Monday, July 27, 2020

"শেরে খোদা হযরত মওলা আলী (আঃ) - রাজত্বকাল: ৬৫৬–৬৬১ [১]'' " Hazrat Imam Ali (As) - Reign: 656–661[1]"

শেরে খোদা হযরত মওলা আলী (আঃ)
রাজত্বকাল ৬৫৬–৬৬১[১]

Sher-e-Khoda Hazrat Mo
ula Ali (AS) - Reign: 656–661[1]

পূর্ণ নাম আলী ইবনে আবু তালিব
উপাধি হাসানের পিতা (আরবি: আবু আল-হাসান)
ধূলিকণা/মাটির পিতা (আরবি: আবু তুরাব)
Murtadha ("একজন যিনি নির্বাচিত এবং সন্তুষ্ট")
আল্লাহর সিংহ (আরবি: আসাদ-ullah)
সিংহ (আরবি: হায়দার)[১]
প্রথম আলী
জন্ম অক্টোবর ২৩, ৫৯৮,[২]মার্চ ১৭, ৫৯৯ or মার্চ ১৭, ৬০০[১]
Mecca[১]কা'বা ঘরে জন্মগ্রহনকারী বিশ্বের একমাত্র মহাপুরুষ হযরত মওলা আলী (কর.)

মৃত্যু জানুয়ারি ২৮, ৬৬১ (৬২ বছর)
Kufa[১]

Buried Imam Ali Mosque, Najaf, Iraq

পূর্বসূরী Uthman Ibn Affan (as Sunni Islam Caliph); Muhammad (as Shi'a Imam)

উত্তরসূরী হাসান[৩]

Wives ফাতিমা[১]
Fatima bint Hizam al-Qilabiyya ("Ummu l-Banin")
Offspring হাসান
Husayn
Zaynab
(See:[[Descendants of Ali ibn Abd Munāf]])

পিতা Abd Munāf ibn ‘Abd al-Muttalib

মাতা Fatima bint Asad
হযরত আল (রাঃ) এর শানে আল কোরআনের বাণী

সুরা মায়েদা,আয়াত# ৩
“আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পরিপুর্ন করিয়া দিলাম। তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সম্পন্ন করিলাম।আর তোমাদের জন্য ইসলামকে পরিপুর্ন দ্বীন হিসাবে মনোনীত করিলাম।“
গাদীরে খুমে যখন রাসুল(সাঃ) হযরত আলীকে খেলাফত ও ইমামতের উপর সরাসরি নিজের স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করিলেন তখন এই আয়াত পাক নাজিল হইলো।আল্লাহর রাসুল(সাঃ) ফরমাইলেনঃখোদা পাক অতি মহান এবং প্রশংসার যোগ্য যিনি দ্বীনকে পরিপুর্ন করিলেন,নিজের অবদানকে সপুর্ন করিলেন।আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি হইলো আমার রেসালাতের উপর ও আমার পর আলীর বেলায়েতের উপর।(তাফসীরে ইবনে কাসীর,২য় খন্ড,পৃঃ১৪; দুররুল মানসুর,২য় খন্ড,পৃঃ২৫৯;আল-বিদায়া ওয়ান নেহায়া,৫ম খন্ড,পৃঃ২১০;রুহুল মায়ানি,২য় খন্ড,পৃঃ২৪৯;আল-গাদীর,১ম খন্ড,পৃঃ২৩০;আল-মুরাজেয়াত,পৃঃ৫৭;শাওয়াহেদুত তানজিল,১ম খন্ড,পৃঃ১৫৬)।

সুরা নিসা,আয়াত# ৫৪
“তাহারা কি মানুষের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে সেটারই উপর যাহা আল্লাহ পাক তাহাদেরকে নিজ অনুগ্রহ থেকে দান করিয়াছেন।সুতরাং আমি তো ইব্রাহিমের বংশধরগনকে কিতাব ও হেকমাত দান করিয়াছি।“
আয়াশী বিভিন্ন রেওয়ায়েতে ইমামগন হইতে বর্ননা করিয়াছেন যে, তাঁহারা বলিয়াছেন,যাহাদের সংগে বিদ্বেষ পোষন করা হইয়াছে এই আয়াতে তাহারা হইলেন আমরাই।আল্লাহতায়ালা নিজের মেহেরবানীতে আমাদের ইমামতি দান করিয়াছেন।হযরত ইমাম বাকের(আ হইতে বর্নিত হইয়াছে যে,ইহা দ্বারা আল্লাহতায়ালার উদ্দেশ্য এই যে, তিনি ইবারহিমের বংশধর হইতে নবীগন,রাসুলগন এবং ইমামগন(১২ ইমাম) সৃষ্টি করিয়াছেন।তাহাদের ব্যাপারে সকলের নিকট হইতে শপথ গ্রহন করাইয়াছে।তিনি বলিয়াছেন যে,হযরত মুহাম্মদের বংশধরকে যেন কেহ অস্বীকার না করে।আর বিশাল সাম্রাজ্য দ্বারা ইমামত বুঝানো হইয়াছে।ইমামের আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্য।আর ইমামের আদেশ অমান্য আল্লহর আদেশ অমান্যের সমতুল্য।(সুত্রঃ তাফসীরে কুমী,১ম খন্ড,পৃঃ১০;ইয়ানাবিউল মাওয়াদ্দাহ, পৃঃ১২১;কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন, ২য় খন্ড,পৃঃ২০৪;মাজমাউল বায়ান,৩য় খন্ড,পৃঃ৬১;মুরাজেয়াত,পৃঃ৫৯; শাওয়াহেদুত তানজিল,১ম খন্ড,পৃঃ১৪৩;মানাকেবে ইবনে মাগাজেলী,পৃঃ২৬৭;সাওয়েকে মুহরেকা,পৃঃ১৫০)।
সুরা নিসা,আয়াত# ৮৩
“যদি তাহারা উহা রাসুল কিংবা তাহাদের মধ্যে যাহারা ক্ষমতার অধিকারী তাহাদের গোচরে আনিত,তবে তাহাদের মধ্যে যাহারা তথ্য অনুসন্দ্বান করে তাহারা উহার যথার্থতা নির্নয় করিতে পারিত।“
হযরত ইমাম বাকের(আঃ) ফরমাইয়াছেন যে,যাহারা বাস্তবতা জানেন আর যাহারা ক্ষমতাসম্পন্ন তাহারা হইলেন হযরত মুহাম্মাদের(সাঃ) বংশধর।
আয়াশী হযরত ইমাম রেজা(আঃ) হইতে বর্ননা করিয়াছেন যে, ইহা দ্বারা হযরত নবী করিমের(সাঃ) বংশধরকে বুঝানো হইয়াছে। কারন তাহারা হইলেন ঐ সব ব্যক্তি যাঁহারা কোরানের বাস্তব তথ্য ব্যাখ্যা করিয়া থাকেন।তাঁহারাই হালাল ও হারামের উপর অবগত হইয়াছেন।আর তাহারাই সৃষ্টির উপর আল্লাহতায়ালার হুজ্জাত বা অকাট্য প্রমানস্বরুপ।(সুত্রঃ তাফসীরে কুমী,১ম খন্ড,পৃঃ১৪৫;রাওয়ানে যাভেদ,২য় খন্ড,পৃঃ৯২;বয়ানুস সায়াদাহ,২য় খন্ড,পৃঃ৪০)।

সুরা মায়েদা,আয়াত# ৫৫
“তোমাদের বন্দ্বু তো আল্লাহ,তাঁহার রাসুল ও মু’মিনগন-যাহারা সালাত কায়েম করে ও রুকুর অবস্থায় যাকাত দেয়”।
হযরত আবু যর গিফারী(রাঃ) এইভাবে বর্ননা করিয়াছেনঃএকদিন আমি রাসুলের(সাঃ) সঙ্গে মসজিদে যোহরের সালাত আদায় করিলাম।একজন ভিক্ষুক মসজিদে আসিয়া ভিক্ষা চাহিল।কেহ তাহাকে কিছুই দিল না।ঐ ভিক্ষুক তাহার ২ হাত আকাশের দিকে উত্তোলন করিয়া বলিলঃহে ল্লাহ!আমি তোমার পয়গাম্বরের মসজিদে আসিয়া ভিক্ষা চাহিলাম,কিন্তু কেহ আমাকে কিছুই দিল না।এই সময় আলী(আঃ)সালাতে রুকুর অবস্থায় ছিলেন।তিনি নিজের আঙ্গুলের ইশারায় ভিক্ষুককে ইঙ্গিত করিলেন।হযরত আলী(আঃ)এর ডান হাতের আঙ্গুলে আংটি ছিল।ভিক্ষুকটি অগ্রসর হইয়া হযরত আলীর(আঃ) আঙ্গুলের আংটি খুলিয়া নিল।আল্লাহর রাসুল(সাঃ) এই ঘটনা দেখিয়া নিজের মাথা আকাশের দিকে ঘুরাইয়া বলিলেনঃহে আল্লাহ! হযরত মুসা(আঃ) আপনার প্রার্থনা করিয়াছিলেন যে,হে আল্লাহ আমার বক্ষ প্রসারিত করিয়া দাও আর আর আমার জাক আমার জন্য সহজ করিয়া দাও এবং আমার জিহবার জড়তা দূর করিয়া দাও যাহাতে লোকেরা আমার কথা বুঝিতে পারে।আর আমার বংশ হতে আমার ভাই হযরত হারুনকে(আঃ) সাহায্যকারী করিয়া দাও,যেন সে আমার শক্তিকে দৃঢ় করে।আমার কাজে আমার সঙ্গী করিয়া দাও।
আল্লাহতায়ালা হযরত মুসাকে(আঃ) বলিলেন,আমি তোমার ভাই দ্বারা তোমার শক্তি তোমার শক্তিকে দৃঢ় করিয়া দিলাম।তোমাকে রাজত্ব দান করিলাম।হে আল্লাহতায়ালা!আমি মুহাম্মাদ তোমার প্রিয় রাসুল।হে আল্লাহ আমার বক্ষকে প্রসারিত করুন,আমার কাজ সহজ করুন এবং আমার বংশধরকে আমার সাহায্যকারী নিযুক্ত করুন।আমার পৃষ্টকে আলী দ্বারা শক্তিশালী করুন।হযরত আবুযর গিফারী বলিলেন যে,আল্লাহর রাসুলের(সাঃ) কথা তখনো শেষ হয় নাই ,এমতাবস্থায় হযরত জিব্রাঈল(আঃ) এই আয়াতে পাক নিয়ে হুজুর (সাঃ)এর নিকট উপস্থিত হইলেন।(সুত্রঃ তাফসীরে ইবনে কাসীর,২য় খন্ড,পৃঃ৭১;তাফসীরে ত্বাবারী,৬ষ্ট খন্ড,পৃঃ১৬৫;তাফসীরে রাজী,৩য় খন্ড,পৃঃ৪৩১;তাফসীরে খাজিন,১ম খন্ড,পৃঃ৪৯৬;তাফসীরেআবুল বারাকাত,১ম খন্ড,পৃঃ ৪৯৬;তাফসীরে নিশাপুরী,৩য় খন্ড,পৃঃ৪৬১; আল-বিদায়া ওয়ান নেহায়া,৭ম খন্ড,পৃঃ৩৫৭;রুহুল মায়ানি,২য় খন্ড,পৃঃ৩২৯;আল-গাদীর,৩য় খন্ড,পৃঃ১৫৬ ও ১৬২;আল-মুরাজেয়াত,পৃঃ৫৭;শাওয়াহেদুত তানজিল,১ম খন্ড,পৃঃ১৬১ ।

সুরা মায়েদা,আয়াত# ৬৭
“হে রাসুল!পৌছাইয়া দিন যাহা কিছু আপনার প্রতি অবতীর্ন হইয়াছে আপনার প্রতি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ হইতে।যদি এমন না হয় তবে আপনি তাহার কোন সংবাদই পৌছাইলেন না।আর আল্লাহতায়ালা আপনাকে রক্ষা করিবেন মানুষের অনিষ্ট হইতে”।
সমস্ত মোফাসসের এবং ঐতিহাসিকগন একমত যে,এই আয়াত গাদীরে খুম নামক স্থানে হযরত আলী(আঃ)এর শানে নাজিল হইয়াছে।রাসুল(সাঃ) উটের পালান দ্বারা একটি মিম্বর বানানোর জন্য আদেশ দিলেন এবং সেই মিম্বরের উপর দাড়াইয়া রাসুল(সাঃ) ফরমাইলেন যে,আমি যাহার নেতা ,এই আলীও তাহার নেতা।(সুত্রঃআল-গাদীর,১ম খন্ড,পৃঃ২১৪ ও ২২৯;জাযবায়ে বেলায়েত,পৃঃ১৩৮;মুরাজেয়াত,পৃঃ৫৭;আসবাবুল নযুল,পৃঃ১৩৫;শাওয়াহেদুত তাঞ্জিল,১ম খন্ড,পৃঃ১৮৭)।
২৩ বছরের কুরান লেখক হযরত আলী(আঃ) শানে রাসুলের(সাঃ) কয়েকটি হাদীছ
০৩ রা নভেম্বর, ২০১০ ভোর ৫:৫৪
১।
রাসুলের(সাঃ) হারুনঃ
‘হে আলী! তুমি আমার কাছে সেরুপ যেরুপ ছিল হারুন,মুসার কাছে।কেবল আমার পরে কোন নবী আসবে না’।(সুত্রঃছহি বুখারিঃ৬/৩,মুঃ১৩১৪ তাবুকের যুধ্ব অধ্যায়,সহি মুসলিম ৭/১২০ আলীর ফাজাইল অধ্যায়,সুনানে ইবনে মাজা ১/৫৫, ফাযায়েলে আসহাবে নবী অধ্যায়ে,মুসনাদ ইবনে আহমদ ১/১৭৩,১৭৫, ১৭৭, ১৭৯, ১৮২,১৮৫ এবং ২৩০)।
২।
রাসুলের(সাঃ) স্থলাভিষিক্তঃ
জেনে রেখো যে,আলী তোমাদের মাঝে আমার ভাই,উত্তরসুরী এবং স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে।(সুত্রঃতারীখে তাবারী,২/২১৭,আল কামিল ফিল তারীখ ২/৬৪,মাআলিমুত তানযিল ৪/২৭৮)।
৩।
জ্ঞানের নগরীর দরওয়াযাঃ
‘আমি সমস্ত জ্ঞানের নগরী আর আলী তার দ্বার।কাজেই যে এই নগরীতে প্রবেশ করবে তাকে দ্বার দিয়েই আসতে হবে ’।(সুত্রঃ তারীখে বাগদাদ১১/৪৯-৫০,আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া ৭/৩৭২,আল-মুস্তাদরাকে হাকেম ৩/১২৬-১২৭,জামেউল উসুল ৯:৪৭৩/৬৪৮৯,আল জামেউস সাগীর ১:৪১৫/২৭০৫)।
৪।
সর্বপ্রথম নামাযীঃ
‘সরবপ্রথম যে আমার সাথে সালাত আদায় করেছে সে হলো আলী’।(সুত্রঃকানযুল উম্মাল, ১১:৬১৬/৩২৯৯২,আলে ফেরদৌস ১:২৭/৩৯)।
৫।
কেয়ামতের দিন বিজয়ীঃ
যেমন এরশাদ হচ্ছে, “অবশ্যই যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তারাই সৃষ্টির সেরা”(সুরা আল-বায়িনাহঃ৭)।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাঃ) বলেছেন,যখন উক্ত আয়াত নাজিল হলো তখন রাসুল(সাঃ)হযরত আলী(আঃ)কে উদ্দেশ্য করে বললেন,”এই আয়াতের সাক্ষ্য প্রমান আলী তুমি এবং তোমার শিয়ারা(অনুসারীরা),তোমরা কিয়ামতের দিন আসবে তোমাদের ব্যাপারে রাজি হবেন এবং তোমরা আল্লাহর উপর রাজি হবে এবং তোমাদের শত্রুর কালো মুখ ও বিশ্রী চেহারা নিয়ে আসবে”।(সুত্রঃতাফসীরে দুররে মনসুর,খঃ৬,পৃঃ৩৭৯;আরজাহুল মাতালেব,পৃঃ১২২,৮৭৭(উরদু);নুরুল আবসার,পৃঃ৭৮,১১২;ফুসুলুল মোহিম্মা, পৃঃ১২৩;শাওয়াহেদুত তানজিল,খঃ২।
পৃঃ৩৫৬;মুসনাদে হাম্বাল,খঃ৫,পৃঃ২৮তারিখে বাগদাদ,খঃ১২,পৃঃ২৮৯;ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত,পৃঃ৬২, আল ফেরদৌস ৩:৬১/৪১৭২)।
৬।
অন্তরসমুহের কা’বা স্বরুপঃ
রাসুল(সাঃ) ইমাম আলী (আঃ) কে বলেনঃ ‘তুমি কা’বার ন্যায়।সবাই তোমার কাছে আসে কিন্তু তুমি কারো কাছে যাও না।(সুত্রঃউসুদুল গবাহ ৩১৪৬)।
৭।
রাসুলের(সাঃ) উত্তরসুরী
রাসুল(সাঃ) হযরত আলীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ ‘ এ হলো আমার ভাই,আর আমার পরে আমার ওয়াসী এবং খলিফা।তার নিরদেশের প্রতি করনপাত করো এবং তার আনুগত্য করো।(সুত্রঃতারীখে তাবারী ২:৩৩১,মাআলিমুত তানযিল ৪:২৭৯,কানযুল উম্মাল ১৩:১৩১)।
৮।
হেদায়াতের পতাকা
রাসুল(সাঃ) বলেন, ‘বিশ্ব প্রতিপালক আলীর ব্যাপারে আমার সাথে কঠিনভাবে অঙ্গীকারাবদ্ব হয়েছেন। অতঃপর আমাকে বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আলী হলো হেদায়াতের পতাকা, ঈমানের শীষ্র চূড়া,আমার বন্ধুগনের নেতা আর আমার আনুগত্যকারী সকলের জ্যোতিস্বরুপ।(সুত্রঃহিল্লিয়াতুল আউলিয়া ১:৬৬,শারহে নাহজুল বালাগাহ-ইবনে আবীল হাদীদ ৯:১৬৮)।
৯।
সর্বপ্রথম মুসলমান
রাসুল(সাঃ) বলেছেনঃ ‘তোমাদের মধ্যে সবার আগে হাউজে কাউসারে প্রবেশ করবে সেই ব্যাক্তি যে সবার আগে ইসলাম গ্রহন করেছে।আর সে হলো আলী ইবনে আবি তালিব।(সুত্রঃআল-মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩৬,আল ইস্তিয়াব ৩:২৭,২৮;উসুদুল গাবাহ ৪:১৮;তারীখে বাগদাদ ২:৮১)।
১০।
নবীকুলের সারনির্সায
রাসুল(সাঃ) বলেনঃ ‘যে ব্যাক্তি আদমকে তার জ্ঞানে,নুহকে তার ধীশক্তিতে, ইব্রাহীমকে তার দুরদরশিতায়, ইয়াহিয়াকে তার সংযমশীলতায় আর মুসা ইবনে ইমরানকে তার সাহসিকতায় দেখতে চায় সে যেন আলী ইবনে আবি তালিবের প্রতি লক্ষ্য করে। (ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব-ইবনে আসাকির ২:২৮০/৮১১,আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭:৩৬৯)।

হযরত্ আলী (আঃ) এর বাণী ---
“জ্ঞানের জন্য যথেষ্ট সম্মানজনক একটি বিষয় হলো, যারা তেমন একটা জ্ঞানার্জন করেননি, তারাও তা দাবী করেন এবং তাদেরকে যখন জ্ঞানী বলে সম্বোধন করা হয়, তারা আনন্দিত হন। অন্যদিকে অজ্ঞতার জন্য এটাই যথেষ্ট লজ্জাজনক যে, একজন অজ্ঞ লোকও তাকে অজ্ঞ বলে সম্বোধন করাকে ঘৃণা করে।”
— আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ)
[ইমাম সা'ঈদ বিন আল-মুসাইয়াব (বায়োগ্রাফি) - সালাহউদ্দিন ইবন আলি ইবনে আবদুল মাওজুদ, দারুসসালাম পাবলিশার্স, পৃষ্ঠা - ৪৪]

“কারো অধঃপতনে আনন্দ প্রকাশ করো না, কেননা ভবিষ্যত তোমার জন্য কী প্রস্তুত করে রেখেছে সে সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞানই নেই।”
– হযরত আলী (আঃ)

“হে লেখক! তুমি যা লিখছ তার সবই একজন ফেরেশতা নজরদারী করছেন।তোমার লেখালেখিকে অর্থপূর্ণ করো কেননা অবশেষে একদিন সব লেখাই তোমার কাছে ফেরত আসবে এবং তুমি যা লিখেছ তার জন্য তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
– হযরত আলী (আঃ)

“ফুলের মতন হও, যে তাকে দলিত করে তাকেও সে সুগন্ধ বিলায়।”
— আলী (আঃ)

“জ্ঞানের মত সম্পদ আর নেই, অজ্ঞতার মতন দারিদ্র আর নেই।”
— আলী (আঃ)

“সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান যিনি পরম করুণাময় আল্লাহর দয়ার ব্যাপারে আশা ও আত্মবিশ্বাস না হারানোর জন্য মানুষকে উপদেশ দেন।”
– হযরত আলী (আঃ)

“অতিরিক্ত সমালোচনা করবেন না। অতিরিক্ত সমালোচনা ঘৃণা এবং খারাপ চরিত্রের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।”
🌻হযরত আলী (আঃ)
[আর-রাওদাহ, পৃ ১৮২]

“যেসব পাপকাজ তোমরা গোপনে করে থাকো সেগুলোকে ভয় করো, কেননা সেসব পাপের সাক্ষী বিচারক স্বয়ং নিজেই।”
🌻হযরত আলী (আঃ)
[রাবি আল-আবরার, ২/২৫৬]

“হৃদয় থাকা সকল মানুষের বোধ থাকে না, কান থাকা সকল মানুষই শুনতে পায় না, চোখ থাকা সকল মানুষই দেখতে পায় না।”
🌻আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ)

“রেগে যাবার সময়ের এক মূহুর্তের ধৈর্য রক্ষা করে পরবর্তী সময়ের হাজার মূহুর্তের অনুশোচনা থেকে।”
🌻 হযরত আলী (আঃ)

“সবচেয়ে সুখী ব্যক্তিই সেই যাকে আল্লাহ তা’আলা একজন পূণ্যবতী স্ত্রী দান করেছেন।”
🌻আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ)

“কল্যাণপ্রাপ্ত তো সেই ব্যক্তি যার নিজের পাপসমূহ তাকে অন্যদের পাপের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ থেকে বিরত রাখে।”
🌻হযরত আলী (আঃ)

“যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করতে পারবে, সে কখনো সফলতা থেকে বঞ্চিত হবেনা।
হয়তবা সফল হবার জন্য তার একটু বেশি সময় লাগতে পারে।”
🌻আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ)

“আপনার দ্বারা নেক কাজ সাধিত হলে আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করুন, এবং যখন অসফল হবেন তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।”
🌻আলী ইবন আবু তালীব (আঃ)

“আপনার গর্বকে ছুঁড়ে ফেলুন, দাম্ভিকতাকে দমিয়ে দিন আর আপনার কবরকে স্মরণ করুন”
🌻আলী ইবনে আবি তালিব (আঃ)

হযরত মওলা আলী (কর.) উপদেশাবলী ! --৪

১. জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা যত বাড়বে , বক্তব্য তত কমবে ।

২. মানুষের প্রতিটি নি:শ্বাস মৃত্যুর পদক্ষেপ মাত্র ।

৩. আমি তোমাদেরকে পাচটি বিষয় বলে দিচ্ছি, যদি তোমরা উটে চড়ে দ্রুত তা খুজে নাও তবে এর সুফল পাবে :

-আল্লাহ ছাড়া আর কিছুতে আশা স্হাপন না করা
- নিজের পাপ ছাড়া আর কোন কিছুকে ভয় না করা
- যা নিজে জানো না সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে 'আমি জানি না' বলতে লজ্জাবোধ না করা
- যা নিজে জানো না তা অন্যের কাছ থেকে শিক্ষা করতে লজ্জা না করা
- এবং ধৈর্য্য ধারণ করতে অভ্যাস করা , কারণ দেহের জন্য মাথা যেরূপ ঈমানের জন্য ধৈর্য্য তদ্রুপ ।

৪. আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পাবার দুটি উপায় ছিল- একটি তুলে নেয়া হয়েছে অপরটি তোমাদের সম্মুখে রয়েছে । সুতরাং যেটা তোমাদের সম্মুখে রয়েছে তা তোমাদের মানতে হবে । রক্ষা পাবার যে উপায়টি তুলে নেয়া হয়েছে তা হলো আল্লাহর রাসূল (সা.) এবং যেটি এখনো আছে তা হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা ।

৫. ইসলামের যথার্থ ফেকাহবিদ সে যে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না, আল্লাহর দয়ার প্রতি হতাশ করে না এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ বলে মনে করিয়ে দেয় না ।

৬. হীনতম জ্ঞান জিহ্বায় থাকে এবং উচ্চমানের জ্ঞান কর্মের মাঝে প্রকাশ পায় ।

সূত্র: নাহজ আল-বালাঘা, হযরত মওলা আলী (আঃ)

No comments:

Brommando - The Earth: যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেহ ভাণ্ডে।

Brommando - The Earth: যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেহ ভাণ্ডে। : দেহের মাঝে এঁটে রয় ব্রহ্মাণ্ড বিশাল উপরেতে আকাশ রহে নিচেতে পাতাল এর গভ...