Thursday, October 15, 2020

"আদম মহান জ্ঞানের অধিকারী" লেখকঃ আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মা.) পীর ছাহেব, রাহে ভান্ডার সিলসিলাহ।





“আদম মহান জ্ঞানের অধিকারী”
আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মা.)
পীর ছাহেব, রাহে ভান্ডার সিলসিলাহ।

সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা ও প্রতিপালক ‘আল্লাহ’ জাল্লা শানুহুর। তিনি ইনছানকে (আদম) তাঁর (আল্লাহ) নিজ গঠন বা প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।
فِطۡرَتَ ٱللَّهِ ٱلَّتِى فَطَرَ ٱلنَّاسَ عَلَيۡہَا‌ۚ
“ফিত্বরাতাল্লাহি ল্লাহি ফাতারান্নাছা আলাইহা’ (সুরা রূম আয়াত-৩০)
অসংখ্য দরূদ ছালাত ও ছালাম জ্ঞাপন করি তাঁর প্রতি যাঁর পৃষ্ঠপোষক আল্লাহ। তিনি মানুষ সহ সৃষ্টি জগৎসমূহের পৃষ্টপোষক ও তত্ত্বাবধায়ক, হুজুর ‘মোহাম্মদ’ আল রাছুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামা এবং তাঁর বিবিগণ, আহালগণ, আছহাবগণ ও আহলে বাইয়াতগণের উপর ছালাত ও ছালাম।
অতঃপর নতশিরে ছজিদা, ছালাত ও ছালাম জ্ঞাপনকরি মাইজভান্ডারী শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বমানবের মুক্তির দিশারী। আল্লাহ প্রাপ্তগণের শাহেন শাহ ছিরতে মোস্তাফা, আহলে মুরতজা, হুজুর হযরত গাউছুল আজম, শাহছুফি মৌলানা ছৈয়দ ‘আহমদ উল্লাহ’ (ক.) মাইজভান্ডারী এবং তাঁর সুযোগ্য প্রতিনিধি ছৈয়্যদেনা, মুর্শিদেনা, ছাহেবুল অজুদুল কোরআন, মৌলানা ছৈয়দ ‘ছালেকুর রহমান’ শাহ (ক.) রাহে ভান্ডারী (প্রকাশ দুলহায়ে হযরত) এবং তাঁর প্রতিনিধি আমার মুর্শিদ কেবলা, সুলতানুল আরেফিন,আজাদে মোজাদ্দেদে জমান, শাহছুফি মৌলানা ছৈয়দ মোহাম্মদ ‘আব্দুল মালেক’ শাহ (কঃ) রাহে ভান্ডারী’র প্রতি যিনি অধম গোলামকে পরিচয় দান করেছেন ‘খালাকাল্লাহু আদামা আলা ছুরাতিহী’ এর রাজ রহস্য জ্ঞান, যেই জ্ঞানই ‘কলমা শাহদাত’ এর আইনুল ইয়াকিন বা প্রত্যক্ষ ঈমান। আলহামদুলিল্লাহ।
আমি অতি নিকৃষ্ট আদম সন্তান। আদম রাজরহস্য সম্পর্কে অজ্ঞানী ও গন্ড মূর্খ। আমার ইতিপূর্বে লেখা “আদম মহান ছুরত ও ছিরত’ অপরিনামদর্শী লেখার জন্য সকল জ্ঞানীগুণী পাঠকদের প্রতি আমি করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছি কারণ আমি জানি যে আমি নিজে কোন প্রকারের লেখক হিসাবে গণ্য নই। তবুও লিখতে হয় তাদের আন্তরিক ইচ্ছায়। তারা আগামী ‘রাহে ভান্ডারী’ এই আমার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা। আমি পরাজিত তাদের নিকট। আমি কি লিখব? আমার গাউছুল আজম যদি শক্তি দান করেন আপনাদের সম্মুখে আমার প্রাণপ্রিয় মোর্শেদ কেবলা হযরত মৌলানা ছৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শাহ্ (ক.)’র কালামে পাক-
“জ্ঞানের আলোকে আগমন হয়ে মুক্তির সন্ধান পায়”
মুনিব যদি সহায় হউন এর সামান্য ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করব।
الرَّحْمَنُ * عَلَّمَ الْقُرْآنَ *خَلَقَ الْإِنسَانَ *عَلَّمَهُ الْبَيَانَ
অনুবাদ- “১. পরম দয়ালু {(আদম) (নিজেই শিক্ষক এবং শিক্ষার মূল বা শিক্ষনীয় বিষয়)}।
২. কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। (আল্লাহ নিজ রহস্য, আকৃতি, প্রকৃতি, স্রষ্টাত্ব, সৃষ্টিত্ব সর্ব প্রকার জ্ঞান, সকল প্রকার আলোচনা ও আলাপ তথা কোরআন)। ‘আপন মাহবুবকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন”
৩. ইনছান সৃষ্টি করেছেন। {মোহাম্মদ (দঃ) সর্বশ্রেষ্ট আদম রূপক তথা স্রষ্টাত্ব ও সৃষ্টিত্বের মূল বিষয় বস্তু} (খাঃ ইঃ অনুবাদ- মানবতার প্রাণ মোহাম্মদকে সৃষ্টি করেছেন)
৪. তাঁকেই বর্ণনা শিক্ষা দিয়েছেন। {আল্লাহর (জাহের বাতেন, প্রকৃতি ইত্যাদি) সকল রহস্যের বর্ণনা}। (খাঃ ইঃ অনুবাদ- যা সৃষ্টি হয়েছে এবং যা সৃষ্টি হবে, সব কিছুর স্বপ্রমাণ বর্ণনা তাঁকেই শিক্ষা দিয়েছেন);
টীকা- ইনছান দিয়ে এই আয়াতের মধ্যে বিশ্বকুল সরদার মোহাম্মদ মোস্তাফা (দ.) এর কথা বুঝানো হয়েছে। কেননা নবী করিম (দঃ) পূর্ববর্তী পরবর্তী সব সৃষ্টিরই সংবাদ দিতেন। (খাজিন)
আমার মুর্শিদ কেবলা ছৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শাহ্ (ক.) বলেন ‘এই আয়াত সমুহের ক্রমবিন্যাস থেকে প্রামাণিত হয় যে, আল্লাহ প্রথমে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন, অতপর ইনছান (আদম) সৃষ্টি করেছেন। অতপর তাঁকেই সব কিছুর বর্ণনা শিক্ষা দিয়েছেন।
সুতরাং ‘জ্ঞানের আলোকে আগমন হও। হে আদম সন্তান! সৃষ্টির পূর্বে কোন কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করেছেন? যার শিক্ষক স্বয়ং আল্লাহ রাহমানুর রহিম এবং শিক্ষা গ্রহিতা হুজুর (দ.)। পরবর্তীতে বর্ণনাকারী হিসাবে উল্লেখিত হয়েছেন। অর্থাৎ শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। আরো গভীরভাবে লক্ষ্য করলে বুঝা যায়; যিনি সৃষ্টি পূর্বে কোরআন শিক্ষা করেছেন। তাঁর নিকট হযরত জিব্রাইল (আ.) কি নিয়ে আসতেন? কোরআন? কোন কোরআন? জিব্রাইল (আঃ) মারফতে প্রেরিত কোরআন আরবী ভাষাবিদ ব্যক্তির নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করা যায়। তার উজ্বল উদাহরণ গিরিশ চন্দ্রসেনই সর্ব প্রথম কোরআনের বঙ্গানুবাদ করেন।
এখানে শিক্ষক গিরিশ বাবু ছাত্র বাঙ্গালীর। হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত “দুলহায়ে হযরত” ছালেকুর রহমান শাহ (ক.) জানান ঐ কোরআন লৌহিম মাফুজে রক্ষিত কোরআন। সৃষ্টি পূর্ব জ্ঞান যার শিক্ষক আল্লাহ, ছাত্র নবী (দ.) উক্ত জ্ঞান শিক্ষার জন্য উদাহরণ স্বরূপ বললেন {(খালেক)- নূরে মোহাম্মদী > মাখলুক-নূরে মোহাম্মদী অতএব (খালেক)-নূরে মোহাম্মদী > মাখলুক কুল্লে শাঁইয়িন তথা আদম} উদাহরণ
اول ما خلق الله نوره وخلق كل شيء من نوري
“আউয়ালুমা খালাকাল্লাহু নূরী ওয়া খলকু কুল্লুহুম মিন নূরী”
অনুবাদ- “প্রথমে আল্লাহ আমার নূরকে সৃষ্টি করলেন এবং আমার থেকে প্রত্যেক কিছু সৃষ্টি করলেন”। (আল্লাহ > মোহাম্মদ > আদম > আদম সন্তান)।
অতএব হে আদম সন্তান! “জ্ঞানের আলোকে আগমন হও আপনাতেই শ্রেষ্টত্ব আপনিই তালাশ করুন”।
নবীজির নিকট থেকে আপনার শ্রেষ্টত্ব বর্ণনা শিক্ষা কর“ন, উক্ত বর্ণনা ও শিক্ষাক্রম সৃষ্টি পূর্ব থেকে যা লৌহিম মাহফুজে বর্ণিত। যা কালির কলম দিয়ে বর্ণনাযোগ্য নয়। নবীজি পুস্তকী ভাষায় শিক্ষিত নন। যাঁর শিক্ষা স্বপ্রমাণ আল্লাহর শিক্ষা। প্রমাণ সহ শিক্ষা গ্রহণ কর“ন নবীজির নিকট।
وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لاَ يَعْلَمُهَا إِلاَّ هُوَ
“ওয়া ইন্দাহু মাফাতিহুল গাইবে লািইয়ালামুহা ইল্লা হুয়া”
অনুবাদ-“এবং তাঁর নিকট অদৃশ্য জ্ঞান ভান্ডারের চাবিসমূহ, যা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না”। (সুতরাং তিনি যাকে ই”ছা করেন তিনিই অদৃশ্য সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করেন। তিনি না জানালে অন্য কেউ সে সম্বন্ধে জানতে পারেনা। “ওয়াহেদী”)
وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ
“ওয়ালামু মা’ফিল বাররে ওয়াল বাহারে” অনুবাদ- “আর তিনি জানেন যা স্থলে ও সমুদ্রে আছে”।
وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلاَّ يَعْلَمُهَا
“ওয়া তাছকাতু মেওয়ারা ক্বাতিন ইল্লা ইয়ালামুহা” অনুবাদ-তার অজান্তে কোন পাতাও ঝড়ে পড়ে না।
وَلاَ حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الأَرْضِ وَلاَ رَطْبٍ وَلاَ يَابِسٍ إِلاَّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ
“ওলা আহাব্বাতিন ফি জুলমাতিল আরদে ওলা রাতবিউঁ ওলা ইয়াবিছিন ইল্লা ফিকিতাবিমমুবিন” অনুবাদ- এমন কোন শস্যদানা নেই জমিনের অন্ধকারে এবং এমন কোন আর্দ্র ও শুষ্ক বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই”। (সূরা আনআম আয়াত ৫৯)
সুস্পষ্ট কিতাব বলতে লৌহিম মাহফুজ বুঝিয়েছেন। যা কিছু হবে, যা কিছু হয়েছে, সব কিছুর জ্ঞান আল্লাহ তায়ালা এর মধ্যে লিপিবদ্ধ করেছেন”। (খাজাইনুল ইরফানের টীকা থেকে)
“ওয়া আনজালাল্লাহু আলাইকাল কিতাবা ওয়াল হেকমাতা ওয়াল্লামাকা মা লাম তাকুন তায়ালাম। ওয়াকানা ফদলুল্লাহে আলাইকা আজিমান”
অনুবাদ- “আর আল্লাহপাক আপনার উপর একটি কিতাব ও হেকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না। আর আপনার সাথে আছে আল্লাহর মহা অনুগ্রহ বা নিয়ামত”।
হে আদমের উত্তরাধীকারী! জ্ঞানের আলোয় আগমন করুন, উল্লেখিত কিতাব হেকমত ও অজ্ঞাত বিষয় রস্তু জানতে ও শিখতে নবী কিংবা নায়েবে নবী, যাঁরা নবীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করেন, তাঁদের নিকট গমন কর“ন। তাঁদের সাহচর্য গ্রহণ কর“ন। নিজেকে উৎসর্গ করুন। নিয়ামতের অধিকারী হোন।
عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ
"আলামুল গাইবে ফালা ইউজহেরু আলা গাইবিহি আহদান" (সূরা জ্বিন, আয়াত-২৬)
অনুবাদ- “তিনি অদৃশ্যের জ্ঞাত আর তিনি অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না।
إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدً
ইল্লা মানির তাদ্বোয়া মির রাসূলিন্ ফাইন্নাহূ ইয়াসলুকু মিম্ বাইনি ইয়াদাইহি অমিন্ খলফিহি রাছাদান"
(সূরা জ্বিন, আয়াত-২৭) তবে তাঁর মনোনীত রাসূলকে অতঃপর তিনি তাঁর অগ্রে পশ্চাতে প্রহরী প্রেরণ করেন।
لِيَعْلَمَ أَنْ قَدْ أَبْلَغُوا رِسَالَاتِ رَبِّهِمْ وَأَحَاطَ بِمَا لَدَيْهِمْ وَأَحْصَى كُلَّ شَيْءٍ عَدَدًا
" লি ইয়ালামা আনক্বাদ আবলাগু রেছালাতি রাব্বিহিম ওয়া আহাতস বিমা লাইদিহিম ওয়া আহছা কুল্লে শাইয়্যিন আদাদান" যাতে তিনি দেখে নেন যে, তারা তাদের প্রতিপালকের পয়গাম পৌছিয়েছেন কিনা এবং তাদের সব কিছযু র্আলা বেস্টন করে আছেন এবং প্রত্যেক কিছু গনণা করেছেন”। (সূরা জ্বিন আয়াত-২৮)
হে আদম সন্তান! জ্ঞানের অন্বেষণ কর, অদৃশ্য জ্ঞাতদের স্মরণাপন্ন হও। যাদেরকে তিনি সেই অদৃশ্য জ্ঞান দান করেছেন এবং সে জ্ঞানকে হেফাজত করুন। যা আল্লাহ এবং হুজুর (দ.) করেছেন। সূরা তাকবীরের ভাষায় জেনে রাখুনঃ-
وَاللَّيْلِ إِذَا عَسْعَسَ
অনুবাদ - “(১৭) রাতের অবসান কালের শপথ।
وَالصُّبْحِ إِذَا تَنَفَّسَ
(১৮) প্রভাতের শ্বাস গ্রহণ কালের শপথ।
إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ
(১৯) নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত প্রেরীতের বাণী।
ذِي قُوَّةٍ عِندَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ
(২০) যিনি শক্তিশালী আর্শাধিপতির নিকট সম্মানীত।
مُّطَاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ
(২১) সেখানে তাঁর আদেশ পালন করা হয় যিনি আমানতদার।
وَمَا صَاحِبُكُم بِمَجْنُونٍ
(২২) তোমাদের মুনিব {মোহাম্মদ (দ.)} যিনি তোমাদের সাথে আছেন তিনি পাগল নন।
وَلَقَدْ رَآهُ بِالْأُفُقِ الْمُبِينِ
(২৩) নিশ্চয় তিনি তাঁকে প্রকাশ্য দিগন্তে দেখেছেন।
وَمَا هُوَ عَلَى الْغَيْبِ بِضَنِينٍ
(২৪) তিনি {নবী (দ.)} অদৃশ্য বিষয় প্রকাশ করতে কৃপণ নন।
হে আদমজাদা! তালাশ কর (আল্লাহ এবং নবীকে) আপনার সাথে সব সময় রয়েছেন। আপনার সাথে সাক্ষাত করতে উচ্ছাস প্রকাশ করেন। আপনি কেন অবহেলা করবেন। জ্ঞান অর্জন করুন। মহা জ্ঞানীর সান্নিধ্যে গমন করুন। নিজেকে সমর্পন করুন।
"আল্লাজিনা আমানু মিনকুম ওয়াল্লাজিনা উউতুল এলমা দরাজাতিন ওয়াল্লাহু বেমা তায়ামালুনা খাবির"
অনুবাদ- “আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের স্থর সমূহ সমন্নত করবেন এবং আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে অবগত”।
হে আদম পুত্র! যথার্থ আদম দাবী করতে হলে ঐশী জ্ঞানী পীর তালাশ কর যে নিজের ও আল্লাহর খবর রাখেন। নবীকে জাহেরী ভাবে না পেলে, নায়েবে নবীর স্মরণাপন্ন হও। যার কাছে নবীজির খবর আছে বা যিনি নবীজিকে চিনেন এবং নবীজির পরিচয় দান করত পারবেন বা তাঁর সাথে সাক্ষাত করাতে পারবেন। লেখা দীর্ঘায়িত না করার জন্য নিম্ন কিছু জ্ঞান সম্পর্কে কোরআন সুন্নাহ এবং মহান ব্যক্তিদের উক্তি উল্লেখ করব। যাতে জ্ঞানের আলোকে আগমনের পথ সুগম হয়।
আল কোরআন
(১) বলুন, হে আমার প্রভু! আমার জ্ঞানের পরিধি বর্ধিত কর“ন।
(২) ওগো নবী! আপনি বলুন জ্ঞানীগণ কি কখনো অজ্ঞদের সমান হতে পারে?
(৩) বরং এগুলি তাদের জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শন যাদের বুকে জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে।
(৪) যেমন আমি তোমাদের নিকট থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যিনি আমার আয়াতগুলি তোমাদের নিকট আবৃত্তি করেন। কিতাব ও হেকমতের শিক্ষা দেন এবং তোমরা যা জানতে না তা তোমাদেরকে শিক্ষাদান করেন।
আল হাদীছ
(১) জ্ঞান তালাশ কর তা যদি সুদূর চীন দেশেও হয়।
(২) আবেদের উপর জ্ঞানীর শ্রেষ্টত্ব, যেমন কোন সাধারণ ছাহাবীর উপর আমার শ্রেষ্টত্ব।
(৩) জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের (চেয়েও) অধিক মূল্যবান।
(৪) মো'মেন আবেদ থেকে মো'মেন আলেমের মর্যাদা ৭০ গুণ বেশী।
(৫) আল্লাহপাক যার মঙ্গল কামনা করেন তাকে ধর্মীয় জ্ঞান প্রদান করেন এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
(৬) চার জন ব্যক্তি পুরস্কৃত হবেন। জ্ঞানের তালাশকারী, জ্ঞানী ব্যক্তি, জ্ঞান সম্পন্ন আলোচনার শ্রোতা এবং জ্ঞানের অনুরক্ত ব্যক্তি।
(১) ছৈয়দ মওলা আলী শেরে খোদা (কর.) বলেন, “জ্ঞান ধনরত্ন থেকে উত্তম, ধনরত্ন ব্যয়ে হ্রাস পায় এবং জ্হান ব্যয়ে বৃদ্ধি পায়। জ্ঞানীজন রোজাদার, রাতজাগা, নামাজী এবং ধর্মযুদ্ধা থেকে উত্তম।
(২) হযরত ফারুকে আযম (রা.) বলেন, “হাজার রাত্রি জাগরণকারী ও হাজার দিনের রোজাদার এরূপ হাজার আবেদের মৃত্যু একজন জ্ঞানীর মৃত্যুর তুলনায় কিছুই নয়”।
(৩) হযরত ইবনে আসাদ (রা.) বলেন, “জ্ঞানের তুলনায় অধিকতর সম্মান এবং মর্যাদার বস্তু নেই। বাদশাহ প্রজাকে শাসন করে এবং জ্ঞানীরা বাদশাকে শাসন করে”।
(৪) হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (দ.)’র নিকট থেকে দুই পাত্র শিক্ষা লাভ করেছি। যার একটি হাদিছ রেওয়াতের মাধ্যম প্রকাশ করেছি আর অপরটি যদি প্রকাশ করি তাহলে আমার গলা কাটা যাবে”।
পরিশেষে বলি, “ইনছানে কামেল” (পরিপূর্ণ আদম)’র নিকট থেকে গুপ্ত ব্যক্ত সকল প্রকার জ্ঞান অর্জন করুন। “জ্ঞানই মুক্তি”।
হুজুর গাউছুল আযম জিলানী (ক.) বলেন, "হে নাদান! আল্লাহর ওয়াস্তে জ্ঞান অর্জন কর এবং সে মতে আমল কর। তিনি তোমাদেরকে শাহী আমল শিখিয়ে দিবেন”।
শিক্ষাই জীবন, কুশিক্ষাই মৃত্যু, ছিদ্দিক এলমে শরীয়ত শিক্ষার মাধ্যমে সাধারণ মো'মেনগণের মধ্যে পরিগণিত হয়ে পরে পৃথক হয়ে যান, তখন তাকে খাছ এলম অর্থাৎ ক্বলব এবং রহস্যের মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়।
এই এলম শিক্ষাই পারদর্শীতা অর্জন করার পর আল্লাহর দ্বীনের বাদশাহ হন। যে বাদশাহ বানানো ওয়ালার আদেশক্রমে আদেশ করেন, বিরত রাখেন, দান করেন, আবার বঞ্চিত করেন। তিনি পৃথিবীতে রাজ্যাধিপতি হয়।
আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ ক্রমে আদেশ নিষেধ করেন। তাঁরই নির্দেশক্রমে মানুষের নিকট থেকে গ্রহন করেন এবং তাঁরই আদেশ অনুযায়ী দান করেন অর্থাৎ আদেশানুযায়ী মানুষের সাথে এবং এলম অভ্যন্তরীণ বিষয়বস্তু। হুকুম সাধারন এবং এলম বৈশিষ্ট্যময়। আরেফ আল্লাহর দরবারে দন্ডায়মান। তাঁকে মারেফতের জ্ঞান এবং ঐ সমস্ত বিষয়ের জ্ঞান দান করা হয়। যা অন্যকে দেয়া হয়না।
বুদ্ধিমান হও, জ্ঞান অর্জন কর, আমল কর এবং সরল হও। প্রথমে সৃষ্টির নিকট, পরে স্রষ্টার নিকট জ্ঞান অর্জন কর।
হুজুর (দ.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি স্বীয় এলম অনুযায়ী আমল করে আল্লাহ তাকে এলম দান করেন। যা তার আয়ত্বে ছিলনা”।
প্রথমে মানুষের নিকট জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। আর তা হলো হুকুম বা এলমে শরীয়ত। দ্বিতীয় পর্যায়ের জ্ঞানার্জন আল্লাহর নিকট। উহা এলমে লদুনী। এই জ্ঞান ক্বলবের জন্য নির্দিষ্ট এবং এমন একটি রহস্য যা বাতেনের সাথে সম্পর্ক যুক্ত এটি অর্জন করার জন্য পীরের প্রয়োজন। 
উস্তাদ ব্যতীত কোন বিষয়ে কিভাবে শিক্ষা লাভ করা যায়? তুমি হেকমতের গৃহে আছ জ্ঞান অর্জন কর। জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।
 হুজুর (দ.) এরশাদ করেছেন, “জ্ঞান অর্জন কর সেই জ্ঞান যদি সুদূর চীন দেশেও হয়”। 
এমন ব্যক্তির সাহচর্যে থাক যিনি তোমাকে নফছের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে সাহায্য করেন। কিন্তু যে তোমার বিরুদ্ধে নফছের সাহায্য করে এমন ব্যক্তির সাহচর্যে বিষৎ পরিত্যাজ্য। 
তুমি যদি জাহেল, মুনাফিক এবং রিপু পূজারী পীরের সাহচর্যে থাক তবে সে তোমাকে অবশ্যই নফছ পূজারী করে তুলবে। 
পীরের প্রয়োজন পরকালের জন্য, দুনিয়ার জন্য নয়। পীর যখন লোভী এবং স্বভাবের দাস হয় তখন তার সাহচর্য পার্থিব লোভ লোকসানের জন্য হয়ে থাকে। আর যিনি অন্তরের অধিকারী তাঁর সাহচর্য পারকালের জন্য হয়ে থাকে আর যিনি বাতেনের অধিকারী তাঁর সাহচর্য মওলার জন্য হবে। আল্লাহকে না দেখা পর্যন্ত ওয়াজ করিও না। তাই ঐ সময় তুমি সত্য অবলোকন করিবে যে সত্য তোমাকে উঠিয়ে নিবে। সম্মুখে এগিয়ে দিবে এবং জাগ্রত করবে। মিথ্যা তোমাকে পিছনে ঠেলে নিবে এবং নিদ্রিত করে দিবে।
হুজুর (দ.) এরশাদ করেছেন, “আল্লাহর দর্শন ব্যতীত মো'মিনের কোন শান্তিই নেই”। যথার্থ ইসলাম অর্জন কর যেন ঈমান পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হও। তখন তুমি এমন বস্তু দেখবে যা ইয়াকিনের পূর্বে দেখনি। ইয়াকিন তোমাকে প্রতিটি বস্তুর আসল রূপ দেখাবে। শুনা বিষয় প্রত্যক্ষভাবে দেখা দিবে। ইয়াকিন ক্বলবকে আল্লাহর দরবারে দাঁড় করে দেবে। প্রতিটি বিষয়বস্তুই তাঁর (আল্লাহ) পক্ষ থেকে দেখবে। ক্বলব যখন আল্লাহর দরবারে দন্ডায়মান হবে তখন সম্মানের হাত তাঁর দিকে প্রসারিত হবে এবং তাঁর উপর মেহেরবানী বর্ষণ হবে। তখন সে ক্বলব করুনাময় ও উৎসর্গকারী হয়ে সৃষ্টির প্রতি মেহেরবান ও দানশীল হবে। কোন কিছু দান করতে কৃপণতা করবে না। সুস্থ ক্বলব যা আল্লাহর গ্রহণযোগ্য হয় এবং সেই বাতেন পবিত্র হয় তারা উভয়েই মেহেরবান হয়। ক্বলব এবং বাতেন কেন করুণাময় হবে না? কারণ সর্ব শ্রেষ্ঠ মেহেরবান তাঁদের উপর করুণা বর্ষণ করে থাকেন। “ফাতহুর রব্বানী”
বিঃদ্রঃ আমার প্রাণপ্রিয় মুর্শিদ কেবলা মৌলানা ছৈয়দ মোহাম্মদ মালেক শাহ্ (ক.) হুকুম করেছেন, “যতক্ষণ তুমি নিজে না দেখ এবং না বুঝ ততক্ষণ আমার কথাও বিশ্বাস করো না”। 
সুতরাং প্রত্যক্ষ ঈমান এবং ইয়াকিন হতে হুজুর গাউছুল আজম এর ভাষণ তথা অমিয় বাণী উম্মতে মোহাম্মদীর হেদায়াত এবং পরিত্রাণের জন্য তুলে ধরলাম। আল্লাহ আমাকে মাফ করুন। সৎ পথে পরিচালিত করুন। আমাদের সকলকে আইনুল ইয়াকিন এ হক্কুল ইয়াকিন দান করুন। এক মাত্র তুমিই ক্ষমাকারী এবং মহান দয়ালু ও দাতা। আমীন! আমীন! আমীন!
সম্পাদনায়-
ছৈয়দ মশিউর রহমান রাহাত
খাদেমুল ফোক্বরা, রাহে ভান্ডার
POSTED BY: SHAHAB UDDIN
facebook.com/shahab2info   

No comments:

URS-E AKBAR - CHATTOGRAM DARBAR SHARIF - SUFISM - ...

Sufism - Global Sufi Media: URS-E AKBAR - CHATTOGRAM DARBAR SHARIF - SUFISM - ... : সৃষ্টি জগতের মহান ত্রাণকর্তা মওলা নবী - হযরত আহমদ মোজতবা...