প্রায়শই আমার এমন মনে হয় যে, যা আমার করা উচিত তা আমি করছি না, অথবা যা করা উচিত নয় তা করছি; মনে হয়, কিছু একটা খুব দ্রুত বদলাতে হবে — স্কুলজীবনের সেই দুশ্চিন্তা যে আমি পরীক্ষায় ফেল করব, বা হয়তো আমাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে।
আমাদের সবাইকে এভাবেই বড় করে তোলা হয়েছে। আমাদের সমগ্র শিক্ষা—পরিবারে, সমাজে, স্কুলে, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে—আমাদের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। আর মূল মানসিক চাপটি হলো এই যে, যা করা উচিত, তা তুমি করছ না।
তারপর এই চাপ সারা জীবন ধরে চলতে থাকে; দুঃস্বপ্নের মতো তোমাকে অনুসরণ করে।
এটি তোমাকে কখনো শান্তিতে থাকতে দেবে না। তুমি যদি বিশ্রাম নাও, এটি বলবে, “তুমি কী করছ? তোমার তো বিশ্রাম নেওয়ার কথা নয়; তোমার কিছু করা উচিত।” আর তুমি যদি কিছু করো, তখন এটি বলবে, “তুমি কী করছ? তোমার কিছু বিশ্রাম দরকার, সেটি অপরিহার্য; নইলে তুমি নিজেকেই পাগল করে ফেলবে—তুমি তো এমনিতেই তার দ্বারপ্রান্তে।”
যদি তুমি কোনো ভালো কাজ করো, সে বলবে, "তুমি একটা বোকা। ভালো কাজ করে কোনো লাভ হবে না, লোকেরা তোমাকে ঠকাবে।" আর যদি তুমি কোনো খারাপ কাজ করো, সে বলবে, "তুমি এটি কী করছো? তুমি জাহান্নামে যাওয়ার পথ তৈরি করছো, এর জন্য তোমাকে কষ্ট ভোগ করতে হবে।" সে তোমাকে কখনো শান্তিতে থাকতে দেবে না; তুমি যা-ই করো না কেন, সে তোমাকে নিন্দা করার জন্য সবসময় পাশে থাকবে।
এই নিন্দাকারীকে তোমার মধ্যে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। মানবজাতির উপর নেমে আসা এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ বিপর্যয়। আর যতক্ষণ না আমরা আমাদের ভেতরের এই নিন্দাকারীকে দূর করছি, আমরা প্রকৃত মানুষ হতে পারব না, প্রকৃত আনন্দ লাভ করতে পারব না এবং অস্তিত্ব নামক এই উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারব না।
আর এখন এটি আর কেউ তোমার হয়ে দূর করতে পারবে না—এটি তোমাকেই করতে হবে। আর এটি শুধু তোমার সমস্যা নয়; এটি প্রায় প্রত্যেক মানুষের সমস্যা। তুমি যে দেশেই জন্মাও না কেন, যে ধর্মেরই হও না কেন, তাতে কিছু যায় আসে না — ক্যাথলিক, কমিউনিস্ট, হিন্দু, মুসলমান, জৈন, বৌদ্ধ—তুমি যে ধরনের মতাদর্শেরই অনুসারী হও না কেন, মূল বিষয় একই। মূল বিষয় হলো তোমার মধ্যে একটি বিভাজন তৈরি করা, যাতে তোমার এক অংশ সবসময় অন্য অংশের নিন্দা করতে থাকে। তুমি যদি প্রথম অংশটির কথা অনুসরণ করো, তাহলে দ্বিতীয় অংশটি তোমার নিন্দা শুরু করবে। তুমি এক অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে, এক গৃহযুদ্ধে আটকে পড়বে।
এই গৃহযুদ্ধকে থামাতেই হবে, নইলে তুমি জীবনের সমস্ত সৌন্দর্য, সমস্ত আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হবে। তুমি কখনো প্রাণভরে হাসতে পারবে না, কখনো ভালোবাসতে পারবে না, কোনো কাজেই নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করতে পারবে না। আর মানুষ যখন সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে, তখনই তার মধ্যে ফুল ফোটে, বসন্ত আসে, এবং তার জীবনে রং, সুর ও কবিতা জন্ম নেয়।
কেবলমাত্র সামগ্রিকতার মধ্য দিয়েই হঠাৎ তুমি তোমার চারপাশে ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করো। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, এই বিভেদটি তৈরি করেছে আপনাদের তথাকথিত মোল্লা-মৌলভী, সাধু, যাজক এবং মসজিদ, মন্দির, গির্জাগুলো।
আসলে পৃথিবীতে ঈশ্বরের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো পুরোহিত, মোল্লা-মৌলভী, যাজক।
আমাদের সমস্ত মোল্লা-মৌলভীর প্রভাব থেকে মুক্ত হতে হবে; তারাই মানুষের মানসিক অসুস্থতার মূল কারণ। আমরা মনে করি জীবন মানেই এই—একটি দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা; কষ্টকর, বেদনাদায়ক অস্তিত্ব; যেন এমন এক আত্মজীবনী যার মধ্যে অর্থহীন ব্যস্ততা ছাড়া আর কিছুই নেই।
আর আমরা যদি আমাদের তথাকথিত জীবনের দিকে তাকাই, তাহলে সত্যিই তেমনই মনে হয়; কারণ সেখানে কখনো একটি ফুল নেই, হৃদয়ে কখনো একটি গান নেই, নেই ঐশ্বরিক আনন্দের একটি রশ্মিও।
বুদ্ধিমান মানুষদের পৃথিবীতে জীবনের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন করতে দেখা যাচ্ছে—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। “আমাদের কেন বেঁচে থাকতে হবে?
পৃথিবীতে এর আগে কখনো এত বেশি মানুষ ভাবেনি যে জীবন এতটাই অর্থহীন। এই যুগে এমনটা কেন ঘটেছে? এর সঙ্গে এই যুগের কোনো সম্পর্ক নেই। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, অন্তত পাঁচ হাজার বছর ধরে, পুরোহিত ও মোল্লা-মৌলভীরা ক্ষতি করে এসেছে। এখন তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এটা আমাদের কাজ নয়, আমরা ভুক্তভোগী। আমরা ইতিহাসের শিকার। মানুষ যদি আরেকটু সচেতন হয়, তবে প্রথম কাজ হলো ইতিহাসের সমস্ত বই পুড়িয়ে ফেলা। অতীতকে ভুলে যাও, তা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। একেবারে নতুন করে শুরু করো, যেন আদমের পুনর্জন্ম হয়েছে। এমনভাবে শুরু করো যেন আমরা আবার সেই ইডেন উদ্যানে আছি—নিষ্পাপ, “মোল্লা-মৌলভী, যাজকদের দ্বারা কলুষিত নয়”।
মোল্লা-মৌলভীরা (পুরোহিতেরা) খুবই সংকীর্ণমনা ছিল, কারণ তারা নিজেদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আবিষ্কার করেছিল: একজন মানুষকে মূলগতভাবে দ্বিখণ্ডিত করে দাও—তাহলে তুমি সবসময় ক্ষমতায় থাকতে পারবে। বিভক্ত মানুষ দুর্বল মানুষ। অবিভক্ত মানুষ, একজন সত্যিকারের ব্যক্তি, শক্তিশালী—যে কোনো অভিযান গ্রহণ করার শক্তি তার রয়েছে।
যেদিন তুমি প্রথম উপলব্ধি করবে যে মোল্লা-মৌলভীরা তোমার সঙ্গে কী করেছে, সেদিনই হবে এক গভীর অন্তর্দৃষ্টির দিন। আর যেদিন তুমি এই সমস্ত অর্থহীনতা ছেড়ে দেবে, সেদিন থেকেই মুক্তির সূচনা হবে।
তোমার অন্তর্নিহিত গুণাবলি যা করতে আকুল, তা করো। ধর্মগ্রন্থের কথা শুনো না, নিজের হৃদয়ের কথা শোনো—এটাই একমাত্র ধর্মগ্রন্থ, যা আমি তোমার জন্য নির্দেশ করি। হ্যাঁ, অত্যন্ত সচেতনভাবে শোনো, এবং তুমি কখনো ভুল করবে না। আর নিজের হৃদয়ের কথা শুনতে শুনতে তুমি কখনো বিভক্ত হবে না। নিজের হৃদয়ের কথা শুনলে তুমি সঠিক পথে চলতে শুরু করবে, সঠিক ও ভুল কী—তা নিয়ে কখনো চিন্তা না করেই।
সুতরাং, নতুন মানবতার জন্য সমগ্র শিল্পটি নিহিত থাকবে সচেতনভাবে ও মনোযোগ সহকারে হৃদয়ের কথা শোনার রহস্যের মধ্যে। এবং যেকোনো উপায়ে হৃদয়কে অনুসরণ করো, আর সে তোমাকে যেখানেই নিয়ে যাক। হ্যাঁ, কখনও কখনও সে তোমাকে বিপদের দিকে নিয়ে যাবে — কিন্তু তখন মনে রাখবে, তোমাকে পরিপক্ক করে তোলার জন্য সেই বিপদগুলো প্রয়োজন। এবং কখনও কখনও সে তোমাকে বিপথে চালিত করবে — কিন্তু আবারও মনে রাখবে, সেই বিপথগমনগুলো বিকাশেরই অংশ। বহুবার তুমি পড়ে যাবে। আবার উঠে দাঁড়াও, কারণ এভাবেই শক্তি সঞ্চয় হয় — পড়ে গিয়ে এবং আবার উঠে দাঁড়িয়ে। এভাবেই একজন সমন্বিত হয়।
কিন্তু বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া নিয়ম অনুসরণ করো না। কোনো চাপিয়ে দেওয়া নিয়মই কখনো সঠিক হতে পারে না, কারণ নিয়ম তারাই তৈরি করে যারা তোমাকে শাসন করতে চায়। হ্যাঁ, পৃথিবীতে কখনো কখনো মহান জ্ঞানদীপ্ত মানুষও এসেছেন — একজন বুদ্ধ (আ:) একজন যিশু (আ:) একজন কৃষ্ণ (আ:) একজন মোহাম্মদ (আ:)। তাঁরা পৃথিবীকে কোনো নিয়ম দেননি, তাঁরা দিয়েছেন তাঁদের ভালোবাসা। কিন্তু কিছুদিন পরেই শিষ্যরা একত্রিত হয়ে আচরণবিধি তৈরি করতে শুরু করে। গুরু চলে গেলে, আলো নিভে গেলে এবং তারা গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হলে, তারা অনুসরণ করার মতো কিছু নিয়মের সন্ধান করতে শুরু করে; কারণ যে আলোতে তারা দেখতে পেত, তা এখন আর নেই। এখন তাদের নিয়মের উপর নির্ভর করতে হবে।
মোহাম্মদ যা করেছিলেন তা ছিল তাঁর নিজের হৃদয়েরই আহ্বান, আর মুসলমানরা যা করে চলেছে তা তাদের নিজেদের হৃদয়ের আহ্বান নয়। তারা অনুকরণকারী—এবং যে মুহূর্তে তুমি অনুকরণ করো, তখন তুমি তোমার মানবতাকে অপমান করো, তুমি তোমার আল্লাহকেও অপমান করো।
কখনো অনুকরণকারী হয়ো না, সর্বদা মৌলিক হও। হুবহু নকল হয়ো না। কিন্তু সারা বিশ্বে তো ঠিক এটাই ঘটছে -- শুধুই নকল আর নকল।
তুমি যদি মৌলিক হও, জীবন সত্যিই এক নৃত্য হয়ে ওঠে—আর তোমার মৌলিক হওয়ার জন্যই জন্ম। কোনো দুজন মানুষ একরকম নয়, তাই আমার জীবনযাপনের পথ কখনো তোমার জীবনযাপনের পথ হতে পারে না।
গুরুর চেতনা ধারণ করো, তাঁর নীরবতা ধারণ করো, তাঁর সৌন্দর্য ও কৃপা শেখো। তাঁর সত্তা থেকে যতটা সম্ভব পান করো, কিন্তু তাঁকে অনুকরণ করো না। তাঁর চেতনা গ্রহণ করে, তাঁর ভালোবাসা পান করে, তাঁর করুণা গ্রহণ করে তুমি নিজের হৃদয়ের ফিসফিসানি শুনতে সক্ষম হবে। আর সেই ফিসফিসানি সত্যিই ফিসফিসানি। হৃদয় অত্যন্ত শান্ত, ক্ষীণ এক কণ্ঠে কথা বলে; সে চিৎকার করে না।
বুদ্ধের জন্য যা সঠিক, তা তোমার জন্য সঠিক নাও হতে পারে। শুধু দেখো, কৃষ্ণ বুদ্ধের থেকে কত আলাদা। কৃষ্ণ যদি বুদ্ধকে অনুসরণ করতেন, তাহলে পৃথিবী তার অন্যতম সুন্দর মানুষকে হারাত। অথবা বুদ্ধ যদি কৃষ্ণকে অনুসরণ করতেন, তাহলে তিনিও একজন নিকৃষ্ট নমুনা হয়ে থাকতেন। ভাবো তো, বুদ্ধ যদি বাঁশি বাজাতেন—তাহলে তিনি অনেকের ঘুম নষ্ট করতেন; তিনি বাঁশিবাদক ছিলেন না। বুদ্ধ যদি নাচতেন, দেখতে কত হাস্যকর, কত অযৌক্তিক লাগত!
বুদ্ধ হলো বুদ্ধ, কৃষ্ণ হলো কৃষ্ণ, আর তুমি হলে তুমিই। এবং তুমি কোনোভাবেই অন্য কারো চেয়ে কম নও। নিজেকে সম্মান করো, নিজের অন্তরের ডাককে সম্মান করো এবং তা অনুসরণ করো।
আর মনে রাখবে, আমি কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছি না যে এটি তোমাকে সবসময় সঠিক পথে নিয়ে যাবে। অনেক সময় এটি তোমাকে ভুল পথে নিয়ে যাবে, কারণ সঠিক দরজায় পৌঁছানোর জন্য প্রথমে অনেক ভুল দরজায় কড়া নাড়তে হয়। ব্যাপারটা এমনই। যদি তুমি হঠাৎ করে সঠিক দরজাটি খুঁজে পাও, তবে তুমি চিনতেই পারবন না যে এটিই সঠিক।
আমি তোমাদের শেখাই: যত পারো ভুল করো, শুধু একটা কথা মনে রেখো: একই ভুল আবার করবে না। আর এভাবেই তুমি বিকশিত হবে। বিপথে যাওয়া তোমার স্বাধীনতারই অংশ, এমনকি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যাওয়াও তোমার মর্যাদার অংশ। আর কখনও কখনও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যাওয়াটাও সুন্দর। এভাবেই তোমার মেরুদণ্ড তৈরি হতে শুরু করবে; নইলে লক্ষ লক্ষ মানুষ আছে, মেরুদণ্ডহীন।
তুমি কবে তোমার নিজের চেতনাকে ব্যবহার করবে? কবে?
আর কতদিন তুমি এই মৃত অতীতের সাথে বাঁধা থাকবে? গীতার জন্ম হয়েছিল পাঁচ হাজার বছর আগে; জীবন কত বদলে গেছে। যদি তুমি গীতা পড়তে চাও, তবে একে সুন্দর সাহিত্য হিসেবেই পড়ো — কিন্তু ঠিক সেভাবেই, এর বেশি কিছু নয়। এটি সুন্দর সাহিত্য, সুন্দর কবিতা, কিন্তু এতে অনুসরণ করার মতো কোনো বিধান বা আদেশ নেই। একে অতীতের এক উপহার হিসেবে, মহান কবি ব্যাসের উপহার হিসেবে উপভোগ করো। কিন্তু একে তোমার জীবনের অনুশাসন বানিয়ো না; এটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। একই ভাবে কোরআন, বাইবেল এবং ত্রিপিটক।
আর সবকিছুই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়, কারণ জীবন কখনো সীমাবদ্ধ থাকে না। তা চলতেই থাকে; সমস্ত সীমানা, সমস্ত বাধা অতিক্রম করে, এটি এক অনন্ত প্রক্রিয়া। গীতা কোথাও এসে থেমে যায়, কোরআন কোথাও এসে থেমে যায়, কিন্তু জীবন কখনো থেমে যায় না, এটা মনে রাখবে। নিজেকে এটা স্মরণ করিয়ে দাও।
আর জীবনের সংস্পর্শে থাকার, জীবন থেকে পিছিয়ে না পড়ার একমাত্র উপায় হলো এমন একটি হৃদয় থাকা যা দোষমুক্ত, যা নিষ্পাপ। তোমাকে যা বলা হয়েছে—কী করতে হবে আর কী করতে হবে না—সে সব ভুলে যাও, কারণ অন্য কেউ তোমা হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
যারা তোমার হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায়, সেইসব ভণ্ডদের এড়িয়ে চলো; নিয়ন্ত্রণের লাগাম নিজের হাতে নাও। তোমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আসলে, সেই দৃঢ়তার মধ্যেই তোমার আত্মার জন্ম হয়। যখন অন্যরা তোমার হয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তোমার আত্মা ঘুমিয়ে থাকে। যখন তুমি নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করো, তখন এক তীক্ষ্ণতা জেগে ওঠে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অর্থ হলো ঝুঁকি নেওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অর্থ হলো তুমি হয়তো ভুল করছ — কে জানে, এটাই ঝুঁকি। কে জানে কী ঘটতে চলেছে? এটাই ঝুঁকি, কোনো নিশ্চয়তা নেই।
পুরোনো জিনিসের একটা নিশ্চয়তা থাকে। লক্ষ লক্ষ মানুষ তা অনুসরণ করেছে, এত মানুষ কীভাবে ভুল হতে পারে? এটাই সেই নিশ্চয়তা। যদি এত মানুষ বলে এটা সঠিক, তবে তা সঠিকই হবে।
প্রকৃতপক্ষে জীবনের যুক্তিটা ঠিক এর উল্টো। যদি বহু লোক কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় অনুসরণ করে, তবে নিশ্চিত থাকো যে তা ভুল, কারণ বহু লোক ততটা আলোকিত নয় এবং হতেও পারে না। সংখ্যাগরিষ্ঠরা হলো চরম বোকা। সংখ্যাগরিষ্ঠদের থেকে সাবধান থাকো। যদি বহু লোক কোনো কিছু অনুসরণ করে, তবে সেটাই যথেষ্ট প্রমাণ যে তা ভুল।
সত্য ব্যক্তিবিশেষের কাছে প্রকাশিত হয়, জনতার কাছে নয়। তুমি কি কখনো কোনো জনতার জ্ঞানলাভের কথা শুনেছ? সত্য প্রকাশিত হয় ব্যক্তিবিশেষের কাছে—একজন মোহাম্মদ, একজন বুদ্ধ, একজন নানক, একজন কবির, একজন ফরিদ।
সত্য ব্যক্তিবিশেষের জীবনেই ঘটে।
যদি সত্যিই নিজের জীবনে সত্যের উন্মোচন চাও, তবে স্বতন্ত্র হও।
স্বতন্ত্র হতে প্রয়োজনীয় সমস্ত ঝুঁকি নাও এবং চ্যালেঞ্জগুলো গ্রহণ করো, যাতে সেগুলো তোমাকে শাণিত করতে পারে, তোমাকে মেধা ও বুদ্ধিমত্তা দান করতে পারে।
সত্য কোনো বিশ্বাস নয়, এটি পরম প্রজ্ঞা। এটি তোমার জীবনের গুপ্ত উৎসগুলোর এক স্ফুলিঙ্গ, তোমার চেতনার এক জ্ঞানদীপ্ত অভিজ্ঞতা। কিন্তু এটি ঘটার জন্য তোমাকে সঠিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আর সেই সঠিক পরিবেশটি হলো, তুমি যেমন আছো ঠিক তেমনভাবেই নিজেকে গ্রহণ করা।
কোনো কিছু অস্বীকার করো না, নিজেকে বিভক্ত করো না, অপরাধবোধে ভুগো না।
আনন্দ করো! এবং আমি তোমাকে আবার বলছি—তুমি যেমন আছ, তেমন হয়েই আনন্দ করো।
Translation By রুদ্র মুহাম্মদ মনজু Respect By Osho Dorshon

Comments