Skip to main content

"আদম মহান ছুরত ও ছিরত" ❤আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মা.) পীর ছাহেব, রাহে ভাণ্ডার সিলসিলাহ।

আদম মহান ছুরত ও ছিরত
আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মা.)
পীর ছাহেব, রাহে ভান্ডার সিলসিলাহ

সমস্ত প্রশংসার মালিক আল্লাহ যিনি আদম (আ.) কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মহা সংকটময় কালে অন্ধকারময় পৃথিবীতে সেই “নকশা” যা লৌহিম-মাহফুজে সম্মানের সাথে অংকিত, ও মহান গৌরবের সাথে রক্ষীত ছিল। যাঁর উছিলাতে আদম (আ.) তথা মানুষের প্রথম প্রার্থনা পূর্ণতা অর্জন করেছিল। 
অসংখ্য দরূদ ও সালাম জ্ঞাপন করি ঐ “নকশা” এর ধারক বাহক সৃষ্টিকূলের আদি-অন্তের মূল, জগতসমূহের রহমত, আমার নবী জনাব আহমদ মোজতবা “মোহাম্মদ” মোস্তফা (দ.)’র প্রতি এবং পাঞ্জেতন পাক আহলে বাইতে ও তাঁর ছাহাবাগনের প্রতি, অতঃপর নতশীরে ছজিদা জানাই উম্মতে মোহাম্মদী (দঃ)’র মহান ত্রানকর্তা যার দস্ত মোবারকে অর্জিত লেওয়ায়ে আহমদী (নবীজীর শেষ ঝান্ডা) বেলায়তে মোতলকায়ে আহমদীর অধিকারী হযরত গাউছুল আজম, নুরুল আলম, ফানাফিল্লাহ, বকাবিল্লাহ, মাতলুবুত তালেবীন, মালিকুল আরেফীন, মৌলানা ছৈয়দ “আহমদ উল্লাহ” শাহ্ (কঃ) মাইজভান্ডারী (হযরত কাবা)’র প্রতি এবং তৎপ্রতিনিধি দুলহায়ে হযরত কাবা, ছাহেবুল অজুুদুল কোরআন হযরত গাউছুল আজম শাহছুফি মৌলানা ছৈয়দ “ছালেকুর রহমান” শাহ্ (কঃ) রাহে ভান্ডারী এবং তৎপ্রতিনিধি আমার মুর্শিদ কেবলা গাউছুল আজম, আজাদে মোজাদ্দেদ, মৌলানা ছৈয়দ “মোহাম্মদ আব্দুল মালেক” শাহ্ (কঃ) আল রাহে ভান্ডারী’র প্রতি যাঁর অনুগ্রহ এবং কৃপার অংশ বিশেষ “মান আরাফা নাফসাহু” দরছ এর তালেব এর দরজা অধম গোলাম হাছিল করলাম।
আমি নরাধম লেখক নই। জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিতও নই। পরম প্রতাপশালী আল্লাহ তায়ালার কুদরতী হস্তে স্থাপিত, লিখিত ও অংকিত “নকশা” সম্পর্কে লিখার দুঃসাহস আমার নেই । 
আমার মুনিব গাউছে পাক যদি সদয় হন তাহলে আমার মুর্শিদ কেবলা গাউছুল আজম ছৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শাহ্ (ক.)’র দেয়া শিক্ষা থেকে তালেবগণের উদ্দেশ্যে কিছু তথ্য উপস্থাপন করতে চেষ্টা করব।

স্বয়ং আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেছেন- “(১) ডুমুর (২) জয়তুন (৩) সিনাই পর্বতমালা (৪) নিরাপদ নগরী (মক্কাশরীফ) এর কসম। আমি আল্লাহ ইনছানকে সর্বো”চ সৌন্দর্যমন্ডিত ছাঁচে ঢালাই করে সৃষ্টি করেছি”। (আয়াত ৪, সুরা- ত্বিন)
সর্বো”চ তারিফ বা প্রশংসা অন্য কোন ব¯‘র ব্যাপারে ব্যবহৃত হয় না। নিজেকে প্রশ্ন করুন আহছানি তাকবীম কি? বুঝার চেষ্টা করুুন মানুষ তত্ত্ব কি? আমি মানুষ কে? মানুষকে চিনুন, চিন্তা করুন। পবিত্র হাদিছ পাকে বর্ণিত আছে-
মান আরাফা নফছাহু ফকদ আরাফা রাব্বাহু
অনুবাদ- “যে ব্যাক্তি নিজের নফছ (নিজ) কে চিনেছে বরং সে নিজের রব (প্রভু) কে চিনেছে”।

অনুবাদ- “আমি ঐ উপমাসমূহ মানবজাতির জন্য বিবৃত করি যেন সে চিন্তাশীল হয়”।

অনুবাদ- ‘আল্লাহ তিনিই যিনি ব্যতীত আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়”।

অনুবাদ- “তিনি গুপ্ত প্রকাশ্যজ্ঞ, তিনি দয়ালু, দয়াময়’।
আল্লাহ ছাড়া আর কারো এবাদত করা নয়, নিশ্চয়ই আল্লাহর এবাদত করতে হলে আল্লাহকে চিনে করতে হবে। তিনি আল্লাহ গুপ্ত প্রকাশ্য এবং তিনি দয়াময়, দয়ালু কিভাবে? বুঝার জন্য উদাহরণ কি? উপরে উল্লেখিত আল্লাহ তায়ালার ছিফত বা গুণসমূহের সাথে পরিচিতি লাভের প্রয়োজন। হাদিছে কুদসীতে আছে-

অনুবাদ- ‘আমি একটি নিহিত ধনাগার ছিলাম, নিজে পরিচিত হতে ভালবাসলাম অতঃপর আমাকে চিনার জন্য জগত সৃষ্টি করলাম’।
অতএব আল্লাহকে চিনে তাঁর প্রেমে বিভোর হয়ে, ভালবেসে সকল এবাদত করা প্রয়োজন। আমার হারানো স্মৃতিকে খুঁজে বের করে স্মরণ করা (জিকির করা) অবশ্যই কর্তব্য।
মানুষকে তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য করার মত নয়, কারণ আমি মানুষ নিজেকে সুষ্টির সেরা জীব মনে করি। 
কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার স্বভাব-চরিত্র, চাল-চলন যদি হয় অন্যান্য সৃষ্টি জীবের মত, তা হলে আমার শ্রেষ্ঠত্বের অবমাননা করলাম আমি নিজেই। 
উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, ক্ষুধার্থ হলে অন্য জীবের মত যদি আমিও আহার করি, পিপাসার্থ হলে অনুরূপ পান করি। প্রজনন অথবা জৈবিক ক্ষুধা মিঠাতে রত ক্রিয়ায় লিপ্ত হই।
স্রষ্টার কথা স্মরণ হলে অন্যান্য জীবের মত নিজ ভাষায় ডাকা ডাকি করি, অন্য জীবের সাথে আমার পার্থক্য কোথায়? যদি মনে করেন বুদ্ধিমত্ত্বায় মানুষ শ্রেষ্ঠ, তাহলে আমি বলব প্রয়োজন বোধে শিয়ালের ধূর্ততা বানরের ক্ষিপ্রতা কৌশলও অনেক ক্ষেত্রে মানুষকেও হার মানায়। 
তাহলে পশুর শ্রেষ্ঠত্ত্ব মেনে নেয়া হবে? কোরআন পাকে আল্লাহ তায়াল মানুষকে শ্রেষ্ঠ বলেছেন।

অনুবাদ- ‘নিশ্চয়ই আমি আদমের বংশধর (মানুষ) কে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি’। আমার নবী ফরমায়েছেন-

অনুবাদ - ‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে তিবরানী ও খতিব বর্ণনা করেছেন, রাছুলুল্লাহ (দ.) ফরমালেন, আল্লাহ তায়ালার নিকট মানব থেকে অন্য কোন বস্তুই শ্রেষ্ঠ নয়, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! ফেরেস্তারাও কি শ্রেষ্ঠ নয়? তিনি বললেন তারাও নয়, যেহেতু তারা সূর্য ও চন্দ্রের ন্যায় পরায়ত্ব।”
আমি কি আদমের সেই বংশধর? যার সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূল (দ.) উল্লেখিত মন্তব্য করেছেন। 
আসুন আমরা সেই শ্রেষ্ঠত্ব খুঁজি যা আমাকে অর্পণ করেছেন। “মান আরাফার” ছবক পড়ি। আমার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করি। আমরা মহাত্মার পরাধীন। আমাকে আমার জাতের নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। হ্যাঁ আমি আদম সন্তান, আমার শ্রেষ্ঠত্ব শুধু ফিকাহ্ ফতোয়া দলিল দিয়ে নয়, আমার জন্ম, কর্ম, স্বভাব, চরিত্র সব কিছু দিয়ে প্রমাণ সাপেক্ষে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আমি কে চিনতে হবে। 
কবির ভাষায় বলিঃ-
(১) আমি আমি করি সবে আমি চিনা হল ভার, স্বরূপে বিরূপে আমি এক আমির ভাব দুই প্রকার।
(২) কবি রমেশ বলেন, রমেশ কয় মন ভেবে স্বরূপ দেখা পাব কবে, এইভাবে কি জনম যাবে বলনা। এর স্বরূপ কি?
(১) আল্লাহময় জগতে শেরে খোদা আলী (রাঃ)’র উক্তি - “আনা ইয়াদুল্লাহ” অর্থ-- আমিই আল্লাহর হাত।
(২) গাউছে বোগদাদী (কঃ)’ উক্তি- “বিলাদুল্লাহি মুলকী তাহতা হুকমী” অর্থ-- আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি আমারই আজ্ঞাবহ।
(৩) আল্লাহময় জগতে গাউছুল আজম আহমদ উল্লাহ (কঃ) মাইজভান্ডারী “ আমি আমার প্রভুর নয়ন দিয়ে প্রভুকে দর্শন করলাম।”
(৪) সুলতানুল আরেফিন বায়েজীদ বোস্তামী (কঃ)-“সোবহানী মা আ’জামা শানী” অর্থ-- আমার শান সবচেয়ে উন্নত এবং সবচেয়ে পবিত্র।
(৫) মনছুর হাল্লাজ (কঃ)- “আনাল হক” অর্থাৎ “আমিই (আল্লাহ) হক। ইত্যাদি যারা আল্লাহর রূপে রূপায়িত, গুণে গুণান্বিত, তাদের স্বরূপ অপর দিক বিরূপে নমরুদ, ফেরাউন, আবু জাহেল তাদের প্রতাপ প্রতিপত্তি, অহংকার ও দম্ভ ধ্বংসযোগ্য। বিচার্য বিষয় স্বরূপ আমি অপ্রতিরোধ্য, অভিনাশিত এবং বিরূপ আমি ধ্বংসিত, বিনাশিত। আমি আমাতে আমাকে চিনতে হবে। তবেই বুঝব আমার সাধন ভজন কি করলাম। পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত-

“নিশ্চয়ই আমি আকাশ ভূমন্ডল ও পর্বত সমূহের প্রতি আমানত অর্পন করেছিলাম; কিন্তু‘ তারা এই ভার গ্রহণ করতে শঙ্কিত ও অসম্মত হল। অথচ মানুষ তা গ্রহণ করল। ব¯‘ত মানুষ কষ্টের মধ্যে নিজেকে নিক্ষেপকারী, বড় মূর্খ।” (সুরা আহযাব-৭২)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেছেন উল্লেখিত আমানত মানে সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। যেমন হাত, পা, চোখ, কান, নাক ইত্যাদি। সবই আল্লাহ প্রদত্ত আমানত। তার ঈমানেরই কি মূল্য আছে যে আমানতদার নয়? হাফেজ সিরাজী এই মর্মে গাইলেন-
“আছমানে বারে আমানত নওয়ানস্ত কশিদ / ক্বেরাত ফাল বনামে মান দিওয়ানা জেদ নদ”।
অর্থ- “আকাশ যে আমানত তুলিতে নারিল, এই পাগল সেই মহাভার গ্রহণ করিল”।
সাবধান! হে আদম সন্তান! আপন সৃষ্টি, আপন অস্তিত্ব, স্বীয়সত্ত্বা সম্পর্কে, অভিজ্ঞতা অর্জন কর। অবশ্যই আমানত চাওয়া মাত্র ফেরতযোগ্য বা মালিকের কাছে হস্তান্তর যোগ্য। পবিত্র কোরআন মজিদে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন-

অনুবাদ- ‘সুতরাং তুমি আপন মুখমন্ডল সোজা করে নিজের ধর্মে কায়েম থাক’।

অনুবাদ- ‘আল্লাহর সেই গঠন বা প্রকৃতি যে গঠনে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন’। 
হে আদম সন্তান! তোমাকে আল্লাহর গঠন প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এর পবিত্রতা রক্ষা করতে স্বচেষ্ট হও। নিজের পরিচয় খোঁজ, কামেল পীরের এত্ত্বেবা কর। আল্লাহর পরিচয়ে পরিচিত হও। একমাত্র পীরে মগাঁই পারেন, তোমাতে তোমার পরিচয় ঘঠাতে। 
হাদিস শরীফে আমার নবী বলেন- 
“খালাক্বাল্লাহু আদামা আলা ছুরাতিহী।” 
অর্থ- “আল্লাহ তায়ালা তাঁর (আল্লাহর) নিজ অবয়বে আদম (আঃ) কে তথা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন”। 
কোন কোন কাঠ মোল্লা উক্ত হাদিছের উল্টা তফসীর করতে গোমরাহি থেকে বাঁচান। আমি নিজে যা বুঝিনা হয়ত অনেকেই তা বুঝে। আমি যা বুঝিনা তা কেউ বুঝেনা এই ধারণা অমূলক ও অহমিকাও বটে। 
পবিত্র তৌরাত কিতাব যাঁর উপর নাজিল হয়েছে তাঁকেও শিক্ষার জন্য খিজির (আ.)’র নিকট আল্লাহ পাক প্রেরণ করেছেন, এই কথা ভুললে চলবেনা। আমি “আদম” নামক শিরোনামে কিঞ্চিত আলোচনা করেছি। 
আদম সন্তান আমি, “সর্ব প্রথম আল্লাহর জাতি নূর থেকে নূরে মোহাম্মদী সৃষ্টি হল। তখন আমি সহ নূরে মোহাম্মদীর মধ্যে নিহিত ছিলাম। নূরে মোহাম্মদীর সৃষ্টির পূর্বে আমিসহ, নূরে মোহাম্মদীসহ আল্লাহর জাতি নূরে নিহিত ছিলাম”। যেমনঃ- {(নুরুল্লাহ)>(নূরে মোহাম্মদী)>(সমস্ত সৃষ্টি) আমি আদম} অথবা {আমি আদম সন্তান<(আদম)<(নূরে মোহাম্মদী)<(নূরুল্লাহ)জাতে আল্লাহ}।
পরিশেষে বলি-
অনুবাদ- ‘প্রত্যেক বস্তু তাঁর মূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে’। 
হে আদম সন্তান! তুমিও তোমার জাত আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনশীল। তুমি তোমার পবিত্র জাত এর দিকে প্রত্যাবর্তন করার প্র¯‘তি গ্রহণ কর, না হয় তোমার নিস্তার নেই। কোরআন পাকে আল্লাহ বলেন-
অনুবাদ- ‘এবং তোমরা নির্জীব ছিলে, পরে তিনি তোমাদেরকে সজীব করেছেন, পুনরায় তোমাদেরকে নির্জীব করবেন অতঃপর তিনি তোমাদেরকে সজীব করবেন, অতঃপর তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে’। (সুরা বাকারা -২৯)
আল্লাহ জাল্লা শানুহুর প্রতিনিধি হে আদম সন্তান! তুমি আল্লাহর ছুরতদারী বনে যাও, আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও। আল্লাহ প্রদত্ত আমানত খেয়ানত করোনা। কারণ আমানত ফেরতযোগ্য। 
আল্লাহর রূপে রূপায়িত হও। কারণ ভিন্ন রূপে আসলের নিকট প্রত্যাবর্তন করা অসম্ভব। তাইতো বলি হে উম্মতে মোহাম্মদী তথা আদম সন্তান! তোমার মূল কি? তালাশ কর। খোঁজ জগত চষে যেখানে তাঁর দর্শন পাবে সেখানেই নিজকে আত্মসমর্পন কর। লৌহে মাহফুজে সু-অংকিত, সুরক্ষিত, সর্বো”চ সৌন্দর্যমন্ডিত “নকশা” কলমা কে নিজ আয়ত্বে আনার চেষ্টা কর। 
উক্ত পবিত্র কলমাকে “ইলমুল ইয়াকিন” এর মাধ্যমে খলিফাতুল্লাহ, ছফিউল্লাহ, নূরুল্লাহ বনে যাও। জানি তা অতিব কষ্টসাধ্য যা ইয়াকিন দিয়ে সম্ভব নয়। তাই উছিলাহ তালাশ কর। কোরআনের ভাষায় বলি-

“হে মো’মেনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা উছিলাহ অন্বেষণ কর”। (অর্থাৎ ইনসানে কামেল বা পীরের নিকট দীক্ষা নাও) নিজকে চিনতে চেষ্টিত হও। যদি পীর কামেলদের অন্তর্ভূক্ত হয় তবে তুমি পীরের নিকট তোমার নিজ পরিচয় বা আত্মপরিচয় লাভ করবে। স্বারবর্ণ রূপ যার উজ্জল দর্পন, যার যেমনি রূপ দেখিবে তেমন।
মৌলানা রুমী (রহ.) বলেন-
“হক্ব তোয়ারী হক্বরাতু মিজুই কুজা খাও য়েশবা বেশনাছ খোদা” অর্থ- হক্ব তুমি, হকেরে খোঁজ কোথায়? নিজেকে চিনলে পাবে যে খোদায়।
ঈমান ও ইসলাম, মোমেন ও মুসলমান পার্থক্য আছে। ঈমান সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীন ও আন্তরিক বিষয় এবং রোজা, নামাজ, হজ্ব, যাকাত সম্পূর্ণ দৈহিক বিষয়। নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত আদায় করলে মুসলমান বলা যেতে পারে। তাকে ঈমানদার বলা যেতে পারে কিনা সন্দেহ আছে। সে মৃত্যু কালে ঈমান সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে কিনা সন্দেহমুক্ত নয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামে ফরমায়েছেন তাতে মোমেন ও মুসলমানের মধ্যে পার্থক্য বর্ণিত হয়েছে-

অনুবাদ ঃ- ‘মরুবাসীরা বলল, আমরা ঈমান এনেছি। হে রাসূল! আপনি বলেদিন, তোমরা ঈমান আননি বরং এভাবে বল আমরা মুসলমান (অনুগত) হয়েছি। এখনো ঈমান তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি’। (সুরা হুজুরাত-১৪) হে উম্মতে মোহাম্মদী (দ.)! মৃত্যু কালে ঈমান সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সহজ সাধ্য নয়, খাতেমা বিল খায়ের না হলে পরিত্রাণ নেই। ছহীহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত-

অনুবাদ- ‘হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাছুলুল্লাহ (দ.) ফরমায়েছেন, ব¯‘ত মানুষ দীর্ঘকাল বেহেস্তী লোকের ন্যায় কাজ করে অতঃপর শেষ দোযখীদের কাজের উপর হয়। অর্থাৎ দোযখী আমল নিয়ে মরে। অথচ কোন কোন লোক অনেক কাল ধরে দোযখী লোকের ন্যায় কাজ করে কিš‘ তার শেষ বেহেস্তীদের উপর হয়’।
পবিত্র হাদিছে পাকে নবী করিম (দঃ) ফরমালেন-
অনুবাদ- ‘ছালাত মোমেনদের জন্য খোদা প্রাপ্তির সোপান বটে’। হে মুসলমান মুসল্লীগণ! আপনারা বলতে পারেন কি? আপনার কৃত নামাজে কখনো মেরাজ হয়েছে কি? তাহলে সন্ধেহের অবকাশ থেকে যায়, হয়ত আপনি মোমেন নন; নতুবা আপনি নামাজ করতে জানেন না। ঐ রকম মুসল্লী হয়ে কিসের এত লম্ফ জম্প করেন? আমার অনুরোধ; অতি সত্তর পীরে মগাঁর কাছে নিজেকে সমর্পণ করুন। তিনি আপনাকে ছালাতে মে’রাজ শিক্ষা দিবেন। আমি বলিঃ-
১)“যদি তোমার পীরে মগাঁ সত্য, দেখবে ছালাতে মেরাজ নিত্য”।
২)“পীরে মগাঁর এত্ত্বেবা কর, অসাধ্য সাধন কর”।
৩)“নবীবর এল আদম ছুরতে, আল্লাহ থাকবে কোন মুরতে”।
৪)“সাধন কর ভজন কর, নৈরাকার থুয়ে আকারে মর”।
৫)“মানব সেবা কররে মন, মানুষেতেই নিরাঞ্জন”।
৬)“মোমেনের ক্বলব আরশে আল্লাহ, আল্লাহ থাকবে কোন মাদল্লা (মাদল্লা মানে- চাউনী)”।
৭)“যার নায় গুরু নবী, আল্লাহময় ভোরের খুবী”। চেষ্টা, আকাঙ্খা, অšে¦ষণ ও সাধনার চেষ্টায় অসাধ্য কিছু নেই। সন্ধান করলে পথ পাওয়া যায়। যথাঃ- আল্লাহ তায়ালা ফরমায়েছেন-

অনুবাদ- ‘এবং যারা আমাতে (আমাকে পেতে) প্রচেষ্টা চালায়, অবশ্যই আমি তাদেরকে আমার (প্রাপ্তির) পথ দেখিয়ে দেই’। (সুরা আনকাবুত শেষ আয়াত)
এখানে আল্লাহ তায়ালা উপদেশ দিয়েছেন একটি উছিলা তালাশ করার জন্য। উছিলা শব্দের অর্থ মৌলানা আবদুল আযিয মুহাদ্দিস দেহলভী (টীকাতে লিখেছেন) উছিলা শব্দের অর্থ “মুর্শিদ”। সুরা নিসা আয়াত ৫৯ তে আল্লাহ তায়ালা ফরমায়েছেন-

অনুবাদ- ‘আল্লাহর অনুসরণ কর এবং রাছুলে অনুসরণ কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা আদেশদাতা’। কেউ ভ্রান্ত মত পোষন করে বলেন পীরের প্রয়োজন নেই। হযরত জোনাইদ বোগদাদী (র.) বলেন-
অনুবাদ- ‘যার পীর নেই তার পীর শয়তান’।
তাদেরকে বলি যারা শয়তানের অনুসারী, আল্লাহ পাক সুরা আরাফ আয়াত ১৮১ তে বলেছেন-

অনুবাদ- ‘এবং আমার সৃষ্টির মধ্যে এমন এক উম্মত (সম্প্রদায়) আছেন যারা সৎপথ প্রদর্শন করেন’। হে উম্মতে মোহাম্মদী (দ.)! আপনাদের প্রতি একান্ত অনুরোধ আল্লাহর খোঁজ করুন, তালাশ করুন, আল্লাহ হাইয়্যুল কাইয়্যুম, সব সময় ছিল, আছেন এবং থাকবেন। আমার নবী (দ.) হায়াতুন্নবী। তিনি সব সময় জীবিত। দেখতে বা সাক্ষাত করতে চেষ্টা করুন। উপযুক্ত মুর্শিদের তালাশ করুন।
‘মন মানুষ তোর আপন ঘরে, বসে আছেন নিজ আকারে, খোঁজ কেন? মসজিদ, গীর্জা ও মন্দিরে তারে।।
জ্ঞানের চক্ষু মেলে তাকাও, রাহে ভান্ডারীর চরণ পরে।।
সবশেষে আরজ করি, “হে আল্লাহ রহমানুর রহিম” আমাকে এবং সকল “নকশা” সন্ধানীকে ছিরাতুল মোস্তাকিম দান করুন এবং ছিরাতুল মোস্তাকিমে কায়েম ও দায়েম রাখুন, আমাদেরকে তোমার পবিত্র হস্তে অংকিত সংরক্ষিত “নকশা” তথা কলমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। আমরা যেন স্বচক্ষে কলমাকে দেখে স্বাক্ষী দিতে পারি।

অনুবাদ- ‘হে আল্লাহ! আপনার পেয়ারা হাবিব ‘মোহাম্মদ’ (দ.) পাঞ্জেতন পাক, আহলে নবী (দ.), আছহাবে নবী (দ.), গাউছুল আজম ‘আহমদ উল্লাহ (ক.) মাইজভান্ডারী, বাবা ভান্ডারী (ক.) ও ওয়াছেলে মাইজভান্ডারী (ক.) সহ সকল খলিফা ও আওলাদে মাইজভান্ডারীর উছিলায় এবং ছাহেবুল অযুদ রাহে ভান্ডারী (ক.) আমার মুর্শিদ কেবলা মালেক শাহ্ (ক.) রাহে ভান্ডারীর উছিলায় আমাদের আর্জি কবুল কর“ন। আমাদেরকে খাতেমে বিল খায়ের দান কর“ন আমিন।


সম্পাদনায়-
ছৈয়দ মশিউর রহমান রাহাত
খাদেমুল ফোক্বরা, রাহে ভান্ডার

Comments

Popular posts from this blog

শাসকের ক্ষমতা বনাম সাধকের শক্তি | আনুশেহ আনাদিল | সুফিবাদ

কারবালার পর ক্ষমতা যখন ধর্মের ওপর দখল নিল, ইসলাম কিন্তু হারিয়ে যায়নি। রাজদরবার ছেড়ে চলে গিয়েছিল খলিফাদের প্রাসাদ, শাসকের গৌরব বাড়ানোর জন্য নির্মিত মার্বেলের মসজিদ, ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়া পোষা আলেমদের জগৎ থেকে দূরে। ইসলাম টিকে ছিল নীরবে– মরুভূমি পেরিয়ে, নদীর তীরে, বন-গ্রামে, সাধারণ মানুষের জীবনের ভেতরে। সাম্রাজ্য হিসেবে নয়, উপস্থিতি হিসেবে। কারবালা ছিল সভ্যতাগত ভাঙন। যখন ইয়াজিদ জুলুমের প্রতি আনুগত্য দাবি করল আর ইমাম হুসাইন (রা.) তা প্রত্যাখ্যান করলেন, তখন ইসলাম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছিল। ইমাম হুসাইনের (রা.) শাহাদাত শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়। এ ছিল সেই মুহূর্ত, যখন বিবেককে ক্ষমতার নামে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছিল। বাংলায় ইসলাম এসেছিল আউলিয়াদের মাধ্যমে। লোকজ ও আত্মিক স্মৃতিতে আছে, শতাব্দী ধরে প্রায় ৩৬০ জন আউলিয়া বাংলায় প্রবেশ করেছিলেন– সাধক, দরবেশ, চিকিৎসক, পথপ্রদর্শক। তারা ইসলামের বাণী বহন করেছিলেন শুধু আইনের আকারে নয়; জীবিত নৈতিকতা হিসেবে। তারা এ দেশের ভাষায় কথা বলেছেন। কৃষক, জেলে, তাঁতি আর দরিদ্র মানুষের পাশে বসেছেন। স্থানীয় সংস্কৃতি মুছে দেননি; রূপান্তরিত করেছেন। এই সুফিরা ভয...

HOLY URS-E HAYATI (URS MUBARAK) (RAHE VANDER SILSILA)

"মহান ওরছে হায়াতী | 07 কার্তিক ১৪৩২ ( বাংলা) | 23 অক্টোবর২০২৫" "HOLY URS-E HAYATI | 07 KARTIK 1432 ( Bangla Calendar ) | 23 OCTOBER 2025" The 64th Annual Holy URS-E HAYATI of Hazrat Shah Sufi Moulana SYED MOHAMMAD ABDUL MALEK SHAH (Q.S.A.)(1916-1980), will be observed at CHATTOGRAM DARBAR SHARIF in Chattogram, Bangladesh. RaheVander Silsila's GRAND SHAYKH Allama SUFI SYED JAFAR SADEK SHAH ( M. ) Al- Rahe Vanderi invited all of you to attend and achieve blessings on this holy occasion. Venue: CHATTOGRAM DARBAR SHARIF, CHITTAGONG, BANGLADESH. Date: October 23, 2025 (Kartik 7, 1432 Bangla Calendar) #UrsMubarak #UrsSharif #URSeHAYATI (খোশরোজ মোবারক) #RaheVander #রাহেভান্ডার #RaheBhander #Maizbhandar #ChattogramDarbarSharif #Chattogram #Chittagong #Bangladesh #Sufism #Islam Website: RaheVander .org ©️ Chattogram Darbar Sharif.

Three In One: প্রভু

Three In One: প্রভু :         -  নার্গিস আলমগীর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি অপূর্ব তোমার সৃষ্টি যত দেখি জুরায়না আঁখি শুভ্র তুষারেরা বর্ষে যাচ্ছে। তোমার সূ...