Skip to main content

২৯ আগষ্ট - নবী দিবস | 29 AUGUST - PROPHET’S DAY | ইয়াউমুন্নবী ( ﷺ )

সকল দিবসের সেরা দিবস

২৯ আগষ্ট নবী দিবস | PROPHET’S DAY | ইয়াউমুন্নবী ( ﷺ )
বছর, মাস ও দিনের সময় নির্ধারণের সকল প্রক্রিয়া চন্দ্র ও সূর্যের আবর্তন কেন্দ্রীক- এ তত্ত্বটি ঐতিহাসিক সত্য। এ বিষয়ে আল কোরআনে এরশাদ হচ্ছে:
“তারা আপনার নিকট নতুন চাঁদ সম্পর্কে জানতে চায়, আপনি বলুন, এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ ও হজ্জের সময় জানার মাধ্যম” (সূরা বাক্বারা, আয়াত খন্ড ১৮৯)।
উক্ত আয়াতে কারিমা দ্বারা প্রমাণিত হয়, চাঁদ সৃষ্টির একটি বিশেস কারণ হলো সময় নির্ধারণ। অন্য আয়াতে কারিমায় সময় জানার ক্ষেত্রে সূর্যের অবদান উল্লেখ করতে গিয়ে এরশাদ হচ্ছে:
আমি (আল্লাহ্) রাত ও দিনকে দু’টি নিদর্শন করেছি। রাতের নিদর্শনকে নিষ্প্রভ করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে করেছি দেখার উপযোগী। যেন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পারো এবং বছরের সংখ্যা ও গণনা সম্পর্কে জানতে পারো। আমি প্রতিটি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করি (সূরা বনী ইসরাইল আয়াত- ১২)।
কিন্তু কালের চক্রে প্রক্রিয়াদ্বয়ে সঠিক সময় নির্ধারণে মতানৈক্যের কোন শেষ নেই। তাই নির্ভরযোগ্য মতামতের আলোকে নিম্নে সৌর বর্ষের হিসাবে নবী দিবস উদ্যাপনের তাত্ত্বিক বিশ্লেষনের প্রয়াস পাচ্ছি।
স্কটল্যান্ডে ১০ হাজার বছরের পুরোনো ল্যুনার (চন্দ্র) ক্যালেন্ডার আবিষ্কারের সংবাদ বিবিসি ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই প্রচার করলে ব্রিমিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিন্স গ্যাফনি বলেন, পূর্বে আবিষ্কৃত ক্যালেন্ডার হতে এটি প্রায় ৫ হাজার বছরেরও অধিক পুরোনো। সৌর বার্ষিক ক্যালেন্ডারের মধ্যে গ্রীক, রোমান ও জুলিয়ান হয়ে ১৫৮২ সাল হতে বর্তমানে ব্যবহৃত আধুনিক পঞ্জিকার নাম গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার।নবী মোহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মোজতবা(দ.)’র আগমন কালে প্রচলিত ক্যালেন্ডার ছিল জুলিয়ান।
এখানে উল্লেখিত আলে-ইমরানের ৮১-৮২ নং আয়াতের আলোকে, রোজ-এ আজল্ অর্থাৎ যেদিন স্বয়ং আল্লাহ্ সকল নবীগণ (আ.) হতে মোহাম্মদ (দ.)’র আগমনের প্রতি বিশ্বাস ও সহযোগীতার অঙ্গীকার নিলেন সে সম্মেলনই ছিল সৃষ্টি জগতে মোহাম্মদ (দ.)’র আগমন উপলক্ষ্যে উদ্যাপিত সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিক দিন। ঐ আগমনী সংবাদ শুনিয়েছেন স্বয়ং স্রষ্টা আর শ্রোতা ছিলেন সকল নবীগণ (আ.)। কিয়াম অর্থাৎ দাঁড়ানো অবস্থায় সেদিন অংশ গ্রহণ করেছিলেন নবীগণ (আঃ) কেননা আদবের মোকাম আল্লাহর দরবারে বসার নিয়ম নেই।
প্রিয় নবী নবী মোহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মোজতবা (দ.)পৃথিবীতে আগমনের তাৎপর্যে আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা এরশাদ করেন:
অর্থাৎ আমি আপনার স্মরণকে আপনারই জন্য সমুন্নত করেছি।
আল্লাহ্ আরও ইরশাদ করেন:
অর্থাৎ (হে নবী) আপনি বলুন, আল্লাহরই অনুগ্রহ, তারই দয়ার কারণে তাদের আনন্দ প্রকাশ করা কর্তব্য। তা তারা যা সঞ্চয় করে তা অপেক্ষা উত্তম। সূরা ইউনুসের এ ৫৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় অধিকাংশ তফসীরকারকগণ আয়াতে উদৃত ফাদল ও রহমত শব্দদ্বয় দ্বারা নবী নবী মোহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মোজতবা (দ.)’র পবিত্র সত্ত্বা তথা অজুদে মোকদ্দেছকে বুঝিয়েছেন। তার সাথে প্রেমময় সম্পর্কের গুরুত্ব প্রকাশ করে আল্লাহ্ বলেন:
হে মাহবুব! আপনি বলে দিন, ‘হে মানবজাতী, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তবে আমার অনুসারী হয়ে যাও, ফলতঃ আল্লাহ্ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুণাহ্ ক্ষমা করবেন’ (সূরা আলে ইমরান-৩১)।
অনুরূপভাবে, হাদিস শরীফে এরশাদ হয়েছে:
হযরত আনান ইবনে মালেন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তোমাদের কেউ পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট স্বীয় পিতা, আপন সন্তান ও সকল মানুষের চেয়ে প্রিয় হব (সহীহ বোখারী)।
প্রকৃত মো’মেনগণ আল্লাহ্ ও রাসুল (দ.)’র সাথে সম্পৃক্ত হন বাসনা শূণ্য প্রেমময় সম্পর্কে। এ অবস্থাকে বলা হয়, রাজিয়াতুম্ মর্জিয়াহ।
অপর দিকে নবী (দ.) পৃথিবীতে শুভাগমন সম্পর্কে হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (দ.) সোমবারে আবির্ভূত হন, সোমবারে তাঁর নিকট নব্যুয়ত প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল, সোমবারে মক্কা থেকে মদিনার দিকে মুহাজির বেশে বের হয়েছিলেন, সোমবারে মদিনায় পৌছেন, সোমবারে তাঁর তিরোধান ঘটেছিল, সোমবারে হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন করেছিলেন (মসনদে আহমদ ইবনে হাম্বল)। এরূপ আরও অনেক হাদিসের ভিত্তিতে হাদিস বিশারদগণ এক মত যে, রাসুল (দ.) সোমবার ধরাধামে আগমন করেন।
ইসলাম পূর্ব আরবাঞ্চলে চাঁদের আপেক্ষিকতায় দিন গণনা করা হতো। আল বেরুনী ও আল মাসৌদীর গবেষণায় জানা যায়, তখনও মক্কা অধ্যুষিত অঞ্চলে বর্তমান ইসলামী মাসের অনুরূপ নাম এবং যুদ্ধের প্রশ্নে হালাল ও হারাম এ দুই প্রকারভেদ ছিল কিন্তু ভিন্ন মত পোষণকারী তৎকালীন তিহামা, হিজাজ ও নজদের বাসিন্দারা প্রায় প্রতি বছর তাদের সুবিধা মত এ সমস্ত মাসকে আগে পরে সাজিয়ে নিতো। পরবর্তীতে প্রমাণিত, সৌর প্রভাব নির্ভর পৃথিবীর ঋতুচক্রে চান্দ্রবার্ষিক প্রায় ১১ দিনের পার্থক্যের কারণে হজ্জ্ব ও ব্যবসা মৌসুম সুবিন্যাস করতে ক্ষেত্র বিশেষে তৃতীয় বৎসরে একটি অনির্ধারিত মাস অনুপ্রবেশ করাতেন। যা কোন বছর করা হয়েছে বা হয়নি তা নির্ধারণ করা ইসলাম পরবর্তী যুগে অসম্ভব হয়ে যায়। তখন ধর্তব্য বছরের উল্লেখযোগ্য কোন ঘটনার ভিত্তিতে বছরটির নামকরণ করে হিসাব রাখা হত। যেমন হস্তি সন।
মুসলিম সমাজের স্বতন্ত্র দিনপঞ্জিকা নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দেয় দ্বিতীয় খলিফা ওমরের (রা.) শাসনামলে। ৬৩৮ ইংরেজী নানাবিধ প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও মক্কা হতে মদিনায় হিজরতের ঘটনাকে স্মরণীয় করতে নবী (দ.)’র তিরোধানের সাত বছর পর ১৭ হিজরীতে এ হিজরী সালের সূচনা হয় যাতে পূর্ববর্তী ১৭ বছরও হিসাবভূক্ত রয়েছে।
চান্দ্রবার্ষিক এ হিজরী সনের গণনার প্রথম দিনটি সাহাবী হযরত ওসমান বিন আফ্ফানের (রঃ) প্রস্তাবনায় নির্ধারিত হয় পহেলা মুর্হরম। ফলত; মুহরম ০১, হিজরী ০১ তারিখটি ছিল শুক্রবার জুলাই ১৬, ৬২২ ইংরেজী।
  • তিরোধানের ১২০-১৩০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে নবী (দ.)র পূর্ণাঙ্গ জীবনী সংগ্রহের প্রথম উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ইবনে ইসহাকের (জন্ম: ৮৫ হিঃ মদীনা- মৃত্যু: ১৫১ হিঃ বাগদাদ) সাথে বিজ্ঞ সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিকের (রা.) যোগাযোগ ছিল বলে তাকে তাবেয়ীগণের অন্তর্ভূক্ত বলা হয়। পরবর্তীতে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে জীবনী লেখক ইবনে হিসাম ও আবু জারীর আল্ তাবায়ী রাসুল (দ.)’র এ ধরায় আবির্ভাব ও তিরোধান দিবসের বিষয়ে এক মত পোষণ করে দিনটি ১২ই রবিউল আউয়াল বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, সমকালীন অভিজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের প্রত্যক্ষ সাক্ষাতের প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদ ইবনে ইসহাকের সীরাত-এ রাসুল (দ.) রচিত হয়। ঐতিহাসিক মতে ইয়েমেনের শাসক আব্রাহা হাতি সহ সুসজ্জিত সৈন্য দিয়ে ক্বাবা ধ্বংস করতে আসা এবং ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা পাখির (আবাবিল) প্রতিরোধে ব্যর্থ ও নিহত হওয়ার ঘটনা, যা কোরআনও সাক্ষ্য দেয়া (সূরা ফীল) তার ভিত্তিতে ঐ বছরের নাম রাখা হয় হস্তি সন। মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ গবেষকের মতে, হস্তি সালেন উক্ত ঘটনার ৫৫ দিন পর মা আমেনার ঘটে ভুমিষ্ঠ হন নবী (দ.)।
পরবর্তী লেখকগণের মধ্যে মত পার্থক্য থাকলেও মূলত প্রাথমিক যুগের মৌলিক জীবনী লেখকগণ এক মত যে, বছরটি হস্তি সাল ও দিনটি রবিউল আউয়াল চান্দ্রমাসের ১২ তম দিন ছিল। তারিখটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্য হলেও আহলে হাদীসগণ দিনটি ৯ রবিউল আউয়াল এবং শিয়াগণ ১৭ রবিউল আউয়াল মনে করেন।
লক্ষ্যণীয় হল, মোহাম্মদ (সঃ)’র জন্ম দিন উপলক্ষ্যে সোমবার রোজা পালনের যে ধারা স্বয়ং নবী (দ.) ও তার সাহাবীগণ (রা.) সূচনা করেছিলেন তা হিজরী চতুর্থ শতকে মুসলিম মিশরাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের পরিবর্ধিত রূপ নেয়। সপ্তম শতকে ইরাকের ইরবিল প্রদেশের শাসক আবু সাঈদ কোকোবূরীর উদ্যোগে তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আন্তর্জাতিক পবিত্র উৎসবের মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
এ কথা স্বীকার্য যে, রাসুল (দ.)র আবির্ভাবের ঐ দিনটি কোনভাবেই এখন সুনির্দিষ্ট প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ণয় করা সম্ভব হয়। কতেকের মতে সনটি ৫৭১ইং বা দিনটি ২০ এপ্রিল হলেও অগ্রজ জীবনী লেখকগণের মতামতের আলোকে ১২ই রবিউল আউয়াল মোতাবেক অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও জ্যোতির্বিদ একমত হয়েছেন যে, গ্রেগারিয়ানের হিসাবে এ তারিখটি হবে আগষ্ট ২৯, ৫৭০ ইংরেজী।
আধুনিক যুগের যে সকল সর্বজন শ্রদ্ধেয় লেখক-গবেষকগণ নবী (দ.)র আবির্ভাব দিবসটি স্বীয় গ্রন্থে আগষ্ট ২৯, ৫৭০ ইংরেজী বলে উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত ইসলামিক অনলবর্ষী বক্তা প্রয়াত আহমদ দীদাতের গ্রন্থ “মোহাম্মদ দ্যা ন্যাচারাল সাকসেসর অব ক্রিষ্ট” এবং স্যার ছৈয়দ আমির আলীর দ্যা স্প্রিট অব ইসলাম” বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
‘নবী দিবস উদ্যাপন পরিষদ ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম হতে প্রকাশ-প্রচারিত এক লিফলেটে জানায়, রাহে ভান্ডার সিলসিলার বর্তমান সাজ্জাদানশীন আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক (মা.) আগষ্ট ২৯, ২০১৩ তারিখে বিশ্বে প্রথম বারের মত নানাবিধ আন্তর্জাতিক দিবসের ন্যায় রাসুল (দ.)র সৌর বার্ষিকী আবির্ভাব দিবস পালনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। অবিচ্ছেদ্য রূপে মিলাদ অর্থাৎ জন্ম শব্দ সমেত আরবী, বাংলা ও উর্দূতে দেশ-বিদেশ হতে বহু নাম উত্থাপিত হলেও তিনি মূল আরবী রূপ ইয়্যাউমুন্ নবী এর আলোকে স্বীয় মাতৃভাষায় নাম প্রস্তাব করেন নবী দিবন। তিনি বলেন, কোরআনে নবী (দ.)র দুনিয়ায় আবির্ভাব হওয়ার বিষয়টিকে আরসালাঃ বা আছা যা আ” অর্থাৎ যথাক্রমে তিনি (আল্লাহ্) প্রেরণ করেছেন, তিনি (আল্লাহ্) পাঠিয়েছেন ও তিনি {মোহাম্মদ (দ.)} আগমন করেছেন”, এরূপ শব্দ দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি আজ কেবল মাত্র বাংলাদেশে হলেও যে কোন দেশের- ভাষার মানুষ এর নাম অনুবাদ করে সে মতে উদ্যাপন করতে পারবেন।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তারা (উপস্থিত সাহাবাগণ) আরজ করলেন, আপনার জন্য কখন নবুয়্যত অবধারিত হয়েছিল? তিনি এরশাদ করলেন,ঐ সময় আদমের অবস্থান ছিল রুহ এবং শরীরে (সুনানে তিরমিজী)। এ হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সৃষ্টিপূর্ব কাল, দুনিয়া ও আখেরাতের জগতে জন্ম-মৃত্যুর আওতাভূক্ত মনে হলেও হায়াতুন্ নবী বা সর্বকালীন নবী রূপে তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ্। আল্লাহ্ তার প্রিয় হাবিব (সঃ)-কে তুলনা করেছেন ছিরাজুম্ মুনির (আলোকবর্তিকা) বা নক্ষত্র বা সূর্যের সাথে কিন্তু ক্বামরুন্ বা চাঁদের সাথে নয় যা আমাদের অবস্থানের আপেক্ষিকতার সাপেক্ষে কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে এবং সূর্যের আলোয় দৃষ্টিগোচর হয়। তাই নবী (সঃ)-কে উপলক্ষ্য করে যদি কোন বিশেষ অনুষ্ঠান বা দিবস পালন করতে হয় সেক্ষেত্রে চন্দ্রের তুলনায় সৌর বার্ষিক হিসাবই বেশী যৌক্তিক। তবে তিনি সকলের সাথে ১২ই রবিউল আউয়ালও পালন করেন। এভাবে বাংলা নাম নবী দিবন ও অনুমোদিত নাম যথাক্রমে আরবীতে ইয়াউমুন্নবী, উর্দূতে নবী ক্যা দিন এবং ইংরেজীতে PROPHET’S DAY সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হলে পালিত হয় প্রথম বারের মত “নবী দিবস”।
পিউ রিসার্চ সেন্টার ফর রিলিজিয়ন এন্ড পাবলিক লাইফ প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৮, ২০১২ তারিখের রিপোর্ট মোতাবেক বিশ্বের এক চতুর্থাংশ মানুষ মুসলিম হলেও বস্তুত নবী (দ.) হলেন সকল জাতির প্রতি রহমত। বিশ্বে অঞ্চল ভেদে এক বছরে ৩৬৫, ২৬০ বা ২১০ দিন এবং ৫ থেকে ১৩ দিনে সপ্তাহ ধরে হিজরী, বাংলা, আরমেনিয়ান, বুলগার, হিব্রু, চীনা, জাপানী, ইথিওপিয়ান, ফার্সী ও এ্যাজটেকস সহ বহু ক্যালেন্ডার রয়েছে। এর বেশিরভাগই কোন না কোন সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে ছাড়া দেখা যায় না। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে, দক্ষিণ এশিয়া, দূর প্রাচ্য বা আফ্রিকা সহ সকল দেশেই অত্র গ্রেগরীয়ান বা ইংরেজী ক্যালেন্ডার একই ধারায় প্রচলিত রয়েছে। ফলে ২৯ আগষ্ট সকলে সহজেই একত্রে পালনে সক্ষম হবে। তাই এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তির ক্রম অগ্রসরমান ধারায় গ্লোবাল ভিলেজে রূপ দিতে যাওয়া ভবিষ্যত প্রজন্মের বিকাশোন্মুখ সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিতে বিবেচনায় বিশ্বব্যাপী আর্থিক, সামাজিক ও শিক্ষা খাতে সার্বজনীনভাবে গৃহীত সৌর বার্ষিক দিন পঞ্জিকা হল ‘গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার’। তাই এ ক্যালেন্ডার মোতাবেক জগত সমূহের প্রতি সার্বজনীন রহমত স্বরূপ মহান ষ্টার প্রেরিত নবী (দ.)’র “আবির্ভাব দিবস” পালনের আহ্বানটি অচিরেই ব্যাপকতা লাভ করবে।
এতে আপনাদের সকলে অংশগ্রহণ আন্তরিকভাবে কাম্য।

নবী দিবসের উদ্যোক্তা, রাহে ভান্ডার সিলসিলার পীর ছাহেব, আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মা.)’র পক্ষে
ছৈয়দ মশিউর রহমান রাহাত, খাদেমুল ফোক্বরা, রাহে ভান্ডার।

Join us on:- Facebook Page! And Twitter! - Prophet's Day !!! 

Comments

Popular posts from this blog

শাসকের ক্ষমতা বনাম সাধকের শক্তি | আনুশেহ আনাদিল | সুফিবাদ

কারবালার পর ক্ষমতা যখন ধর্মের ওপর দখল নিল, ইসলাম কিন্তু হারিয়ে যায়নি। রাজদরবার ছেড়ে চলে গিয়েছিল খলিফাদের প্রাসাদ, শাসকের গৌরব বাড়ানোর জন্য নির্মিত মার্বেলের মসজিদ, ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়া পোষা আলেমদের জগৎ থেকে দূরে। ইসলাম টিকে ছিল নীরবে– মরুভূমি পেরিয়ে, নদীর তীরে, বন-গ্রামে, সাধারণ মানুষের জীবনের ভেতরে। সাম্রাজ্য হিসেবে নয়, উপস্থিতি হিসেবে। কারবালা ছিল সভ্যতাগত ভাঙন। যখন ইয়াজিদ জুলুমের প্রতি আনুগত্য দাবি করল আর ইমাম হুসাইন (রা.) তা প্রত্যাখ্যান করলেন, তখন ইসলাম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছিল। ইমাম হুসাইনের (রা.) শাহাদাত শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়। এ ছিল সেই মুহূর্ত, যখন বিবেককে ক্ষমতার নামে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছিল। বাংলায় ইসলাম এসেছিল আউলিয়াদের মাধ্যমে। লোকজ ও আত্মিক স্মৃতিতে আছে, শতাব্দী ধরে প্রায় ৩৬০ জন আউলিয়া বাংলায় প্রবেশ করেছিলেন– সাধক, দরবেশ, চিকিৎসক, পথপ্রদর্শক। তারা ইসলামের বাণী বহন করেছিলেন শুধু আইনের আকারে নয়; জীবিত নৈতিকতা হিসেবে। তারা এ দেশের ভাষায় কথা বলেছেন। কৃষক, জেলে, তাঁতি আর দরিদ্র মানুষের পাশে বসেছেন। স্থানীয় সংস্কৃতি মুছে দেননি; রূপান্তরিত করেছেন। এই সুফিরা ভয...

HOLY URS-E HAYATI (URS MUBARAK) (RAHE VANDER SILSILA)

"মহান ওরছে হায়াতী | 07 কার্তিক ১৪৩২ ( বাংলা) | 23 অক্টোবর২০২৫" "HOLY URS-E HAYATI | 07 KARTIK 1432 ( Bangla Calendar ) | 23 OCTOBER 2025" The 64th Annual Holy URS-E HAYATI of Hazrat Shah Sufi Moulana SYED MOHAMMAD ABDUL MALEK SHAH (Q.S.A.)(1916-1980), will be observed at CHATTOGRAM DARBAR SHARIF in Chattogram, Bangladesh. RaheVander Silsila's GRAND SHAYKH Allama SUFI SYED JAFAR SADEK SHAH ( M. ) Al- Rahe Vanderi invited all of you to attend and achieve blessings on this holy occasion. Venue: CHATTOGRAM DARBAR SHARIF, CHITTAGONG, BANGLADESH. Date: October 23, 2025 (Kartik 7, 1432 Bangla Calendar) #UrsMubarak #UrsSharif #URSeHAYATI (খোশরোজ মোবারক) #RaheVander #রাহেভান্ডার #RaheBhander #Maizbhandar #ChattogramDarbarSharif #Chattogram #Chittagong #Bangladesh #Sufism #Islam Website: RaheVander .org ©️ Chattogram Darbar Sharif.

Three In One: প্রভু

Three In One: প্রভু :         -  নার্গিস আলমগীর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি অপূর্ব তোমার সৃষ্টি যত দেখি জুরায়না আঁখি শুভ্র তুষারেরা বর্ষে যাচ্ছে। তোমার সূ...