Tuesday, September 29, 2020

“মৌলবাদ নয়, অলীগণই মহাত্মা”

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি কুল কায়িনাতের সৃষ্টিকর্তা
অবিরত সালাত-সালাম ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন
করছি বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী
হুজুর নূর আহমদ মোস্তফা মোহাম্মদ মোজতবা দ:
এর প্রতি এবং অবনত মস্তকে ছদিজা নিবেদন করছি
আমাতে আমার চেতনাদানকারী মহান প্রাণ প্রিয়
মুর্শিদ কিবলায়ে আলমের চরণ যুগলে।

আমি কোন জ্ঞানী নই। যদি দয়াময় মুর্শিদ মওলা বাবাজান
কেবলার কিঞ্চিত নজরে করম নসিব হয় , তাহলে
আমার মুর্শিদের দেয়া শিক্ষা-দীক্ষা থেকে আলোচ্য
বিষয়ের আলোকে কিছু ব্যাক্ত করতে প্রয়াস পাবো।

" মৌলবাদ " শব্দটি প্রসিদ্ধ একটা শব্দ যার মূল অর্থ অভিভাবকত্ব।
যারা এই মহান গুণের সাথে জড়িত তাদের
বলা হয় "মৌলবাদী"।
প্রকৃত পক্ষে এটি আল্লাহর অলীনের একটি সর্বোচ্চ স্থর।
কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো বর্তমানে
এটি ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করতে দেখা যায় ।
অর্থ্যাৎ , পবিত্র ধর্মে যারা বৈষয়িক সার্থ সিদ্ধির জন্য
ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে।
এবং ইসলাম ধর্মকে ব্যবসার ন্যায় পুঁজি বানিয়ে জীবিকা নির্বাহের
মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে মানবতা বিরোধী
কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে তাদেরকে বুঝায়।

পক্ষান্তরে "অলী" শব্দের একবচন আউলিয়া।
এটি আরবি শব্দ, আভিধানিক অর্থ হল বন্ধু, অভিভাবক, সাথী ইত্যাদি।
পরিভাষায় , যারা আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী মূলত তাঁরাই অলী।
সুতরাং যাদের আল্লাহ্ রাসুলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ
সম্পর্ক রয়েছে নিঃসন্দেহে তারাই অলী বা "মহাত্মা"
তথা হাদি বা পথ প্রদর্শক।

মহান আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু এরশাদ করেন
" হে নবী আপনী বলে দিন অন্ধ এবং অন্তর
দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যাক্তি কি এক সমান ..?
এবং তোমরা কি এ সম্পর্কে চিন্তা করনা....?"

এখানে অন্ধ বলতে তাদের বুঝানো হয়েছে যারা
আল্লাহ ও হায়াতুন্নবীর জাহের তথা প্রকাশ্য বাতেন তথা
অপ্রকাশ্য অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞান রাখেনা"
এখানে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাপার হলো, যারা আদম, নবী, আল্লাহর পরিচিত রাজ রহস্য
না দেখে না বুঝে এবং ধর্মকে কাল্পনিক হিসেবে অপব্যাখা দিয়ে
সরল প্রাণ মানুষদের দীনি জ্ঞান দান করতে চান,
তারা কিভাবে নায়েবে রাসুল হতে পারে..?

রাসুল সা: এরশাদ করেন, "নিশ্চই আলেমগণের মধ্যে আলেমগণই
সর্বোৎকৃষ্ট এবং আলেমগনের মধ্যে আলেমগণই সর্ব নিকৃষ্ট।

উপরোক্ত হাদিসের আলোকে এ কথা উজ্জ্বল দিবালোকের মত
স্পষ্ট হয়ে গেল যে, সবাই আলেম বলে দাবি করলেও,
সবাই আল্লাহর নিকট আলেম না।
এক শ্রেনীর আলেম আল্লাহর নিকট প্রিয় এবং
অন্যশ্রেণীর আলেম আল্লাহর কাছে সর্ব নিকৃষ্ট।

যে সমস্ত ব্যাক্তি বর্গের নিকট হাকিকত ও মারেফত
জ্ঞান নেই তাদের স্বভাব এবং বেশ ভূষণ সম্পর্কে
হযরত মুহাম্মদ সা: এরশাদ করেন "
আচিরেই আমার উম্মত এমন যুগের সম্মুখীন হবে
যখন তাদের অন্তর হবে বাঘের সদৃশ, তাদের
কথা হবে নবীদের কথা সদৃশ আর তাদের কাজ
হবে ফেরআউনের কাজ সদৃশ"
এসব লোক হতে আমি পবিত্র এরাও আমার তরিকা বহির্ভূত।

আরেফ কবি রজ্জব দেয়ান বলেন-

"অন্ধেরে কি আরেক অন্ধ পথ দেখাতে পারে কখন..
শ্রী গুরু চৈতন্য বিনে কে তোমারে করবে চেতন"

উপস্থাপিত বাণী টুকুর মধ্যে অন্ধ মূলত তারাই
যারা আল্লাহ ও রাসুল পরিচিতিতে অজ্ঞ বা জাহেল।
কিনবা যাদের সকল ইবাদত বন্দেগী উপাসনা
কাল্পনিক বিশ্বাসের মাধ্যমে সংগঠিত হয়।

পক্ষান্তরে, শ্রীগুরু মূলত তিনিই , যিনি গায়েব কিনবা
অদৃশ্যের প্রত্যক্ষ সংবাদ দাতা তথা আল্লাহ, নবী রাসূল
ফেরেস্তা সহ নানাবিধ অজানা জানানো, অচেনাকে চেনানো।
তিনিই গুরু, তিনিই মুর্শীদ তিনিই পীর,
তিনিই ইনসানে কামেল।

আর এই সমস্ত গুণগানের সর্বোত্তম, মডেল
দর্পন হলেন আমার পরম মুর্শীদ ,
স্যায়্যিদুনা গাওছুনা মালযানা হাবিবুনা হযরত
মাৌলানা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মা: জি: আলী)
যিনি বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে পরিচিত ও সমাদৃত। প্রকৃত পক্ষে তাঁরাই অলী বা "মাহাত্ম"

মহান অলী মহাত্মা লালন সাঁইজী বলেন

ভেদ বিধির পর শাস্ত্র কানা
আরেক কানা মন আমার
এসব দেখি কানার হাঁট বাজার
পন্ডিত কানা অহংকারে
সাধু কানা অহংকারে
মাতব্বর কানা ছুগলখোরে
আন্দাজে এক খুঁটি গেরে
জানে না সীমানা কার
এসব দেখি কানার হাঁটবাজার

মহান সাধক লালন ফকিরের তাৎপর্য পূর্ণ বাণীর
মাধ্যমে এ বিষয়টি ইঙ্গিত বহন করে যে, ভেদ
বিধির শাস্ত্র গ্রন্থ, বই পুস্তক ইত্যাদি গ্রন্থগত বিদ্যা
মানবকে পরিবর্তন কিনবা পরিশুদ্ধ করনে চূড়ান্ত হাতিয়ার নয়।
কারণ এ সমস্ত শাস্ত্রগুলোর ব্যাখা অপব্যাখায়
আপন আপন গ্রন্থাগারের মত প্রতিফলিত হয়।

আমার মুর্শীদ মাওলার অমিয় কালাম হলো
" হযরত জিব্রাইল আ: ১০৪ খানা কিতাবের বাহক
হিসাবে নবী রাসূলদের কাছে ওহী বহন করতেন।
আর মেরাজের রজনীতে আল্লাহর সাথে রাসূল সা: এর
দীদার সংগঠিত হয়।
তখনতো জিব্রাইল নবীর সঙ্গে সাথী হিসেবে ছিদরাতুল মুনতাহা
পর্যন্ত গিয়াছিল,
ছিদরাতুল মুনতাহার পর আল্লাহ্ যথেষ্ট।
সুতরাং একথা দিব্য জ্ঞানের ন্যায় সুস্পষ্ট যে ,
কিতাবের হাওলা দিয়ে কিতাবের কাল্পনিক আমল দিয়ে
মাওলার সান্নিধ্য সাক্ষাত অসম্ভব।

বিখ্যাত আলেম মৌলানা জালালুদ্দীন রুমী (র:) ও তাঁর পীর
শামসে তাবরিজর ঘটনা এক্ষেত্রে উল্ল্যেখযোগ্য।

মাওলানা রুমী বলেন
" মাওলানা হান গিয নাহ শুদ মাওলা এ রুম
তা গোলামে শামসে তাবরীয নাহ্ শুদ্ "

অর্থ্যাৎ আমি মৌলানা রুমি কখনও মৌলবি হতে
পারতাম না যদি না আমার পীর শামসের তাবরিজের গোলামী না করতে "

উপরোক্ত মহান মনিষীদের আলোচনা থেকে এ কথা
সুষ্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে , আল্লাহ রাসুলের সাথে
সাক্ষাতের মাধ্যম হলো মেরাজী এলম,
যে এলম আল্লাহ এবং রাসূলের মধ্যে উম্মতের
মুক্তির তরে আদান প্রদান হয়েছিল..
যে এলমে হাদিসে বলা হয় ইলমে হাকিকত ওয়াল মারেফত
বা ইলমে লুদুন এবং সেই ইলম্ নবী করিম সা: 
মাওলা আলীকে দান করেছেন। মাওলা আলী ইমাম হাছান, হোসাইনকে দান করেছেন
তাঁর আওলাদগণ পরিজনদের দানের মাধ্যমে তারাই ধারাবাহিকতায়
গাউছে পাক আব্দুল কাদেন জীলানি এবং তাঁর মাধ্যমে
গাউছুল আজম মাইজ ভান্ডারী এবং গাউছে মাইজভান্ডারীর মাধ্যমে
দুলহায়ে হযরত ছালেকুর রহমান শাহ্ (ক:)
এবং তাঁর মাধ্যমে আজাদে মোজাদ্দেদ এ জমান
মাওলানা ছৈয়দ আব্দুল মালেক শাহ ক: 
এবং তাঁর মাধ্যমে আমার প্রাণপ্রিয় মাওলা
মুর্শিদ কিবলায়ে আলম দান করেন সকল 
উম্মতে মুহাম্মদী তালেবুল মওলাকে।

এতে সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, যারা আল্লাহ রাসুলের হাকিকত জ্ঞানে জ্ঞানী
তারাই নি:সন্ধেহে অলী আল্লাহ, মহাত্মা, মৌলানা বা অভিভাবক।

আসুন আমরা সকলে বিভেদ  বৈষম্য বিদ্বেষ  ,হিংসা
ও আমিত্বকে ভুলে গিয়ে একত্রিত হই এবং
হায়াতুন্নবীর আইনুল ইমানের মিরাজী জ্ঞানে
গুনান্বিত হতে সচেষ্ট হই।
আল্লাহ্ আমাদের তৌফিক দান করুন এবং
জগতের মানুষকে ভ্রান্ত কাল্পনিক চেতনা ও অন্ধকারপূর্ণ
দাসত্ব থেকে মুক্তি করে বেলায়তি চৈতন্য 
দান করুন

(আমীন)

আলোচকঃ 
মুফতী মওলানা মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন চাঁদপুরী (মাঃজিঃআঃ) আল রাহে ভান্ডারী 




Facebook.com/shahab2info
Twitter.com/shahab2info

E-mail: shahab2info@gmail.com           

No comments:

URS-E AKBAR - CHATTOGRAM DARBAR SHARIF - SUFISM - ...

Sufism - Global Sufi Media: URS-E AKBAR - CHATTOGRAM DARBAR SHARIF - SUFISM - ... : সৃষ্টি জগতের মহান ত্রাণকর্তা মওলা নবী - হযরত আহমদ মোজতবা...