর সকলই মিথ্যা ও কাল্পনিক ধারণা মাত্র । কোরান হাদিসের রূপক ভাষাকে বুঝতে না পারার দরুণ ধর্ম জগতে এসব মিথ্যাচার ঢুকে পড়েছে; তবে এর জন্য জাল হাদিসও বেশ দায়ী । কবর-আজাব সম্বন্ধেও কিছু আজগুবি ধারণা সমাজে বদ্ধমূল রয়েছে । মূলত ধর্ম-গ্রন্থে কবর-আজাব বলতে জীবন্ত দেহের আজাবকেই বুঝানো হয়েছে । মানব দেহটাই মূলত কবর । দুঃখ-কষ্ট সব এখানেই ভোগ করতে হয় । তাই সুফিরা বলে থাকেন: "আমরা দুজোখে যাবো না, বরং আছি"!!

এক জনমে মুক্তি অর্জন হয় না বলে পূণর্জন্মের ব্যবস্থা রয়েছে, এক জনমে ফলভোগ শেষ হয় না বলে জন্মান্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; তাই বুদ্ধের বার্তা: "বারবার জন্মই দুঃখ"!!
যদি কবরেই সাজা প্রদান করা হতো তাহলে মানুষের পার্থিব দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হতো না, এবং জীবন্ত দেহে এই দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-যন্ত্রণা ভোগের ইত্যাদি পীরাদায়ক ব্যবস্থার কোন প্রয়োজন ছিল না, যেহেতু কবরে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ।

এজিদী ইসলামের দুর্দন্ডপ্রতাপে মুনি-ঋষিগণ এ কথাগুলোকে খোলামেলাভাবে বলে যেতে পারেন নি । তবে সাধক শাহ আব্দুল করিম অতি কৌশলে কিছু বলতে চেয়েছেন:
"দোষ করিলে বিচার আছে,
সেই ব্যবস্থা রয়েগেছে,
দয়া চাই না তোমার কাছে,
আমরা উচিৎ বিচার চাই;
দোষী হইলে বিচারে,
সাজা দিবা কবরে,
(কিন্তু)এখন মারো অনাহারে,
কোন বিচারে জানতে চাই ?
জিজ্ঞাস করি তোমার কাছে বলো ওগো সাঁই"!!

আসলে কবর আজাব বলে কিছু নেই, জীবন্ত দেহের আজাবই কবর-আজাব । যদি জীবন্ত দেহের আজাবকে কবর-আজাব বলে অস্বীকার করা হয়, তাহলে সেই সমস্ত মানুষগুলোর কবর-আজাব কোথায় হয় যাদেরকে কবরে দেয়া হয় না, অর্থাৎ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় যাদের মৃত্যু ঘটে ???

ইশারা ইঙ্গিত-২ :

"কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক কে বলে তা বহুদূর,
মানুষের মাঝেই স্বর্গ-নরক মানুষেতে সুরাসুর"।।

 'কবর-আজাব' (প্রচলিত মত) একটি ভ্রান্ত ধারণা। 

এ কথা বলা হচ্ছে না যে, কবরের আজাব বলে কিছু নেই; অবশ্যই কবর আজাব রয়েছে, কিন্তু সে আজাব মৃতদেহে মাটির গর্তে নয় বরং জীবন্ত দেহে । মৃত দেহ পাপ পুণ্য কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না, তাই তার শাস্তিও থাকে না । মানুষ পাপ-পুণ্য করে জীবন্ত দেহে, সে কারণে কর্মফলটাও ভোগ করতে হয় এই জীবন্ত দেহেই , মৃতদেহে নয় ।

দেহটা আত্মার পোশাক, পোশাকের জেল জরিমানা হয় না । মৃত্যুর পর মানুষের আত্মা নতুন দেহে প্রবেশ করে । আত্মা পুরাতন পোশাক তথা পুরাতন দেহ পরিবর্তন করে কর্ম অনুযায়ী আরেকটি নতুন দেহে বা নতুন গৃহে ঢুকে পড়ে । কর্ম অনুসারে অপরাধীকে পূণরায় নতুন দেহে জন্ম দেয়ার মাধ্যমেই আজাব তথা শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাকে পুণর্জন্মবাদ তথা জন্মান্তরবাদ বলা হয় ।

যদি তাই না হবে, তাহলে কর্মের আগেই কেন শিশুর হাতে কর্মফল ধরিয়ে দেয়া হয়? জন্ম-কানা, জন্ম-বোবা, জন্ম-ল্যাংড়া শিশুটি কখন কর্ম করলো? সে তো সবে মাত্র জন্মালো !! সেই নবজাতক পাপের কর্মটি কখন করলো, যার ফলে পৃথিবীতে আগমনের পূর্বেই কর্মফল স্বরূপ মাতৃগর্ভেই তার হাত-পা-চক্ষু কেড়ে নেয়া হলো? কেন দুনিয়াতে তার কর্ম শুরু করার আগেই সেই নিষ্পাপ নবজাতকের কাধে কর্মফল ঝুলিয়ে দেয়া হলো? তাকে তো ভাল মন্দ কোনকিছু করার সুযোগই দেয়া হয় নি, সে তো মাত্র ভূমিষ্ঠ হলো, তাহলে কর্মের আগেই শিশুকে কর্মফল ভোগ করতে হবে কেন ? তার কি অপরাধ ছিল ? আর সে অপরাধটা করেছেই বা কখন ?

এটাকে পিতা মাতার কর্মফল বলেও উড়িয়ে দেবার সুযোগ নেই, কারণ আল্লাহ বলেছেন: আমি একজনের কর্মফল আরেকজনের কাধে অর্পণ করি না । এটাকে খোদার ইচ্ছা বা তকদির বলেও এড়িয়ে যাবার পথ নেই যেহেতু ঐশীগ্রন্থ স্বাক্ষ্য দেয়- "বিধাতা ন্যায় বিচারক ও মহা নিরপেক্ষ; তিনি কারো উপর জুলুম বা নির্যাতন করেন না"।

আল্লাহ মহা নিরপেক্ষ- কোরানের এ কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে এখানে খোদার নিরপেক্ষতা রইল কিভাবে- যখন কিছু শিশু জন্মায় পাঁচতলায় সোনার চামচ মুখে, অপরদিকে কিছু শিশু জন্মায় গাছতলার বস্তিতে? এই তারতম্যের জন্য তারা পাপ অথবা পুণ্য কর্মটা কখন করলো, যার জন্য দুজন দুই মেরুতে ? উপমায়, ইমাম হোসাইন কি পুণ্য করেছে যার জন্য সে মওলা আলীর ঔরসে, আর ইয়াজিদ কি পাপ করেছে যে, সে শয়তান মুয়াবিয়ার ঔরসে ? তারা উভয়ের কর্ম বৃত্ত কখন, কোন পৃথিবীতে সংঘঠিত হলো ? প্রকৃতপক্ষে পুণর্জন্মবাদ তথা জন্মান্তরবাদকে গ্রহণ করলে সকল হিসেব অংকের মত মিলে যেতে বাধ্য, সকল জিজ্ঞাসার অবসান হতে বাধ্য । যে শিশু জন্মের সাথে সাথেই দেহ আজাব ভোগ করছে এটা তার গত জনমের তথা পূর্ব অর্জিত কর্ম ফল । মূলত কোরানের এই জন্মান্তরবাদকে মুছে ফেলতে গিয়েই এজিদ-বাহিনীর ধর্ম-ডাকাতেরা কবর আজাবের আমদানী করেছে, জাল হাদিস রচনা করেছে এবং ঐশী গ্রন্থে বর্ণীত জীবন্ত দেহের আজাবকেই মাটির কবর-আজাব বলে চালিয়ে দিয়েছে ।।

চলবে...®


No comments:

Brommando - The Earth: যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেহ ভাণ্ডে।

Brommando - The Earth: যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেহ ভাণ্ডে। : দেহের মাঝে এঁটে রয় ব্রহ্মাণ্ড বিশাল উপরেতে আকাশ রহে নিচেতে পাতাল এর গভ...